Facebook Pixel

শাসক 'ক' ছিলেন একজন সরলমনা ও প্রজাবৎসল শাসক। তিনি সবসময় অহেতুক রক্তপাত এড়িয়ে যেতেন। তার এ সরলতার সুযোগ নিয়ে একদল বিপথগামী জনতা তার বিরুদ্ধে কতিপয় অভিযোগ এনে বিদ্রোহ শুরু করে। তিনি এই বিদ্রোহ কঠোর হস্তে দমন না করায় আস্তে আস্তে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ক. 'সাইফুল্লাহ' কার উপাধি? খ. 'মজলিশ-উস-শুরা' বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের শাসকের সাথে ইসলামের কোন খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উক্ত খলিফার উপর আনীত অভিযোগ সম্পর্কে তোমার মতামত যুক্তির আলোকে তুলে ধর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ খুলাফায়ে রাশেদিন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. 'সাইফুল্লাহ' বিখ্যাত বীর খালিদ বিন ওয়ালিদের উপাধি। খ. মজলিশ-উস-শুরা ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি মন্ত্রণাপরিষদ। প্রাক-ইসলামি যুগের দারুন নাদওয়ায় বয়োজ্যেষ্ঠ পরিষদের অনুকরণে রাসুল (স) একটি পরামর্শব্যবস্থা চালু রাখেন। পরবর্তী সময়ে হযরত আবু বকর (রা) ও সেটি অনুসরণ করেন। হযরত ওমর (রা)-এ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কারণ তিনি সবসময় বলতেন, পরামর্শ ছাড়া খিলাফত চলতে পারে না। এ গণতান্ত্রিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি জনগণের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং স্বচ্ছভাবে শাসনকার্য পরিচালনার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মন্ত্রণাপরিষদ গঠন করেন, যা মজলিশ-উস-শুরা নামে পরিচিত। এটি মজলিশ-উল-আম ও মজলিশ-উল-খাস-এ দু ভাগে বিভক্ত ছিল। গ. উদ্দীপকের শাসকের সাথে ইসলামের ৩য় খলিফা হযরত ওসমান (রা.) এর সাদৃশ্য রয়েছে। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো : উদ্দীপকের শাসক 'ক' ছিলেন সরলমনা এবং প্রজাবৎসল শাসক। তার এই সরলতার সুযোগ নিয়ে বিরোধীরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বিদ্রোহ শুরু করেন। তিনি এই বিদ্রোহ কঠোরভাবে দমন না করায় এটি ধীরে ধীরে সমগ্র রাজ্যে ছড়িয়ে যেতে থাকে। হযরত ওসমান (রা.) ছিলেন ইসলামের তৃতীয় খলিফা। তিনি ছিলেন ন্যয়নিষ্ঠ, কর্তব্যপরায়ণ ও মহৎপ্রাণ ব্যক্তি। তিনি ইসলামের সার্বিক খেদমত ও জনসাধারণের মঙ্গলের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে স্বজন প্রীতির অভিযোগ আনে বেদুইন ও অনারব মুসলমানগণ। কুরআন শরীফ দগ্ধীকরন, বাইতুল মালের অর্থ আত্মসাৎ করে নিজের আত্মীয়-স্বজনকে দান করা এবং সরকারি চারণভূমি নিজস্ব কাজে ব্যবহার করা ইত্যাদি অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনেন। যার ফলে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে বিদ্রোহীরা মদিনা উপস্থিত হয় এবং হযরত ওসমান (রা.) এর বাশ গৃহ অবরোধ করেন। এ সময় কুরআন পাঠরত অবস্থায় তারা হযরত ওসমান (রা.) হত্যা করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শাসকের সাথে ইসলামের ৩য় খলিফা হযরত ওসমান (রা.) এর সাদৃশ্য রয়েছে। ঘ. উক্ত খলিফা তথা হযরত ওসমান (রা.) এর উপর আনীত অভিযোগ সম্পর্কে আমার মতামত নিম্নে যুক্তির আলোকে বিশ্লেষণ করা হলো: হযরত ওসমান (রা.) এর শাসনকালের শেষের দিকে তার বিরুদ্ধে কিছু বিরোধীরা বিভিন্ন অভিযোগ আনেন। তারা হযরত ওসমান (রা.) এর বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, কুরআন শরীফ দগ্ধকরণ, বায়তুল মালের অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি চারণভূমি নিজস্ব কাজে ব্যবহার, অন্যায় নির্বাসন, বাজারে অন্যায় আধিপত্য, ভাতা স্থগিত করা এসব অভিযোগ আনে। মূলত এগুলো ছিল ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং হযরত ওসমান (রা.) এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক প্রচেষ্টা। তারা হযরত ওসমান (রা.) এর উপর স্বজন প্রীতির অভিযোগ আনে। তিনি আত্মীয় স্বজনদের প্রতি কিছুটা দূর্বল ছিলেন কিন্তু তিনি তার কোন অনুপযুক্ত আত্মীয়কে কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেন নি। জনগণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি দায়িত্ব দেওয়া গভর্নরকে পরিবর্তন করেন কিন্তু সকল গভর্নর তার আত্মীয় ছিলেন না। কুরআন শরীফের উচ্চারণগত সমস্যা দূর করার জন্য তিনি আর একটি উদ্যোগ নিয়েছিলেন। যার কারনে তিনি ত্রুটিপূর্ণ ও অসংগতিপূর্ন কপি গুলো পুড়িয়ে ফেলেন। মূলত কোরআন শরীফ সংকলনই ছিল এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। কেননা এই অসম্পূর্ণ কপি গুলো থাকলে বরং মুসলমানদেরই অকল্যাণ হতো। হযরত ওসমান (রা.) ছিলেন আরবের শ্রেষ্ঠ ধনীদের মধ্যে একজন। তিনি ছিলেন অঢেল ধন সম্পদের মালিক। তিনি তার সম্পত্তিগুলো ইসলামের সেবায় অকাতরে দান করেছিলেন। তাই তার বিরুদ্ধে বায়তুল মালের সামান্য অর্থাৎ এর অভিযোগ কোন ভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। তাছাড়া তিনি সরকারি চারণভূমি নিজের ব্যক্তিগত ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার হয় বরং রাষ্ট্রীয় পশু পালনের জন্য ব্যবহার করেছিলেন। আর রাষ্ট্রীয় পশু নিশ্চয়ই কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না। তাই পরিশেষে বলা যায়, খলিফা হযরত ওসমান (রা.) ছিলেন একজন শান্তিপ্রিয় ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি। তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো যুক্তির মাধ্যমে সমাধান করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ওই সবগুলো মিথ্যা অভিযোগ হওয়ায় বিরোধীরা এ বিষয়ে এগিয়ে আসেননি। তাই সহজেই বুঝা যায় অভিযোগগুলো ছিল মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

শাসক 'ক' ছিলেন একজন সরলমনা ও প্রজাবৎসল শাসক। তিনি সবসময় অহেতুক রক্তপাত এড়িয়ে যেতেন। তার এ সরলতার সুযোগ নিয়ে একদল বিপথগামী জনতা তার বিরুদ্ধে কতিপয় অভিযোগ এনে বিদ্রোহ শুরু করে। তিনি এই বিদ্রোহ কঠোর হস্তে দমন না করায় আস্তে আস্তে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

ক.

'সাইফুল্লাহ' কার উপাধি?

খ.

'মজলিশ-উস-শুরা' বলতে কী বোঝায়?

গ.

উদ্দীপকের শাসকের সাথে ইসলামের কোন খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

উক্ত খলিফার উপর আনীত অভিযোগ সম্পর্কে তোমার মতামত যুক্তির আলোকে তুলে ধর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Garden of Death' বলা হয় কাকে?

অটোমান সুলতান মহামতি সুলাইমান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর থেকে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এবং ...

অমুসলমানদের ভূমি কর কোনটি?

আফজাল মিয়া একটি সিরামিক ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধার। তার বিরুদ্ধে দুটি মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়। তিনি তার আপনজনদেরকে প্রতিষ্ঠানে...

আবু জার আল গিফারী (রা.) মুসলমানদের যে জীবনযাপনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে কঠোর প্রতিবাদ করেন-) i. সাদাসিধে জীবন ii. জাঁকজমকপূর্ণ ঐশ...

আবু বকর (রা.)-কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়- i. শিশু ইসলামি রাষ্ট্রকে রক্ষা ii. রিদ্দার যুদ্ধে জয় iii. মিরাজের ঘটনা বিশ্ব...

আবু বকর (রা.) কত খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন?

আবু বকর (রা.) কত হিজরিতে পারস্যে সামরিক অভিযান প্রেরণ করেন ?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।