Facebook Pixel

স্পার্টা ও এথেন্স এর নেতৃত্বে তার বন্ধুরাষ্ট্রগুলো জোট গঠন করে প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার সর্বাত্মক যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। স্পার্টা যুদ্ধে জয়ী হয়ে এথেন্স এর উপর মাত্রাতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ চাপিয়ে দেয় এবং তার শক্তিকে সংকুচিত করার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর ফলে এথেন্সের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় এথেন্সে একজন জাতীয়তাবাদী নেতার উত্থান ঘটে। তিনি এ নাজুক পরিস্থিতির সুযোগ গ্রহণ করে এথেন্সের ক্ষমতা গ্রহণ করেন। সংঘাতপূর্ণ পন্থায় এথেন্সের অধিকার আদায় করতে গিয়ে তিনি ভয়াবহ যুদ্ধের পটভুমি সৃষ্টি করেন। ক. মুসোলিনী কোন দেশের নেতা ছিলেন? খ. অক্ষশক্তি সম্পর্কে কী জান? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে কোন নেতার উত্থানের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত নেতার উগ্রবাদী কর্মপন্থা কী বিশ্বকে ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিল? আলোচনা কর।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ হিটলার ও মুসোলিনির উত্থান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ইতালি। খ. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির বিরুদ্ধে যে জোট গড়ে ওঠে তাকে বলা হয় অক্ষশক্তি। অক্ষশক্তির প্রধান তিনটি রাষ্ট্র হল জার্মানি, ইতালি ও জাপান। এই তিনটি রাষ্ট্র ১৯৪০ সালে সেপ্টেম্বর মাসে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে একটি সামরিক জোট গড়ে তোলে। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অক্ষশক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে হিটলারের উত্থানের মিল পাওয়া যায়। এডলফ হিটলার (১৮৮৯-১৯৪৫) অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত জার্মান রাজনীতিবিদ যিনি ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট জার্মান ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। হিটলার ১৯৩৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির চ্যান্সেলর এবং ১৯৩৪ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত সে দেশের ফুয়েরার ছিলেন। হিটলার প্রথম বিশ্বযুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে ভাইমার প্রজাতন্ত্রে নাৎসি পার্টির নেতৃত্ব লাভ করেন। অভ্যুত্থান করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন যে কারণে তাকে জেল খাটতে হয়েছিল। জেল থেকে ছাড়া পেয়ে মোহনীয় বক্তৃতার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদ,ইহুদীবিদ্বেষ ও সমাজতন্ত্র বিরোধিতা ছড়াতে থাকেন। এভাবেই এক সময় জনপ্রিয় নেতায় পরিণত হন। নাৎসিরা অনেককেই হত্যা করেছিল, রাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ঢেলে সাজিয়েছিল, সামরিক বাহিনীকে নতুন নতুন সব অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করেছিল। সর্বোপরি একটি সমগ্রতাবাদী ও ফ্যাসিবাদী একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিল। নাৎসী বাহিনীর মূলমন্ত্র ছিল এক জাতি,এক দেশ,একজন শাসক। ১৯৩৯ সালে জার্মানরা পোল্যান্ড অধিকার করে। ফলশ্রুতিতে ব্রিটেন ও ফ্রান্স জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। ঘ. হ্যাঁ, উক্ত নেতার উগ্রবাদী কর্মপন্থা বিশ্বকে ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর প্যারিস শান্তি সম্মেলন প্রকৃত অর্থে ইউরোপে শান্তি আনতে পারেনি। জার্মানির জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া ভার্সাই চুক্তির অপমানজনক শর্তগুলোকে সামনে রেখে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকে তারা। ইতিহাস জয়ীর পক্ষে, পরাজিত শক্তির ক্ষেত্রে সবকিছু হয় নেতিবাচক এ কথাটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম মহাসত্য। বিশেষ করে প্রচলিত ইতিহাসে জার্মান নেতা হিটলার ও জার্মানির ভূমিকা কে এভাবেই দেখা যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে অনেকগুলো চুক্তির পাশাপাশি এমন কয়েকটি শর্ত তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হয় যা জার্মানির ভবিষ্যৎ ভাগ্যলিপিতে কালিমা লেপন করে । একের পর এক সরকার পরিবর্তন হলেও জার্মানির মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। এ সময় সরকারের বিভিন্ন দুর্বলতা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে আপোষকামী সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করে হিটলারের নেতৃত্বাধীন নাৎসি বাহিনী। নাৎসি নেতারা জার্মানির মানুষকে বুঝিয়ে বৈপ্লবিক অবস্থানে নিয়ে যায়। হিটলার উগ্রকামী শাসক ছিলেন। সে তার বাচনগুনে সবার কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করে। জনগণকে বোঝানো হয় যুদ্ধই জীবন। নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতায় আসে হিটলারের নাৎসি পার্টি। গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় এলেও‌ অল্প দিনের মধ্যে পুরোপুরি স্বৈরতান্ত্রিক কাঠামোয় জার্মানির শাসনব্যবস্থা ঢেলে সাজান। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্ষতিই জার্মানি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তার উপর ১৯৩৯ সালে পোল্যান্ড আক্রমণের মধ্য দিয়ে হিটলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করেন। যার মাশুল গুনতে হয়েছে পুরো ইউরোপকে। এর ভয়াবহতায় সাক্ষী হয়ে আজও আছে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহর।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

স্পার্টা ও এথেন্স এর নেতৃত্বে তার বন্ধুরাষ্ট্রগুলো জোট গঠন করে প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার সর্বাত্মক যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। স্পার্টা যুদ্ধে জয়ী হয়ে এথেন্স এর উপর মাত্রাতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ চাপিয়ে দেয় এবং তার শক্তিকে সংকুচিত করার সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর ফলে এথেন্সের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জীবন বিপর্যন্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় এথেন্সে একজন জাতীয়তাবাদী নেতার উত্থান ঘটে। তিনি এ নাজুক পরিস্থিতির সুযোগ গ্রহণ করে এথেন্সের ক্ষমতা গ্রহণ করেন। সংঘাতপূর্ণ পন্থায় এথেন্সের অধিকার আদায় করতে গিয়ে তিনি ভয়াবহ যুদ্ধের পটভুমি সৃষ্টি করেন।

ক.

মুসোলিনী কোন দেশের নেতা ছিলেন?

খ.

অক্ষশক্তি সম্পর্কে কী জান?

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে কোন নেতার উত্থানের মিল পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উক্ত নেতার উগ্রবাদী কর্মপন্থা কী বিশ্বকে ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিল? আলোচনা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Mein Kampf এর রচয়িতা কে?

Mein Kampf কোন ধরনের গ্রন্থ?

Mein-Kampf হলো- i. হিটলারের আত্মজীবনী ii. নাৎসিবাদের বাইবেলম্বরূপ iii. ফ্যাসিবাদের দলিল Q. নিচের কোনটি সঠিক?

'X' চরম স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে কুখ্যাত ছিলেন। সামান্য সৈনিক হিসেবে জীবন শুরু করে একদা একটি রাষ্ট্রের সর্বেসর্বা হয়ে উঠেন...

X নামক এক ব্যক্তি সৈনিক থেকে ধীরে ধীরে একটি দেশের জনপ্রিয় নেতা হলে উঠেন এবং পাশাপাশি তার আদর্শ ছড়িয়ে দিতে থাকেন সম্মোহনী...

"X" নামক ব্যক্তি পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের দেশে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষকতা পেশা নিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করলেও শিক্ষকতার ...

ক. হিটলার আত্মহত্যা করেন কবে? খ. উগ্র জাতীয়তাবাদ বলতে কী বুঝ? গ. উদ্দীপকের ছকে প্রশ্নবোধক (?) চিহ্নিত স্থানটি তোমার পাঠ্...

'Fascio' শব্দের অর্থ কী?

Mein Kampf এর রচয়িতা কে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র → ৬ আগস্ট ১৯৪৫ ⇒ ০৯ আগস্ট ১৯৪৫। ক. NATO এর পূর্ণরূপ কী ? খ. ফ্যাসিবাদ (Fascism) বলতে কী ব...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।