Facebook Pixel

সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অন্যায় অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য জাতির উদ্দেশ্যে যুগান্তকারী একটি ভাষণ দেন প্রেসিডেন্ট লিংকন। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি গেটিসবার্গ এড্রেস নামে খ্যাত। মাত্র তিন মিনিটের ভাষণে তিনি গণতন্ত্রে শোষিত মানুষের মুক্তি ও অধিকারের কথা বলেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার রক্ষায় ও ভাষণটিকে মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। ক. বাংলাদেশের জাতীয় দিবস কত তারিখে পালন করা হয়? খ. স্বাধীনতা সংগ্রামে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা লেখ। গ. উদ্দীপকে ভাষণের সাথে তোমার পাঠিত ভাষণের মিল রয়েছে? বিশ্লেষণ কর। ঘ. একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় উক্ত ভাষণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ স্বাধীন ও সার্ভভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বাংলাদেশের জাতীয় দিবস ২৬ শে মার্চ পালন করা হয়। খ. স্বাধীনতা সংগ্রামে এ দেশের বুদ্ধিজীবীগণ নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে তারা বিশেষ ভূমিকা রেখেছিলেন। শিল্পীগণ দেশাত্মবোধক গান ও গণসংগীত পরিবেশন করে মানুষের উদ্দীপনা শতগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণাকারী ও দেশ-বিদেশে জনমত গঠনে বুদ্ধিজীবী লেখকদের লেখা বিশেষ প্রভাব ফেলছিল এবং দেশের মানুষের মনেও শক্তি জুগিয়েছিল। গ. উদ্দীপকের ভাষণের সাথে আমার পঠিত ৭ মার্চের ভাষণের মিল রয়েছে।। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে সামরিক সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। সারা দেশে নানারকম উদ্বেগ, উত্তেজনার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল জাতির জন্য 'সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানের সমাবেশে লক্ষ লক্ষ জনতার ঢল নামে। বঙ্গবন্ধু এ সমাবেশে যে ভাষণ দেন তা বিশ্বের ইতিহাসে খ্যাত হয়ে আছে। ২৫ মার্চ আহূত জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগদানের জন্য বঙ্গবন্ধু চারটি দাবি তার ভাষণে উপস্থাপন করেন। এগুলো হলো- ১. চলমান সামরিক আইন প্রত্যাহার; ২. সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া; ৩. গণহত্যার তদন্ত করা এবং ৪. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। এর বাইরে আরও বেশ কিছু দাবি বঙ্গবন্ধুর ভাষণে উত্থাপন করা হয়। তিনি বাংলাদেশের সকল অফিস-আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধুর উক্ত ভাষণ বাঙালি জনমনে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। জনগণ বঙ্গন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে। তিনি বলেন, মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরো দেবো। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তিনি মুক্তি সংগ্রামের জন্য সকলকে প্রস্তুত হওয়ার আদেশও দেন এবং দেশকে শত্রুমুক্ত করতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের আহ্বান জানান। তার এ ভাষণ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে 'বজ্রকণ্ঠ' নামে প্রচারিত হয়, যা বাঙালিকে স্বাধীনতা সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত গেটিসবার্গ ভাষণের সাথে ৭মার্চের ভাষণের সাথেই সাদৃশ্য রয়েছে। ঘ. একটি সাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের গুরুত্ব পরিসীম। ৭ই মার্চের ভাষণের ফলে বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা লাভ করে এরং যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ৭ই মার্চ একটি ইতিহাস। ৭ই মার্চ বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি মাইলফলক। ৭ই মার্চের ভাষণ লক্ষ, কোটি জনতার মাঝে স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিল। এর প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বাক্য একটি করে ইতিহাস। এ ভাষণে অনুপ্রাণিত হয়ে বাঙালি 'জাতি মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগেই যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। মার্কিন গণতন্ত্রের পথনির্দেশ আব্রাহাম লিঙ্কনের গেটিসবার্গের ভাষণ, বঙ্গাবন্ধু ৭ই মার্চের ভাষণ পৃথিবীর ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। ৭ই মার্চের ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে বাঙালি জাতি বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে-মুক্তি লাভের শপথ গ্রহণ করে এবং পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বাধীনতা অর্জন করে। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসের ৩০ তারিখে ইউনেস্কো ৭ই মার্চের ভাষণকে ডকুমেন্টারি হেরিটেজ (বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। মেমোরি অব দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে ৭ই মার্চের ভাষণসহ এখন পর্যন্ত ৪২৭টি গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগৃহীত হয়েছে। অতএব, ৭ই মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের ইতিহসে একটি মাইলফলক। এ ভাষণে উজ্জীবিত হয়ে বাঙালি জাতি যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে এবং ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা এলে তারা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অন্যায় অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য জাতির উদ্দেশ্যে যুগান্তকারী একটি ভাষণ দেন প্রেসিডেন্ট লিংকন। পৃথিবীর ইতিহাসে এটি গেটিসবার্গ এড্রেস নামে খ্যাত। মাত্র তিন মিনিটের ভাষণে তিনি গণতন্ত্রে শোষিত মানুষের মুক্তি ও অধিকারের কথা বলেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার রক্ষায় ও ভাষণটিকে মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

ক.

বাংলাদেশের জাতীয় দিবস কত তারিখে পালন করা হয়?

খ.

স্বাধীনতা সংগ্রামে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা লেখ।

গ.

উদ্দীপকে ভাষণের সাথে তোমার পাঠিত ভাষণের মিল রয়েছে? বিশ্লেষণ কর।

ঘ.

একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় উক্ত ভাষণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

beginarray|l|c|c| hline textbfদলের নাম & textbfপূর্ব পাকিস্তানের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা & textbfপশ্চিম পাকিস্তানের প্রাপ্ত আ...

ক. বাংলাদেশকে সর্বপ্রথম কোন দেশ স্বীকৃতি দেয় ? খ. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান কী ? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন ঐ...

ক. মুক্তিযুদ্ধে কয়টি সেক্টর ছিল? খ. ৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। গ. প্রদত্ত ছকে উল্লেখিত '?' দ্বারা ঐতিহাসিক ক...

“ এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। ” ক. মহান মুক্তিযুদ্ধের সর...

‘ ক ’ অঞ্চলের জনগণ সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু করে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে গেলেও প্রয়োজন ছিল যৌক্তিকভাবে যুদ্ধ পরিচাল...

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের কতটি আসন লাভ করে?

অটোমান তুর্কী সুলতানদের সাম্রাজ্যবাদী মনোভাবের কারণে বুলগেরিয়ার জনগণ স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন শুরু করে। অটোমান সুলতান এ আ...

অটোমান শাসনাধীনে থাকা বুলগেরিয়ার মানুষ জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তুর্কি সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগে ...

অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনা করা হয় ১৯৭১ সালের কত তারিখে?

অপারেশন সার্চলাইট কত তারিখে পরিচালিত হয়?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।