(ক) যে পদ সহানুমানের সিদ্ধান্তে বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাকে প্রধান পদ বলে।
(খ) সহানুমানে তিনটি পদের পরিবর্তে চারটি পদের ব্যবহার করা হলে চতুষ্পদী অনুপপত্তি ঘটে।
সহানুমানের নিয়ম অনুযায়ী একটি যুক্তিতে কেবল তিনটি পদ থাকতে পারে। কোনো সহানুমানে তিনটি পদের অধিক পদ ব্যবহৃত হলে যে অনুপপত্তি ঘটে তাকে চতুষ্পদী অনুপপত্তি বলে। যেমন: কিছু মানুষ হয় এমন যারা মুরগি খায়। কিছু মুরগি হয় এমন যারা কেঁচো খায়। অতএব, কিছু মানুষ হয় এমন যারা কেঁচো খায়। এই দৃষ্টান্তটিতে পদের সংখ্যা চারটি। যথা: ১. মানুষ, ২. যারা মুরগি খায়, ৩. মুরগি, ৪. যারা কেঁচো খায়। তাই এখানে চতুষ্পদী অনুপপত্তি ঘটেছে।
(গ) উদ্দীপকে 'চিন্তাশীল' পদটি সহানুমানের 'মধ্যপদ'কে নির্দেশ করে।
সহানুমানে তিনটি পদের মধ্যে 'মধ্যপদ' অন্যতম। সহানুমানের যে পদটি উভয় আশ্রয়বাক্যে থাকে কিন্তু সিদ্ধান্তে থাকে না তাকে মধ্যপদ বলে।
সহানুমানে মধ্যপদ প্রধান আশ্রয়বাক্যে প্রধান পদের সাথে এবং অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে অপ্রধান পদের সাথে ব্যবহৃত হয়। প্রধান ও অপ্রধান আশ্রয়বাক্যের মধ্যে মধ্যপদ একটি অনিবার্য সম্পর্ক তৈরি করে। আর ঐ অনিবার্য সম্পর্কের ভিত্তিতে সহানুমানে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠিত হয়।
উদ্দীপকের সহানুমানের দৃষ্টান্তটি হলো: 'সকল দার্শনিক হন চিন্তাশীল। সকল কবি হন চিন্তাশীল। অতএব সকল কবি হন দার্শনিক।' এখানে সিদ্ধান্তের বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় 'দার্শনিক' পদটি প্রধান পদ। কিন্তু 'চিন্তাশীল' পদটি সিদ্ধান্তের অংশ নয়। কিন্তু উভয় আশ্রয়বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে আশ্রয়বাক্যদ্বয়ের মধ্যে একটি অনিবার্য সম্পর্ক স্থাপন করেছে। তাই উদ্দীপকের সহানুমানে উল্লিখিত 'চিন্তাশীল' পদটি হলো মধ্যপদ।
(ঘ) সহানুমানের নিয়মাবলির আলোকে উদ্দীপকটি একটি যথার্থ সহানুমান নয়।
উদ্দীপকে সহানুমানের তৃতীয় নিয়মটি লঙ্ঘনের কারণে অব্যাপ্য মধ্যপদজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে। সহানুমানের তৃতীয় নিয়মানুসারে সহানুমানের কোনো যুক্তিতে দুটি আশ্রয়বাক্যের যে কোনো একটিতে মধ্যপদকে অন্তত একবার ব্যাপ্য হতে হবে। যদি তা না হয় তবে 'অব্যাপ্য মধ্যপদজনিত অনুপপত্তি' ঘটে। সহানুমানের মধ্যপদই প্রধান ও অপ্রধান পদের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করে সিদ্ধান্ত নিঃসরণ করে। তাই মধ্যপদকে প্রধান বা অপ্রধান আশ্রয়বাক্যে কমপক্ষে একবার ব্যাপ্য হতে হবে। না হলে মধ্যপদটি প্রধান ও অপ্রধান পদের মধ্যে কোনো যোগসূত্র স্থাপন করতে পারে না। ফলে এরূপ যুক্তি থেকে কোনো বৈধ সিদ্ধান্ত অনুমিত হয় না।
উদ্দীপকে উল্লিখিত সহানুমানের যুক্তিটি হলো: 'সকল দার্শনিক হন চিন্তাশীল।' 'সকল কবি হন চিন্তাশীল।' অতএব, 'সকল কবি হন দার্শনিক।' এখানে প্রথম আশ্রয়বাক্যটি একটি সার্বিক সদর্থক বা 'A'-যুক্তিবাক্য যার বিধেয় পদ 'চিন্তাশীল' অব্যাপ্য। আবার দ্বিতীয় আশ্রয়বাক্যটিও সার্বিক সদর্থক বা 'A'-যুক্তিবাক্য যার বিধেয় পদ 'চিন্তাশীল' অব্যাপ্য বলে এটি প্রধান পদ 'দার্শনিক' এবং অপ্রধান পদ 'কবি' এর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেনি। ফলে অব্যাপ্য মধ্যপদজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে এবং অনুমিত সিদ্ধান্তটি অবৈধ হয়েছে।
আলোচনা শেষে বলা যায়, সহানুমানের নিয়মাবলির যথাযথ অনুসরণ না করায় উদ্দীপকের সহানুমানটি যথার্থ সহানুমান নয়।