ক.
বাংলাদেশকে সর্বপ্রথম স্বীকৃতি দেয় ভুটান ।
খ.
১৯৬৯ সালে পাকিস্তানের স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে যে গণআন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল তা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত।
আইয়ুব খানের দশ বছরের স্বৈরশাসন পূর্ব পাকিস্তানিদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ৬ দফা ঘোষণা করলে আইয়ুব খান এ আন্দোলন দমন করার জন্য বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে আগরতলা মামলা দায়ের করে। ফলে গণবিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ সময় ছাত্রসমাজ ১১ দফা নিয়ে এগিয়ে এলে এ গণবিক্ষোভ গণবিস্ফোরণে পরিণত হয়। আইয়ুব সরকারের বিরুদ্ধে এ তীব্র আন্দোলনই ইতিহাসে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত ।
গ.
উদ্দীপকে বর্ণিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চিত্রটি ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনের সাক্ষী।
১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর জাতীয় পরিষদ এবং ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বাঙালিদের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই নির্বাচন ছিল একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা। আইয়ুব খানের দীর্ঘ শাসন- শোষণ থেকে মুক্ত হয়ে বাঙালিরা প্রথম এ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ লাভ করে। যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উদ্দীপকের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে ভোটাধিকার প্রয়োগের চিত্র ফুটে উঠেছে
১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্ব পাকিস্তানের ওপর বৈষম্যমূলক শাসন চালাতে থাকে। দীর্ঘ ২৩ বছরের সংগ্রামের ইতিহাসে ১৯৭০ সালে বাঙালিরা প্রথমবারের মত ভোটাধিকার লাভ করে। এ নির্বাচনে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে আওয়ামী লীগ অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে। বাঙালিরা ব্যালেট বিপ্লবের মাধ্যমে পশ্চিম পকিস্তানিদের শাসন-শোষণের জবাব দিয়েছিল। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানদের নির্ধারিত জাতীয় পরিষদের ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭ টি আসনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং প্রাদেশিক পরিষদের ৩০০টি আসনের ২৯৮টি আসন লাভ করে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে বাঙালিদের জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটে। আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পেছনে ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিও বিশেষভাবে কাজ করেছিল। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা গণমানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব, নেতৃত্বের অসাধারণ গুণাবলি এবং ক্ষুরধার ও প্রাঞ্জল, বক্তৃতা মানুষকে সহজেই তার প্রতি আকৃষ্ট করেছিল। সুতরাং উদ্দীপকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাস্যোজ্জ্বল ভোটাধিকার প্রয়োগের ছবিতে যেন সেই কৃতিত্বের চিত্রই প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ.
১৯৭০ সালের নির্বাচনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম।
পাকিস্তানের রাজনীতিতে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের গুরুত্ব ছিল সুদূরপ্রসারী। এতে আওয়ামী লীগের অভূতপূর্ব বিজয় পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর দীর্ঘ ২৩ বছরের নিপীড়ন ও শোষণের হাত থেকে মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি করে। ৭০ এর জাতীয়তাবাদী প্রেরণাই পরবর্তীতে বাঙালিদের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্দীপনা যুগিয়েছিল।
১৯৭০ সালের এ নির্বাচনে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে মানুষ সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশে সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পেরেছিল। এ নির্বাচনে আঞ্চলিক রাজনীতির প্রাধান্য প্রকাশ পায়। এ নির্বাচনে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের কেউই সমগ্র পাকিস্তানের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ পায়নি। আওয়ামী লীগ জাতীয়ভাবে দেশের শক্তিশালী রাজনৈতিক দল হিসেবে অবস্থান সুনিশ্চিত করে। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালিদের মধ্যে জাতীয়তাবাদের যে বীজ অঙ্কুরিত হয়েছিল ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তা সুদৃঢ় ও রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক ভিত্তি পায়।
পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাঙালিদের স্বায়ত্তশাসনের যে মূল লক্ষ্য ছিল তা বৈধতা পায়। এ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় বাঙালি জাতির আত্মপ্রত্যয় বৃদ্ধি করে। তারা প্রথমবারের মতো নিজেদের ঐক্যবদ্ধ ও রাজনৈতিকভাবে সুসংহত শক্তি হিসেবে প্রমাণ করার সুযোগ পায়। এ নির্বাচনের প্রেরণাই বাঙালিরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দীর্ঘ ৯ মাস লড়াই সংগ্রাম করে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
সুতরাং বলা যায় যে, বাংলাদেশের স্বাধীকার আন্দোলনের সংগ্রামে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের তাৎপর্য অতুলনীয়।