Facebook Pixel

সাধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব আল-আমীনের মৃত্যুর পর ইউনিয়নবাসী জনাব আসলামকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তিনি অনেক সমস্যা ও বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হন। এ সময় কিছু ভন্ডপির ও ইউনিয়নের কর দিতে অস্বীকারকারীরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটান। কিন্তু চেয়ারম্যান আসলাম সাহেব অসীম সাহস ও অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। বিশ্বস্ততার জন্য তাকে বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ক. জিজিয়া কী? খ. দুমাতুল জন্দলের মীমাংসা কী? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত আসলাম সাহেবের সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন খলিফার সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উক্ত খলিফাকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা যায় কি? মতামত দাও।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ খুলাফায়ে রাশেদিন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. জিজিয়া হলো ইসলামি রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিম নাগরিকদের জান-মালের নিরাপত্তা প্রদান এবং সামরিক বাহিনীতে যোগদানের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতির বিনিময়ে রাষ্ট্রকে প্রদত্ত এক প্রকার নিরাপত্তা কর। খ. ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলি (রা) এর সাথে উমাইয়া খলিফা মুয়াবিয়ার সংঘর্ষের পরিসমাপ্তির জন্য যে সালিশির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সেটাই দুমার মীমাংসা নামে পরিচিতি। সিফফিনের যুদ্ধের একপর্যায়ে হযরত আলি (রা) এবং মুয়াবিয়া মধ্যস্থতাকারী নিযুক্ত করে নিজেদের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত নেন। বিরোধ মীমাংসার জন্য আলি (রা) তার পক্ষে মুসা আল আশারিকে এবং মুয়াবিয়া আমর ইবন আল-আসকে প্রতিনিধি মনোনীত করেন। সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিনিধিরা প্রত্যেকে ৪০০ জন লোকসহ ৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সিরিয়া ও ইরাকের মধ্যবর্তী স্থান 'দুমাতুল জন্দলে' হাজির হন। তবে এ সালিশি বৈঠকে মুয়াবিয়ার প্রতিনিধি আমর ইবন আল-আসের ধূর্ততার জন্য হযরত আলি (রা) খলিফা পদ থেকে অপসারিত হন। ঐতিহাসিক এ ঘটনাই দুমার মীমাংসা নামে পরিচিত। গ. উদ্দীপকে উল্লেখিত আসলাম সাহেবের সাথে আমার পাঠ্যপুস্তকে বর্ণিত খলিফা হযরত আবু বকর (রা)-এর সাদৃশ্য আছে। হযরত মুহাম্মদ (স) এর ওফাতের (মৃত্যুবরণ) পর যে চারজন সাহাবি তাঁর প্রতিনিধিরূপে মুসলিম রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন তাদের মধ্যে আবু বকর (রা) একজন। তিনি ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য অত্যন্ত দক্ষতার সাথে এবং সুষ্ঠুভাবে রাজ্যের শাসনকার্যাদি পরিচালনা করেছেন। এ দক্ষ রাষ্ট্র পরিচালকের বৈশিষ্ট্যটিই আসলাম সাহেবের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। সাধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আল আমীনের মৃত্যুর পর ইউনিয়নবাসী আসলাম সাহেবকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেন। চেয়ারম্যান হয়ে তিনি অনেক সমস্যা ও বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হন। এ সময় কিছু ভণ্ডপির ও ইউনিয়নের কর অস্বীকারকারীরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটান। কিন্তু জনাব আসলাম অসীম সাহস ও অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। এছাড়া বিশ্বস্ততার জন্য তিনি বিশেষ উপাধিতে ভূষিত হন। হযরত আবু বকর (রা) এর ক্ষেত্রেও এমনটি লক্ষণীয়। তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হন। মহানবি (স) এর জীবনের শেষ দিকে আসওয়াদ আনসি এবং আবু বকর (রা)-এর ক্ষমতা গ্রহণের পর মুসায়লামা, তোলায়হা এবং সাজাহ নবুয়তের দাবি করে খিলাফতের সর্বত্র বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। হযরত আবু বকর বিচক্ষণতার সাথে বিশিষ্ট মুসলিম সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদের সহায়তায় এদেরকে কঠোর হাতে দমন করেন। এছাড়া মহানবি (স)-এর মেরাজের ঘটনা তিনিই প্রথম বিশ্বাস করে সিদ্দিক উপাধি লাভ করেন। এসব কারণে বলা যায়, আসলাম সাহেবের সাথে ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা)-এর সাদৃশ্য রয়েছে। ঘ. হ্যাঁ, ইসলামের সংকটকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষতা ও বিচক্ষণতার পরিচয় দেওয়ায় হযরত আবু বকর (রা)-কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা যায়। মহানবি (স)-এর মৃত্যুর পর তাঁর প্রতিনিধি হয়ে হযরত আবু বকর (রা) খিলাফত পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন মহানবি (স)-এর যোগ্য ও উপযুক্ত প্রতিনিধি। মহান আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশ অনুযায়ী ইসলামের একনিষ্ঠ সেবা করে তিনি ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে স্বীকৃতি পান। মহানবি (স)-এর ওফাতের পর মুসলমানদের মধ্যে যে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছিল তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তা দূর করে মুসলিম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করেন। রাসুল (স) এর পবিত্র দেহ সমাহিতকরণ ও খলিফা নির্বাচনকেন্দ্রিক সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান করে তিনি প্রাথমিক পর্যায়ে ইসলামকে রক্ষা করেন। ইসলামের সংকটকালীন পরিস্থিতিতে খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি নিয়ন্ত্রণহীন ও বিশৃঙ্খল মানুষকে সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় - অনুশাসন পালনে বাধ্য করেন। এভাবে তিনি ইসলামকে অনিশ্চয়তার হাত থেকে রক্ষা করেন। তাছাড়া যাকাত প্রদানে অস্বীকৃতি জ্ঞাপনকারী বেদুইন গোত্রগুলোর (আবস ও জুবিয়ান) বিরুদ্ধে তিনি উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে ইসলামি বিধান অনুযায়ী তাদের যাকাত প্রদানে বাধ্য করেন। তিনি দ্বীনকে (ইসলাম) সব আদর্শের ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠা করেন। ভণ্ডনবিদের সমুচিত শিক্ষা দিয়ে তিনি ইসলামের ভিত্তি সুপ্রতিষ্ঠিত করেন। আমির উল মুমেনীন (বিশ্বাসীদের নেতা) হিসেবে হযরত আবু বকর (রা) আরব ভূখণ্ড থেকে প্রবঞ্চনা, প্রতারণা, ভণ্ডামি এবং অনৈসলামিক কার্যকলাপের মূলোৎপাটন করে ইসলামকে নিরাপদ করেন। এছাড়া তিনি বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা পবিত্র কুরআনের বাণীগুলো সংগ্রহ করে পুস্তক আকারে লিখে রাখার ব্যবস্থা করেন। পরিশেষে বলা যায়, খিলাফত লাভের পর ইসলাম ধর্ম ও মুসলিম রাষ্ট্রের একনিষ্ঠ সেবা করে হযরত আবু বকর (রা) ইসলামি খেলাফতকে যেভাবে রক্ষা করেছেন, তাতে নিঃসন্দেহে তাকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা যায়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সাধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব আল-আমীনের মৃত্যুর পর ইউনিয়নবাসী জনাব আসলামকে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে তিনি অনেক সমস্যা ও বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হন। এ সময় কিছু ভন্ডপির ও ইউনিয়নের কর দিতে অস্বীকারকারীরা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটান। কিন্তু চেয়ারম্যান আসলাম সাহেব অসীম সাহস ও অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। বিশ্বস্ততার জন্য তাকে বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

ক.

জিজিয়া কী?

খ.

দুমাতুল জন্দলের মীমাংসা কী? ব্যাখ্যা করো।

গ.

উদ্দীপকে উল্লেখিত আসলাম সাহেবের সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন খলিফার সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

উক্ত খলিফাকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা যায় কি? মতামত দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Garden of Death' বলা হয় কাকে?

অটোমান সুলতান মহামতি সুলাইমান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর থেকে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এবং ...

অমুসলমানদের ভূমি কর কোনটি?

আফজাল মিয়া একটি সিরামিক ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধার। তার বিরুদ্ধে দুটি মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়। তিনি তার আপনজনদেরকে প্রতিষ্ঠানে...

আবু জার আল গিফারী (রা.) মুসলমানদের যে জীবনযাপনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে কঠোর প্রতিবাদ করেন-) i. সাদাসিধে জীবন ii. জাঁকজমকপূর্ণ ঐশ...

আবু বকর (রা.)-কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়- i. শিশু ইসলামি রাষ্ট্রকে রক্ষা ii. রিদ্দার যুদ্ধে জয় iii. মিরাজের ঘটনা বিশ্ব...

আবু বকর (রা.) কত খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন?

আবু বকর (রা.) কত হিজরিতে পারস্যে সামরিক অভিযান প্রেরণ করেন ?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।