Facebook Pixel

শাসক 'ক' ক্ষমতারোহণ করেই দুর্নীতির অভিযোগে বেশ কিছু প্রাদেশিক গভর্নরকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন। প্রায় সকলেই উক্ত আদেশ মান্য করলেও একজন গভর্নর ঔদ্ধত্যভাবে সে আদেশ প্রত্যাখ্যান করেন। শুধু তাই নয় উক্ত গভর্নর সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত হন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে পরাজয় নিশ্চিত জেনে কোরআন শরিফ প্রদর্শন করে যুদ্ধ কন্ধ করার কৌশল গ্রহণ করেন। ক. উহুদের যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়? খ. মদিনা সনদের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর। গ. উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যুদ্ধের বিবরণ দাও। ঘ. উক্ত যুদ্ধের ফলে মুসলিম সাম্রাজ্যে কী কী সমস্যার উদ্ভব হয়েছিল ব্যাখ্যা কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ খুলাফায়ে রাশেদিন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. উহুদেরা যুদ্ধ ৬২৫ সালে সংঘটিত হয়। খ. মহানবি হযরত মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক প্রণীত মদিনা সনদ বিশ্বের ইতিহাসে সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান। তাঁর পূর্বে কোনো প্রশাসক বা নবি তাঁর জাতিকে লিখিত সংবিধান দিতে পারেনি। তাই আধুনিক ঐতিহাসিকগণ এটিকে 'The first written constitution' হিসেবে আখ্যায়িত 'আরবের ম্যাগনাকার্টা' বলে অভিহিত করেছেন। হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর মদিনা পরিচালনার ভার অর্পিত হলে তিনি গোত্রভিত্তিক শাসনব্যবস্থার বিলুপ্তি ঘোষণা করে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা ও ইসলামি স্বতন্ত্র কায়েম করেন। যা ছিল ইসলামি রাষ্ট্রের ভিত্তি। গ. উদ্দীপকের সাথে ৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিফফিনের যুদ্ধের সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকের ঘটনা হযরত আলী (রা.) ও মুয়াবিয়ার মধ্যকার সংঘর্ষকে নির্দেশ করে। জনাব 'ক' ক্ষমতা গ্রহণ করে দুর্নীতির অভিযোগে বেশকিছু প্রাদেশিক গভর্নরকে বরখাস্ত করেন। তবে পূর্ববর্তী খলিফার নিযুক্ত একজন প্রাদেশিক শাসক পদত্যাগ অস্বীকৃতি জানালে সশস্ত্র যুদ্ধ হয়। যা হযরত আলী (রা.) ও মুয়াবিয়া বিরোধের অনুরূপ। হযরত আলী (রা) হযরত উসমান (রা)-এর হত্যাকান্ডের পর ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম জাহানের খলিফা নিযুক্ত হন। তিনি বিশৃঙ্খল অবস্থায় ক্ষমতা গ্রহণ করে রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আনার জন্য কতিপয় প্রাদেশিক গভর্নরদের বরখাস্ত করেন। কিন্তু সিরিয়ার গভর্নর মুয়াবিয়া খলিফার আদেশ মানতে অস্বীকার করে। তাছাড়া হযরত আলী (রা) মুয়াবিয়াকে হযরত উসমান (রা)-এর সময়ে অর্জিত সকল সম্পত্তি রাজকোষে ফিরিয়ে দেবার আদেশ দিলে মুয়াবিয়া (রা) তা প্রত্যাখ্যান করে বিদ্রোহ করে। মুয়াবিয়া (রা) হযরত আলী (রা)-এর আদেশ মানতে অস্বীকার করেন এবং তার সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। হযরত আলী (রা) মুয়াবিয়ার অবাধ্যতা, ধৃষ্টতা ও খিলাফতের প্রতি উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমনের জন্য ৫০ হাজার সৈন্য নিয়ে সিফফিন নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন। মুয়াবিয়াও ৬০ হাজার সৈন্য নিয়ে সিফফিনের প্রান্তরে হযরত আলী (রা)-এর সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। যা ইতিহাসে সিফফিনের যুদ্ধ নামে পরিচিত। মুয়াবিয়া (রা)-এ যুদ্ধে পরাজয়ের আভাস পেয়ে সেনাপতি আমরের পরামর্শে বর্শার মাথায় কুরআন শরিফ ঝুলিয়ে সন্ধি প্রার্থনা করলে যুদ্ধ বন্ধ হয়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের ঘটনা হযরত আলী মুয়াবিয়ার সিফফিনের যুদ্ধকে নির্দেশ করে। ঘ. উক্ত যুদ্ধ তথা সিফফিনের যুদ্ধের ফলে মুসলিম বিশ্বে নানা সমস্যার উদ্ভব হয়েছিল। হযরত আলী (রা) ও মুয়াবিয়ার মধ্যে ৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জুলাই সংঘটিত সিফফিনের যুদ্ধের ফলে খিলাফতের পবিত্রতা নষ্ট হয় এবং খিলাফত হযরত আলী (রা) ও মুয়াবিয়ার মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দুমাতুল জন্দলের রায় প্রহসনে রূপ নিলে হযরত আলী (রা) ও মুয়াবিয়া স্ব-স্ব পদে বহাল থাকেন। এ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে শিয়া ও খারিজি নামক দুটি উগ্র সাম্প্রদায়িক দলের সৃষ্টি হয় এবং তারা সমগ্র খিলাফতে অরাজকতা ও গোলযোগ সৃষ্টি করে। মুয়াবিয়া সিরিয়ায় নিজের ক্ষমতা সুসংহত করে খিলাফত লাভের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে এবং কুরাইশ বংশের হাশেমি শাখার পরিবর্তে উমাইয়া শাখাকে প্রাধান্য দিতে থাকে। অপরদিকে আলী (রা) মদিনা থেকে মুসলিম জাহানের রাজধানী কুফাতে স্থানান্তর করলে মদিনার মর্যাদা হ্রাস পায় এবং মদিনাবাসীরা হযরত আলী (রা)-কে সহযোগিতা প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়। এ যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে হযরত আলী (রা) ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ জানুয়ারি শাহাদাত বরণ করেন। তার মৃত্যুর সাথে সাথে খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগের অবসান ঘটে এবং মুয়াবিয়া কর্তৃক ক্ষমতা গ্রহণের মাধ্যমে খিলাফতের পরিবর্তে উমাইয়া রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত হয় ও খলিফার পদ বংশানুক্রমিক হয়ে যায়। পরিশেষে বলা যায়, ৬৫৭ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত সিফফিনের যুদ্ধের ফলস্বরূপ মুসলিম জাহানের শাসনক্ষমতা আলী (রা) ও মুয়াবিয়ার মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয়। উমাইয়া-হাশেমি দ্বন্দ্ব তৈরি হয় এবং মুয়াবিয়া ক্ষমতা গ্রহণ করলে সত্য ও ন্যায়ের যুগের অবসান হয় এবং বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

শাসক 'ক' ক্ষমতারোহণ করেই দুর্নীতির অভিযোগে বেশ কিছু প্রাদেশিক গভর্নরকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেন। প্রায় সকলেই উক্ত আদেশ মান্য করলেও একজন গভর্নর ঔদ্ধত্যভাবে সে আদেশ প্রত্যাখ্যান করেন। শুধু তাই নয় উক্ত গভর্নর সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত হন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে পরাজয় নিশ্চিত জেনে কোরআন শরিফ প্রদর্শন করে যুদ্ধ কন্ধ করার কৌশল গ্রহণ করেন।

ক.

উহুদের যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?

খ.

মদিনা সনদের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।

গ.

উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ যুদ্ধের বিবরণ দাও।

ঘ.

উক্ত যুদ্ধের ফলে মুসলিম সাম্রাজ্যে কী কী সমস্যার উদ্ভব হয়েছিল ব্যাখ্যা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Garden of Death' বলা হয় কাকে?

অটোমান সুলতান মহামতি সুলাইমান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর থেকে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এবং ...

অমুসলমানদের ভূমি কর কোনটি?

আফজাল মিয়া একটি সিরামিক ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধার। তার বিরুদ্ধে দুটি মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়। তিনি তার আপনজনদেরকে প্রতিষ্ঠানে...

আবু জার আল গিফারী (রা.) মুসলমানদের যে জীবনযাপনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে কঠোর প্রতিবাদ করেন-) i. সাদাসিধে জীবন ii. জাঁকজমকপূর্ণ ঐশ...

আবু বকর (রা.)-কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়- i. শিশু ইসলামি রাষ্ট্রকে রক্ষা ii. রিদ্দার যুদ্ধে জয় iii. মিরাজের ঘটনা বিশ্ব...

আবু বকর (রা.) কত খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন?

আবু বকর (রা.) কত হিজরিতে পারস্যে সামরিক অভিযান প্রেরণ করেন ?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।