Facebook Pixel

অটোমান সুলতান মহামতি সুলাইমান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর থেকে তিউনিসিয়া এবং ভিয়েনা থেকে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। দুর্নীতির দায়ে তার জামাতাকেও তিনি শাস্তি দিতে দ্বিধাবোধ করেননি। এমনকি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে তিনি নিজ পুত্রকে ফাঁসি দেন। তিনি অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিতেন । ক. কত খ্রিষ্টাব্দে উষ্ট্রের যুদ্ধ সংঘটিত হয় ? খ. ভণ্ড নবি কারা ? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের সাম্রাজ্য বিস্তারের মধ্যে খুলাফায়ে রাশেদিনের কোন খলিফার প্রতিফলন লক্ষণীয় ? ব্যাখ্যা করো । ঘ. উক্ত খলিফার ন্যায়বিচার উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো ।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ খুলাফায়ে রাশেদিন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দে উষ্ট্রের যুদ্ধ সংঘটিত হয় । খ. বিশ্বমানবতার উত্তম আদর্শ হযরত মুহাম্মদ ( স )- এর জীবনের শেষ পর্যায়ে এবং মৃত্যুর ( ৬৩২ খ্রি .) পর কিছু লোক হীনস্বার্থ উদ্ধারের জন্য নিজেদেরকে নবি হিসেবে দাবি করে। এরাই ভণ্ড নবি নামে পরিচিত। আসওয়াদ আনসি , মুসায়লামা , তোলায়হা এবং সাজাহ ছিল ভণ্ড নবিদের অন্যতম। এরা নিজেদের নবি হিসেবে ঘোষণা করে জনসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি এবং গোটা মুসলিম জাহানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল। রিদ্দার যুদ্ধে হযরত আবু বকর ( রা ) এদের কঠোরভাবে দমন করেন । গ. মহামতি সুলাইমানের সাম্রাজ্যের বিস্তারে খুলাফায়ে রাশেদিনের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ( রা )- এর কাজের প্রতিফলন লক্ষণীয়। মহানবি ( স ) আরবে যে ইসলামি সাধারণতন্ত্রের সূচনা করেছিলেন হযরত ওমর ( রা ) সেটিকে একটি বৃহৎ ও শক্তিশালী সাম্রাজ্যে রূপ দিয়েছিলেন। তিনি খিলাফতে অধিষ্ঠিত হয়ে হযরত আবু বকর ( রা )- এর বৈদেশিক নীতি অনুসরণ করেছিলেন । তিনি প্রাথমিকভাবে দেশের অভ্যন্তরে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে রাজ্য বিস্তারে মনোনিবেশ করেন। উদ্দীপকে বর্ণিত মহামতি সুলাইমানের ক্ষেত্রেও এমনটি লক্ষণীয়। মহামতি সুলাইমান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী ছিলেন। তিনি তার সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ করে পূর্বে কৃষ্ণসাগর থেকে পশ্চিমে তিউনিসিয়া এবং উত্তরে ভিয়েনা থেকে দক্ষিণে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। হযরত ওমর ( রা )- ও সাম্রাজ্য বিস্তার করে অর্ধ - জাহানের বাদশা হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিলেন। মহানবি ( স )- এর মৃত্যুর পর আরব দেশ অগণিত ও অতুলনীয় যোদ্ধা উৎপাদনের ক্ষেত্রে পরিণত হয়। এসব মহাবীরদের সাহায্যে হযরত ওমর ( রা ) সমগ্র পারস্য ও রোমান দখল করে বিশ্বের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সংযোজন করেন। খলিফা ওমর নিজেও ছিলেন অসাধারণ সামরিক দক্ষতা ও সাংগঠনিক যোগ্যতাসম্পন্ন। তিনি আরবদের একটি সুশৃঙ্খল সামরিক জাতি হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। এসব কারণে তাঁর আমলে মুসলিম সাম্রাজ্যের সীমা পারস্য , সিরিয়া ও মিসর পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছিল। এ আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে , মহামতি সুলাইমানের সাম্রাজ্য বিস্তার হযরত ওমর ( রা )- এর খিলাফত সম্প্রসারণ নীতিরই প্রতিচ্ছবি । ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত মহামতি সুলাইমানের ন্যায়বিচারের মতো হযরত ওমর ( রা ) ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । খলিফা ওমর ( রা ) ছিলেন উত্তম আদর্শের মূর্ত প্রতীক। তার চরিত্রের বিভিন্নমুখী বৈশিষ্ট্যের মধ্যে একটি হলো ন্যায়পরায়ণতা। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তিনি আপন - পর , ধনী - গরিব কোনো ভেদাভেদ করতে না । হযরত ওমর ( রা )- এর এ ন্যায়পরায়ণতাকেই ধারণ করেছেন মহামতি সুলাইমান । মহামতি সুলাইমান দুর্নীতির দায়ে নিজের জামাতাকে শাস্তি দেন। এমনকি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে নিজের পুত্রকেও ফাঁসি দিতে দ্বিধাবোধ করেননি। অর্থাৎ ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে তিনি আপসহীন। হযরত ওমর ( রা )- ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বজ্রকঠোর ছিলেন। তাঁর কাছে মুসলিম - অমুসলিম , ধনী , দরিদ্র , আপন - পর সবাই সমান ছিল। নিজের ছেলে মদপান ও ব্যভিচারের অপরাধে দোষী প্রমাণিত হলে তিনি তাকে নিজ হাতে দোররা মেরে শাস্তি দেন। এতে ছেলের মৃত্যু হয়। এছাড়া সামান্য অপরাধে তিনি দিগ্বিজয়ী সেনানায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদকে সেনাপতির পদ থেকে অপসারণ করে সামান্য সৈনিকের পদে নামিয়ে আনেন । খলিফা নিজে ভুল করলে আল্লাহ ও মানুষদের কাছে ক্ষমা চাইতেন। ওমরের ভয়ে পারস্য বিজয়ী সেনানায়ক সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস , তাঁর মাদায়েনস্থিত বিলাসবহুল প্রাসাদ ধূলিস্যাৎ করে দেন। বিশাল সাম্রাজ্যের খলিফা হয়েও ওমর ( রা ) ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য কোনো দেহরক্ষী রাখেননি , কিংবা নিজের জন্য কোনো আড়ম্বরপূর্ণ শাহী বালাখানাও নির্মাণ করেননি। ইসলাম , রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণের জন্য তিনি সব ক্ষেত্রেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন । উপরের আলোচনায় প্রমাণিত হয় যে , মহামতি সুলাইমান ও হযরত ওমর ( রা ) উভয়ই ছিলেন ন্যায়বিচারের মূর্ত প্রতীক ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

অটোমান সুলতান মহামতি সুলাইমান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর থেকে তিউনিসিয়া এবং ভিয়েনা থেকে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। দুর্নীতির দায়ে তার জামাতাকেও তিনি শাস্তি দিতে দ্বিধাবোধ করেননি। এমনকি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে তিনি নিজ পুত্রকে ফাঁসি দেন। তিনি অপরাধীদের কঠোর শাস্তি দিতেন।

ক.

কত খ্রিষ্টাব্দে উষ্ট্রের যুদ্ধ সংঘটিত হয় ?

খ.

ভণ্ড নবি কারা ? ব্যাখ্যা করো।

গ.

উদ্দীপকের সাম্রাজ্য বিস্তারের মধ্যে খুলাফায়ে রাশেদিনের কোন খলিফার প্রতিফলন লক্ষণীয় ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

উক্ত খলিফার ন্যায়বিচার উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Garden of Death' বলা হয় কাকে?

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এবং ...

অমুসলমানদের ভূমি কর কোনটি?

আফজাল মিয়া একটি সিরামিক ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধার। তার বিরুদ্ধে দুটি মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়। তিনি তার আপনজনদেরকে প্রতিষ্ঠানে...

আবু জার আল গিফারী (রা.) মুসলমানদের যে জীবনযাপনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে কঠোর প্রতিবাদ করেন-) i. সাদাসিধে জীবন ii. জাঁকজমকপূর্ণ ঐশ...

আবু বকর (রা.)-কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়- i. শিশু ইসলামি রাষ্ট্রকে রক্ষা ii. রিদ্দার যুদ্ধে জয় iii. মিরাজের ঘটনা বিশ্ব...

আবু বকর (রা.) কত খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন?

আবু বকর (রা.) কত হিজরিতে পারস্যে সামরিক অভিযান প্রেরণ করেন ?

আবু বকর (রা.) কীভাবে দাসদের মুক্ত করেন?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।