ক.
উড্রো উইলসন ছিলেন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।
খ.
সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ ঘোষিত অর্থনৈতিক সংস্কারনীতিই পেরেস্ত্রৈকা (Perestroika) নামে খ্যাত। তিনি বনেদি সমাজতান্ত্রিক ঘরানা থেকে বেরিয়ে এসে তার গ্লাসনস্ত বা খোলানীতির সঙ্গে সংগতি রেখে সোভিয়েত ইউনিয়নে উদারনৈতিক অর্থনীতি প্রবর্তনে এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ফলে ১৯৮৭ সাল থেকে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপীয় কমিউনিস্ট দেশসমূহে নয়া অর্থনৈতিক হাওয়া বইতে শুরু করে। এরই ফলশ্রুতিতে সমাজতান্ত্রিক পূর্ব জার্মানি স্বীয় অস্তিত্ব বিলুপ্ত করে পূর্ব জার্মানির সঙ্গে একীভূত হয়ে যায় এবং ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটে।
গ.
শহিদুল দুই বিশ্বনেতা হিটলার ও মুসোলিনী সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে।
বিংশ শতাব্দীর রাজনীতির ইতিহাসে জার্মানির এডলফ হিটলার এবং ইতালির মুসোলিনী এক সুপরিচিত নাম। হিটলার ১৮৯৯ সালের এপ্রিলে অস্ট্রিয়ার ব্রাউনাউ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকালেই পিতার মৃত্যুতে তিনি চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠেন। স্কুল জীবন শেষ করে তিনি অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় গমন করেন। ছবি আঁকার স্কুলে ভর্তি হতে ব্যর্থ হয়ে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধ শেষে ১৯১৯ সালে জার্মান শ্রমিক দলে যোগ দিয়ে অল্প দিনের মধ্যেই বাগ্মিতায় সকলের নজর কাড়তে সক্ষম হন। অতি দ্রুত ক্ষমতায় আরোহন করে জার্মানিতে একনায়কতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। অপরদিকে ফ্যাসিবাদের জনক মুসোলিনী ১৮৮৩ সালে ইতালির 'রোমানা' নামে এক গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। সমাজতন্ত্রী দল কর্তৃক “অভান্তি” পত্রিকা থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর নিজেই একটি পত্রিকা প্রকাশ করে ইতালির যুদ্ধে যোগদানের পক্ষে জনমত গঠন করে। ১৯১৯ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর মিলান শহরে একটি সম্মেলন করেন এবং এ সম্মেলনে কর্মচ্যুত সেনা ও বেকার যুবকদের নিয়ে মুসোলিনী আধা সামরিক বাহিনী গঠন করেন যার নাম 'ফ্যাসিস্ট'। মাত্র দুবছরের মধ্যেই ফ্যাসিস্টরা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং মুসোলিনী ইতালিতে ১৯২৫ সালে একনায়কতন্ত্র ফ্যাসিবাদী সরকার ব্যবস্থা চালু করে ।
উদ্দীপকেও দেখা যায় যে, শহিদুল ইতিহাস পড়ে যে দুইজন ব্যক্তি সম্পর্কে ধারণা লাভ করে তারমধ্যে একজন জার্মানিতে একনায়কতান্ত্রিক শাসন চালু করেন এবং অন্যজন ইতালিতে ফাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। উপরিউক্ত আলোচনায় প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে হিটলার ও মুসোলিনীকে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘ.
শহিদুলের পঠিত নেতাদ্বয় তথা হিটলার ও মুসোলিনীর কর্মকাণ্ডের মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান ।
হিটলার ও মুসোলিনী উভয়েই দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যকার ইউরোপের তথা বিশ্ব ইতিহাসের বিস্ময়কর চরিত্র। উভয়েই জাতীয়তাবাদী নেতা। তবে তারা জাতীয়তাবাদকে বিশ্বশান্তির বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছিলেন। মুসোলিনী চেয়েছিলেন ইতালিকে বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে এবং হিটলার চেয়েছিলেন পুরো বিশ্বকে জার্মান জাতির দাসত্বের অধীনে আনতে। হিটলার জার্মান জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন নাৎসিবাদ দ্বারা, অপরদিকে মুসোলিনী যুবসমাজকে বিমোহিত করেন ফ্যাসিবাদ দ্বারা। এ দুটি মতবাদই গণতন্ত্রকে অস্বীকার করে এবং 'জোর যার মুল্লুক তার' নীতিতে বিশ্বাসী । হিটলার ও মুসোলিনী দুজনেই যুদ্ধে বিশ্বাসী এবং শান্তিবাদকে অস্বীকার করে। তবে হিটলারের নাৎসিবাদ জার্মানিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্ব থেকেই নাসি আদর্শ বিস্তার লাভ করে কিন্তু মুসোলিনীর ফ্যাসিস্ট দল ক্ষমতায় আসার অনেক পরে এর দার্শনিক ভিত্তি রচিত হয়। ইতালির মুসোলিনীর তুলনায় হিটলার অধিক ক্ষমতাশালী এবং বেশি হিংসা ও কঠোর নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন। তাছাড়া নাৎসিবাদ বংশগত ঐতিহ্যের ওপর বেশি গুরুত্বারোপ করে অন্যদিকে ফ্যাসিবাদ বংশকে ততটা প্রাধান্য দেয়নি।
উপরিউক্ত পর্যালোচনা হতে প্রতীয়মান হয় যে, হিটলার ও মুসোলিনীর কর্মকাণ্ডের মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য থাকলেও কর্মকৌশল ছিল একই রকম।