Facebook Pixel

সব কোকিল হয় পাখি। কোনো কাক নয় কোকিল। অতএব, কোনো কাক নয় পাখি। ক. সহানুমান কী? খ. অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে বেশি ব্যাপক হয় না কেন? গ. উদ্দীপকে সহানুমানের নিয়ম লঙ্ঘনজনিত কোন অনুপপত্তি ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে প্রকাশিত 'কোকিল', 'পাখি' ও 'কাক' পদসমূহের আন্তঃসম্পর্ক পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ অবরোহ অনুমান

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) যে মাধ্যম অবরোহ অনুমানে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুটি আশ্রয়বাক্যের ভিত্তিতে অনিবার্যভাবে কোনো সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়, তাকে সহানুমান বলে। (খ) প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের কারণেই অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে বেশি ব্যাপক হয় না। অবরোহ অনুমানের প্রকৃতি এমন যে এটি অনেকটা সার্বিক থেকে বিশেষে গমনের প্রক্রিয়া। সার্বিক হলো বেশি ব্যাপক এবং বিশেষ হলো কম ব্যাপক। তাই অনেক ক্ষেত্রেই অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে কম ব্যাপক হয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি আশ্রয়বাক্যের সাথে সমব্যাপক হতে পারে। কিন্তু কোনোভাবেই এর সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে বেশি ব্যাপক হতে পারে না। অর্থাৎ আকারগত সত্যতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে বেশি ব্যাপক হয় না। (গ) উদ্দীপকের সহানুমানের নিয়ম লঙ্ঘনজনিত কারণে অবৈধ প্রধান পদ জনিত অনুপপত্তি ঘটেছে। উদ্দীপকে বর্ণিত যুক্তিটি হলো: "সব কোকিল হয় পাখি। কোনো কাক নয় কোকিল। অতএব, কোনো কাক নয় পাখি।" এই যুক্তিটি অবৈধ। কারণ উপর্যুক্ত যুক্তিতে অবৈধ প্রধান পদজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে। সহানুমানের নিয়ম অনুযায়ী, আশ্রয়বাক্যের কোনো অব্যাপ্য পদ সিদ্ধান্তে এসে ব্যাপ্য হতে পারবে না। কিন্তু আলোচ্য যুক্তিতে এই নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। এখানে প্রধান পদ "পাখি" প্রধান আশ্রয়বাক্যের (A-বাক্য) বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় অব্যাপ্য হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত (E-বাক্য) এর বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ব্যাপ্য হয়েছে, যা সহানুমানের নিয়ম বিরোধী। এজন্য যুক্তিতে অবৈধ প্রধান পদজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে। (ঘ) উদ্দীপকে প্রকাশিত "কোকিল", "পাখি" ও "কাক" পদগুলো হচ্ছে যথাক্রমে মধ্যপদ, প্রধান পদ এবং অপ্রধান পদ। পাঠ্যপুস্তকের আলোকে এ পদগুলোর আন্তঃসম্পর্ক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সহানুমানের একটি যুক্তিতে মোট তিনটি পদ থাকে: প্রধান পদ, অপ্রধান পদ ও মধ্যপদ। সিদ্ধান্তের বিধেয় হলো প্রধান পদ, সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হলো অপ্রধান পদ, আর যে পদটি সিদ্ধান্তে থাকে না কিন্তু উভয় আশ্রয়বাক্যেই বিদ্যমান থাকে সেটি মধ্যপদ। উদ্দীপকে বর্ণিত যুক্তিতে "পাখি" হলো প্রধান পদ, "কাক" হলো অপ্রধান পদ এবং "কোকিল" হলো মধ্যপদ। আশ্রয়বাক্যে কাক ও পাখির মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল না, কিন্তু উভয় আশ্রয়বাক্যে বিদ্যমান "কোকিল" মধ্যপদটি প্রথম আশ্রয়বাক্যের "পাখি" পদের সাথে এবং দ্বিতীয় আশ্রয়বাক্যের "কাক" পদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে। কোকিল পদটির এরূপ মধ্যস্থতায় কাক এবং পাখির মধ্যে একটি সম্পর্ক সিদ্ধান্তে এসে প্রকাশিত হয়। আলোচনা শেষে বলা যায়, উল্লিখিত যুক্তিটি সহানুমানের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে কাক, কোকিল ও পাখি পদসমূহের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত করে, যার মাধ্যমে আশ্রয়বাক্য থেকে একটি অনিবার্য সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সব কোকিল হয় পাখি। কোনো কাক নয় কোকিল। অতএব, কোনো কাক নয় পাখি। ক. সহানুমান কী? খ. অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে বেশি ব্যাপক হয় না কেন? গ. উদ্দীপকে সহানুমানের নিয়ম লঙ্ঘনজনিত কোন অনুপপত্তি ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে প্রকাশিত 'কোকিল', 'পাখি' ও 'কাক' পদসমূহের আন্তঃসম্পর্ক পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।