(ক)
যে অবরোহ অনুমানে দুটি আশ্রয়বাক্যের মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয় এবং উভয় আশ্রয়বাক্যে একটি সাধারণ পদ থাকে, তাকে মাধ্যম অনুমান বা সহানুমান বলে।
(খ)
সহানুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে বেশি ব্যাপক হয় না কারণ সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে নিঃসৃত হয়। অবরোহ অনুমানের নিয়ম অনুযায়ী, আশ্রয়বাক্যে কোনো পদ যদি আংশিক ব্যাপক হয়, তবে সিদ্ধান্তে সেই পদটি ব্যাপক হতে পারে না। যদি সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যের চেয়ে বেশি ব্যাপক হয়, তবে তা যুক্তির নিয়ম লঙ্ঘন করে এবং অনুমানটি অবৈধ হয়ে পড়ে। তাই সহানুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যের সমব্যাপক বা আংশিক ব্যাপক হতে পারে, কিন্তু কখনোই বেশি ব্যাপক হতে পারে না।
(গ)
উদ্দীপকে 'বাংলাদেশি' পদটি সহানুমানের মধ্যপদকে নির্দেশ করে।
সহানুমানে তিনটি পদের মধ্যে মধ্যপদ হলো সেই পদ, যা উভয় আশ্রয়বাক্যে উপস্থিত থাকে কিন্তু সিদ্ধান্তে থাকে না। মধ্যপদ প্রধান আশ্রয়বাক্যে প্রধান পদের সাথে এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে অপ্রধান পদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে, যার ফলে প্রধান ও অপ্রধান পদের মধ্যে একটি অনিবার্য সম্পর্ক তৈরি হয় এবং সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত হয়।
উদ্দীপকের যুক্তিতে বলা হয়েছে, "সকল বাংলাদেশি হয় দেশপ্রেমিক। সাকিব হয় বাংলাদেশি। অতএব, সাকিব হয় দেশপ্রেমিক।" এখানে 'বাংলাদেশি' পদটি প্রথম আশ্রয়বাক্যে 'দেশপ্রেমিক' পদের সাথে এবং দ্বিতীয় আশ্রয়বাক্যে 'সাকিব' পদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত বাক্যে এটি অনুপস্থিত। সুতরাং, 'বাংলাদেশি' পদটি এখানে মধ্যপদ।
(ঘ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত তিনটি পদের আলোকে সহানুমানের গঠন প্রণালি নিচে আলোচনা করা হলো।
একটি নিরপেক্ষ সহানুমান মূলত তিনটি পদ এবং তিনটি বাক্য দ্বারা গঠিত হয়। এখানে প্রতিটি পদ দুইবার করে ব্যবহৃত হয়। সহানুমানের গঠন প্রণালির প্রধান উপাদানগুলো হলো:
১. তিনটি পদ:
- প্রধান পদ: যে পদটি সহানুমানের সিদ্ধান্তে বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাকে প্রধান পদ বলে। উদ্দীপকের যুক্তিতে 'দেশপ্রেমিক' হলো প্রধান পদ।
- অপ্রধান পদ: যে পদটি সহানুমানের সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাকে অপ্রধান পদ বলে। উদ্দীপকের যুক্তিতে 'সাকিব' হলো অপ্রধান পদ।
- মধ্যপদ: যে পদটি উভয় আশ্রয়বাক্যে থাকে কিন্তু সিদ্ধান্তে থাকে না, তাকে মধ্যপদ বলে। উদ্দীপকের যুক্তিতে 'বাংলাদেশি' হলো মধ্যপদ।
২. তিনটি বাক্য:
- প্রধান আশ্রয়বাক্য: সহানুমানের যে আশ্রয়বাক্যে প্রধান পদটি থাকে, তাকে প্রধান আশ্রয়বাক্য বলে। উদ্দীপকের "সকল বাংলাদেশি হয় দেশপ্রেমিক" বাক্যটি হলো প্রধান আশ্রয়বাক্য।
- অপ্রধান আশ্রয়বাক্য: সহানুমানের যে আশ্রয়বাক্যে অপ্রধান পদটি থাকে, তাকে অপ্রধান আশ্রয়বাক্য বলে। উদ্দীপকের "সাকিব হয় বাংলাদেশি" বাক্যটি হলো অপ্রধান আশ্রয়বাক্য।
- সিদ্ধান্ত: প্রধান ও অপ্রধান আশ্রয়বাক্য থেকে যে নতুন বাক্যটি নিঃসৃত হয়, তাকে সিদ্ধান্ত বলে। উদ্দীপকের "অতএব, সাকিব হয় দেশপ্রেমিক" বাক্যটি হলো সিদ্ধান্ত।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের এই যুক্তিতে মধ্যপদ 'বাংলাদেশি' প্রধান পদ 'দেশপ্রেমিক' এবং অপ্রধান পদ 'সাকিব'-এর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে একটি বৈধ সহানুমান গঠন করেছে। এই তিনটি পদ এবং তিনটি বাক্যের সুশৃঙ্খল বিন্যাসই হলো সহানুমানের গঠন প্রণালি।