(ক) যে মাধ্যম অবরোহ অনুমানে পরস্পর সম্পর্কযুক্ত দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্তটি অনিবার্যভাবে অনুমিত হয় তাকে সহানুমান বলে।
(খ) সহানুমানের নিয়ম অনুযায়ী, আশ্রয়বাক্য দুটির মধ্যে মধ্যপদকে অন্তত একবার ব্যাপ্য হতে হবে। এই নিয়মটি লঙ্ঘন করলে সহানুমানে অব্যাপ্য মধ্যপদজনিত অনুপপত্তি ঘটে।
সহানুমানে দুটি আশ্রয়বাক্যেই মধ্যপদ থাকে। এ দুটি আশ্রয়বাক্যের মধ্যে কমপক্ষে একটিতে মধ্যপদ ব্যাপ্য হওয়া আবশ্যক। যদি মধ্যপদ কোনো আশ্রয়বাক্যেই ব্যাপ্য না হয়, তবে তা প্রধান পদ ও অপ্রধান পদের মধ্যে কোনো যোগসূত্র স্থাপন করতে পারে না। ফলে সহানুমানের বৈধতা নষ্ট হয় এবং অব্যাপ্য মধ্যপদজনিত অনুপপত্তি ঘটে। যেমন:
সকল রাশিয়ান হয় বিপ্লবী।
এনারকিস্টগণ হয় বিপ্লবী।
অতএব, এনারকিস্টগণ হয় রাশিয়ান।
এখানে মধ্যপদ 'বিপ্লবী' উভয় আশ্রয়বাক্যেই A-যুক্তিবাক্যের বিধেয় হিসেবে অব্যাপ্য। তাই এ অনুমানে মধ্যপদজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে।
(গ) উদ্দীপকের যুক্তিতে 'মানুষ' পদটি সহানুমানের মধ্যপদ (Middle Term) হিসেবে কাজ করছে।
সহানুমানের যে পদটি উভয় আশ্রয়বাক্যে থাকে কিন্তু সিদ্ধান্তে থাকে না তাকে মধ্যপদ বলে। উদ্দীপকে বর্ণিত 'মানুষ' পদটি প্রথম আশ্রয়বাক্য এবং দ্বিতীয় আশ্রয়বাক্যে থাকলেও সিদ্ধান্তে নেই। এই সহানুমানের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে 'মানুষ' পদটিকে বলে মধ্যপদ।
সহানুমানে মধ্যপদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সহানুমানে মধ্যপদ প্রধান আশ্রয়বাক্যে প্রধান পদের সাথে ব্যবহৃত হয় এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে অপ্রধান পদের সাথে ব্যবহৃত হয়। মধ্যপদের প্রধান কাজ হলো প্রধান ও অপ্রধান পদের মধ্যে একটি অনিবার্য সম্পর্ক বা সেতুবন্ধন তৈরি করা। আর ওই অনিবার্য সম্পর্কের ভিত্তিতেই সহানুমানে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়। সহানুমানের সিদ্ধান্তে মধ্যপদ নিজে অবস্থান না করলেও মধ্যপদই মূলত সহানুমানের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা পালন করে। মধ্যপদ ছাড়া প্রধান ও অপ্রধান পদের মধ্যে কোনো যৌক্তিক সম্পর্ক স্থাপন করা সম্ভব নয়।
(ঘ) উদ্দীপকে নির্দেশিত যুক্তিটি অবৈধ। যুক্তিটিতে 'অবৈধ প্রধান পদজনিত অনুপপত্তি' (Fallacy of Illicit Major) ঘটেছে।
উদ্দীপকে প্রদত্ত যুক্তিটি হলো:
সকল মানুষ হয় জীব (A-যুক্তিবাক্য)
কোনো বানর নয় মানুষ (E-যুক্তিবাক্য)
অতএব, কোনো বানর নয় জীব (E-যুক্তিবাক্য)
যুক্তিটি সহানুমানের নিয়ম অনুযায়ী অবৈধ। সহানুমানের ব্যাপ্যতার নিয়ম অনুসারে, আশ্রয়বাক্যের কোনো অব্যাপ্য পদ সিদ্ধান্তে গিয়ে ব্যাপ্য হতে পারবে না।
উদ্দীপকের যুক্তিটিতে:
১. প্রধান আশ্রয়বাক্যটি হলো একটি A-যুক্তিবাক্য (সকল মানুষ হয় জীব)। আমরা জানি, A-যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য কিন্তু বিধেয় পদ অব্যাপ্য। এখানে বিধেয় পদ 'জীব' হলো প্রধান পদ, যা আশ্রয়বাক্যে অব্যাপ্য অবস্থায় আছে।
২. সিদ্ধান্তটি হলো একটি E-যুক্তিবাক্য (কোনো বানর নয় জীব)। আমরা জানি, E-যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই ব্যাপ্য। এখানে সিদ্ধান্তের বিধেয় পদ 'জীব' (প্রধান পদ) ব্যাপ্য হয়েছে।
যেহেতু প্রধান পদ 'জীব' প্রধান আশ্রয়বাক্যে অব্যাপ্য ছিল কিন্তু সিদ্ধান্তে এসে ব্যাপ্য হয়েছে, সেহেতু এখানে সহানুমানের নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। এর ফলে যুক্তিটিতে 'অবৈধ প্রধান পদজনিত অনুপপত্তি' ঘটেছে। তাই উদ্দীপকে নির্দেশিত যুক্তিটি বৈধ নয়।