ক.
AIDS-এর পূর্ণরূপ হলো Acquired Immune Deficiency Syndrome'।
খ.
বর্তমান সময়ে বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠী' বলতে সকল প্রকার প্রতিবন্ধী মানুষদের বোঝায় ।
সাধারণভাবে বলা হয়, যার মাঝে প্রতিবন্ধকতা বিরাজমান তিনিই প্রতিবন্ধী; সে প্রতিবন্ধকতা যত সামান্যই হোক না কেন। প্রকৃতপক্ষে অসুখে, দুর্ঘটনায়, চিকিৎসা ত্রুটি বা জন্মগতভাবে যদি কোনো ব্যক্তির শারীরিক বা মানসিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মাধ্যমে কর্মক্ষমতা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে লোপ পায় অথবা তুলনামূলকভাবে কম হয় তাহলে সেই ব্যক্তিকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকে বর্ণিত নুসরাত ইভটিজিং-এর শিকার হয়েছে।
ইভটিজিং বর্তমান সময়ে বহুল আলোচিত একটি সমস্যা। বিশেষভাবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি একটি সামাজিক অসুস্থতা হিসেবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। 'ইভ' বলতে বোঝায় রমণী বা নারী, 'টিজিং' বলতে উত্ত্যক্ত করা বা বিরক্ত করাকে বোঝায়। আর ইভটিজিং হচ্ছে পুরুষ সমাজ কর্তৃক নারীর উত্ত্যক্ত বা বিরক্তির শিকার হওয়া। পুরুষ কর্তৃক নারীদের প্রতি বাজে মন্তব্য, কুপ্রস্তাব, অশ্লীল বাক্য প্রয়োগ, অপ্রীতিকর অঙ্গভঙ্গি করা, শারীরিক লাঞ্ছনা, শিস বাজানো, সুযোগে গায়ে পড়ে ধাক্কা দেওয়া, উস্কানিমূলক তালি বাজানো, মোবাইল ফোনে বিরক্ত করা, কাগজে অশ্লীল কথা লিখে মেয়েদের দিকে নিক্ষেপ করা, পথরোধ করা প্রভৃতি ঘটনা যখন ঘটানো হয় তখন তাকে ইভটিজিং বলা হয়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, স্কুল ছাত্রী নুসরাত প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার সময় বখাটে যুবকদের দ্বারা হয়রানির শিকার হয়। নুসরাতের হয়রানির বিষয়টি আমাদের বর্তমান সামাজিক সমস্যার অন্যতম ইভটিজিংকে ইঙ্গিত করে। আমাদের দেশে নানারকম সামাজিক সমস্যার মাঝে ইভটিজিং সমস্যা অন্যতম। ইভটিজিং মূলত এক ধরনের প্রকাশ্য যৌন হয়রানি। সাধারণত রাস্তাঘাটে, যানবাহনে বা প্রকাশ্যে চলাফেরারত বা অবস্থানরত নারীদের পুরুষ কর্তৃক উত্ত্যক্ত করা এক ধরনের নারী নির্যাতন। সাম্প্রতিককালে ভয়ঙ্কর এ সমস্যার হিংস্র থাবায় বিক্ষত ও অপমানের দহনে জ্বলতে থাকা অনেক কিশোরী-তরুণী আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে এমনকি গ্রামাঞ্চলের স্কুল-কলেজে মেয়েদের ঝরে পড়ার প্রবণতা ও বাল্যবিবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ঘ.
উদ্দীপকে বর্ণিত সমস্যা সমাধানে অর্থাৎ ইভটিজিং প্রতিকারে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি। ইভটিজিং প্রতিরোধে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে। পারিবারিক সুশিক্ষা ও মূল্যবোধ সমাজ থেকে ইভটিজিং নির্মূল করতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে ইভটিজিং প্রতিরোধ করা সম্ভব।
প্রকৃত শিক্ষাই জাতিকে এ ধরনের সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্ত করতে পারে। এক্ষেত্রে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকগণ ইভটিজিং ও এর নেতিবাচক দিক নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতাবোধ সৃষ্টি করতে পারেন। অত্যন্ত ভয়ানক হয়ে ওঠা এই ব্যাধি দ্রুত প্রতিরোধ করার জন্য কঠোর শাস্তির বিধানের কোনো বিকল্প নেই। দেশের প্রচলিত আইনের সংস্কার করে ইভটিজিং প্রতিরোধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে । তবে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সে আইন যাতে বাস্তবায়িত হয় সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতৈক্য একান্ত অপরিহার্য। ক্ষতিগ্রস্তদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা করাও জরুরি। সেইসাথে ভারসাম্যপূর্ণ সামাজিক বিকাশে ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, গণমাধ্যম ও বুদ্ধিজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের যে দায়িত্ব রয়েছে সে সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, নাগরিক সচেতনতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগই সমাজকে এই সামাজিক ব্যাধি অর্থাৎ ইভটিজিং থেকে মুক্তি দিতে পারে।