ক.
বাংলাদেশে সমাজকর্ম শিক্ষা ১৯৫৩ সালে যাত্রা শুরু করে।
খ.
কেস ম্যানেজমেন্ট বলতে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির সমস্যার আলোকে কতিপয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তির সম্পদ ও সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত এবং সমস্যা মোকাবিলায় ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করে তোলাকে বোঝায়। কেস ম্যানেজমেন্ট সোসাইটি অব অস্ট্রেলিয়া (২০১৩)-এর মতে, "কেস ম্যানেজমেন্ট এমন একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া, যা ব্যক্তির সামগ্রিক চাহিদার প্রেক্ষিতে কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমে সম্পদের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করে এবং গুণগত মান বজায় রেখে সমস্যা নির্ণয়, পরিকল্পনা প্রণয়ন, সহায়তা প্রদান ও উপদেশ দিয়ে থাকে।"
গ.
উদ্দীপকে শামীম সমাজকর্মের মাঠকর্ম কার্যক্রমে নিয়োজিত।
সমাজকর্ম একটি ব্যবহারিক সামাজিক বিজ্ঞান। এজন্য সমাজকর্মের ব্যবহারিক দিকগুলোকে বাস্তবে ফুটিয়ে তোলার জন্য প্রয়োজন মাঠকর্ম। মাঠকর্ম হলো সমাজকর্মের এমন একটি দিক যেখানে সমাজকর্মের তাত্ত্বিক জ্ঞান মাঠ পর্যায়ে নিয়ে প্রয়োগ করা হয়। অর্থাৎ মাঠকর্ম হলো তাত্ত্বিক জ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগ। সমাজকর্ম অভিধানের ভাষায়, মাঠকর্ম হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পেশাগত শিক্ষার একটি অংশ, যার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে শ্রেণিভিত্তিক অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে সাহায্যার্থীর সাথে প্রত্যক্ষ অনুশীলনের প্রয়োগ করা হয়। মোটকথা, সমাজকর্মের শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে যে তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করে তার বাস্তব অনুশীলনের জন্য কোনো একটি সমাজসেবা প্রতিষ্ঠানে দুজন তত্ত্বাবধায়কের তত্ত্বাবধানে কাজ করে থাকে, যা পেশাগত দক্ষতা ও যোগ্যতা সৃষ্টির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ পেশাদার সমাজকর্মী হিসেবে গড়ে তোলে। এই ধারাবাহিক ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বলা হয়। উদ্দীপকে শামীম বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক বিষয়গুলো অর্জন করে হাসপাতালে সেই জ্ঞান প্রয়োগের জন্য প্রেরিত হন। এখানে মাঠকর্মের বৈশিষ্ট্যের সাথে শামীমের কর্মের বৈশিষ্ট্য মিলে যায়। দ্বিতীয়ত, সম্মান ও মাস্টার্স উভয় ক্লাসের জন্যই ৬০ কার্যদিবস মাঠকর্মের ব্যবস্থা সমাজকর্মেই রয়েছে, যা উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
তাই বলা যায়, শামীম সমাজকর্মের মাঠকর্মে নিয়োজিত।
ঘ.
পেশাদার সমাজকর্মীদের যোগ্যতা ও দক্ষতার উন্নয়নে মাঠকর্ম অনুশীলনের বিকল্প নেই।
মাঠকর্ম সমাজকর্মের মূল শিক্ষাক্ষেত্র। সমাজকর্ম ব্যবহারিক বিজ্ঞান হওয়ায় বাস্তবক্ষেত্রে কর্ম সম্পাদনের যোগ্যতাই প্রধান বিষয়। সেক্ষেত্রে মাঠকর্ম বাস্তব প্রয়োগ ক্ষেত্রে জ্ঞানের আধার। শামীম স্নাতক বা স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে যে তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জন করেছে, তা ব্যবহারিক - ক্ষেত্রে প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করে দেয় মাঠকর্ম। শিক্ষার্থীরা ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা মোকাবিলার, কীভাবে সমাজকর্মের পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করতে হয় সে সম্পর্ক জানতে পারে। মাঠকর্মের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান প্রক্রিয়া; যেমন- অনুধ্যান, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা ইত্যাদি বিষয় শিক্ষার্থীর নিকট তুলে ধরে। ব্যক্তি ও দলের অবস্থা পরিবর্তনে সহায়তাকারী ও অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে নিজেদের সচেতন ও নিয়মানুবর্তী হিসেবে গড়ে তোলে। বাস্তব অনুশীলনের ক্ষেত্রে সমাজকর্মের বিভিন্ন তত্ত্ব ও নীতিমালা ব্যবহারে শিক্ষার্থীরা সচেষ্ট হয়। সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা অর্জিত জ্ঞানের আলোকে সমাজকর্মের বিভিন্নমুখী পদ্ধতি, দক্ষতা ও কৌশলসমূহ ব্যবহারে উদ্যোগী হয়। মাঠকর্মের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক কার্যাবলি ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পারে। ফলে তারা অফিস পরিচালনাসহ প্রশাসনিক কার্যাবলি পরিচালনা করতে সক্ষম হয়। শিক্ষার্থীগণ সমষ্টি কাঠামো ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করে থাকে। ফলে সে সমষ্টির উন্নয়নে সমষ্টির সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারে সক্ষম হয়। শিক্ষার্থীরা হাতেকলমে সমস্যা নিরূপণ বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে পেশাদার সমাজকর্মী হয়ে ওঠে। সমাজকর্মের জ্ঞান পৃথিবীর সর্বত্র এক হলেও প্রয়োগ ক্ষেত্র দেশ বা অঞ্চলভেদে বিভিন্ন হয়ে থাকে। তাই মাঠকর্ম স্বতন্ত্র অবস্থা বিবেচনায় সমাজকর্মের জ্ঞান প্রয়োগের দক্ষতা তৈরি করে দেয়।
মোটকথা, মাঠকর্ম একজন পেশাদার সমাজকর্মীর যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনের প্রধান উপায়।