Facebook Pixel

শেখ আল হাসান বিন সাদ ক্ষমতা গ্রহণের পর রাষ্ট্রীয় প্রশাসনব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করার উদ্যোগ নেন। স্থানীয়, প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা পুনর্বিন্যাসকালে তার পূর্ববর্তী শাসনামলে নিযুক্ত একজন প্রাদেশিক শাসনকর্তার সাথে তিনি বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। উক্ত প্রাদেশিক শাসনকর্তা কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অমান্য করে প্রাদেশিক শাসনকর্তার পদ হতে পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেন। এতে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক শাসকের মধ্যে সশস্ত্র যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ক. আসাদুল্লাহ শব্দের অর্থ কী? খ. খারেজি কারা? গ. উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পঠিত খলিফা ও তার প্রাদেশিক শাসকের মধ্যে সংঘটিত বিরোধের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংঘর্ষের ফলাফল বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ খুলাফায়ে রাশেদিন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. আসাদুল্লাহ শব্দের অর্থ আল্লাহর সিংহ। খ. হযরত আলী (রা)-এর শাসনামলে দুমাতুল জন্দলের সালিসি রায় অমান্য করে একটি দল তার পক্ষ ত্যাগ করে যারা ইতিহাসে খারিজি নামে পরিচিত। খারিজি শব্দের অর্থ দলত্যাগী। দুমাতুল জন্দলের রায়কে প্রত্যাখ্যান করে হযরত আলী (রা)-এর পক্ষের কিছু লোক তাকে যুদ্ধ করতে পরামর্শ দেয়। হযরত আলী তাদের পরামর্শ অগ্রাহ্য করলে তারা তার দল ত্যাগ করে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ইতিহাসে এরা খারিজি নামে পরিচিত। তারা উগ্র ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মতবাদে বিশ্বাসী। তারা নাহরায়নের যুদ্ধে আলী (রা)-এর কাছে পরাজিত হয়ে রাজ্যময় ছড়িয়ে পড়ে এবং তাদের মতবাদ প্রচার করে। তারা কোনো রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে না পেরে পরবর্তীতে ধর্মীয় সম্প্রদায়ে পরিণত হয়। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সংঘর্ষ দ্বারা আমার পঠিত সিফফিনের সংঘর্ষের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। হযরত আলী (রা) হযরত উসমান (রা)-এর হত্যাকান্ডের পর ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম জাহানের খলিফা নিযুক্ত হন। তিনি বিশৃংখল অবস্থায় ক্ষমতা গ্রহণ করে রাজ্যে শান্তি-শৃংখলা ফিরে আনার জন্য হযরত উসমান (রা) কর্তৃক নিযুক্ত প্রাদেশিক গভর্নরদের বরখাস্ত করেন। কিন্তু সিরিয়ার গভর্নর মুয়াবিয়া খলিফার আদেশ মানতে অস্বীকার করে। তাছাড়া হযরত আলী (রা) মুয়াবিয়াকে হযরত-উসমান (রা)-এর সময়ে অর্জিত সকল সম্পত্তি রাজকোষে ফিরিয়ে দেবার আদেশ দিলে মুয়াবিয়া (রা) তা প্রত্যাখান করে বিদ্রোহ করে। হযরত আলী (রা) মুয়াবিয়ার অবাধ্যতা, ধৃষ্টতা ও খিলাফতের প্রতি উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমনের জন্য ৫০ হাজার সৈন্য নিয়ে সিফফিন নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন। মুয়াবিয়াও ৬০ হাজার সৈন্য নিয়ে সিফফিনের প্রান্তরে হযরত আলী (রা)-এর সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। যা ইতিহাসে সিফফিনের যুদ্ধ নামে পরিচিত। মুয়াবিয়া (রা)-এ যুদ্ধে পরাজয়ের আভাস পেয়ে সেনাপতি আমরের পরামর্শে বর্শার মাথায় কুরআন শরিফ বুঝুলিয়ে সন্ধি প্রার্থনা করলে যুদ্ধ বন্ধ হয়। উদ্দীপকের শামসুল হক ও গভর্নর ইলিয়াসের মধ্যে সংঘটিত ঘটনাপ্রবাহ ও যুদ্ধ হযরত আলী (রা) ও মুয়াবিয়া (রা)-এর মধ্যে সংঘটিত সিফফিনের যুদ্ধের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা গভর্নর ইলিয়াসের মতো মুয়াবিয়া (রা) হযরত আলী (রা)-এর আদেশ মানতে অস্বীকার করেন এবং তার সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। অতএব উদ্দীপকের শামসুল হক ও তার গভর্নর ইলিয়াসের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধের সাথে ৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দে হযরত আলী (রা) ও মুয়াবিয়ার মধ্যে সংঘটিত সিফফিনের যুদ্ধের ঘটনার মিল রয়েছে। ঘ. উদ্দীপকের শাসক শামসুল হক ও গভর্নর ইলিয়াসের মধ্যে সংঘর্ষের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হযরত আলী ও মুয়াবিয়া (রা)-এর মধ্যে সংঘটিত সিফফিনের সংঘর্ষের ফলাফল ছিল মুসলিম জাহানের জন্য বেদনাদায়ক। হযরত আলী (রা) ও মুয়াবিয়ার মধ্যে ৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জুলাই সংঘটিত সিফফিনের যুদ্ধের ফলে খিলাফতের পবিত্রতা নষ্ট হয় এবং খিলাফত হযরত আলী (রা) ও মুয়াবিয়ার মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দুমাতুল জন্দলের রায় প্রহসনে রূপ নিলে হযরত আলী (রা) ও মুয়াবিয়া স্ব-স্ব পদে বহাল থাকেন। এ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে শিয়া ও খারিজি নামক দুটি উগ্র সাম্প্রদায়িক দলের সৃষ্টি হয় এবং তারা সমগ্র খিলাফতে অরাজকতা ও গোলযোগ সৃষ্টি করে। মুয়াবিয়া সিরিয়ায় নিজের ক্ষমতা সুসংহত করে খিলাফত লাভের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে এবং কুরাইশ বংশের হাশেমি শাখার পরিবর্তে উমাইয়া শাখাকে প্রাধান্য দিতে থাকে। অপরদিকে আলী (রা) মদিনা থেকে মুসলিম জাহানের রাজধানী কুফাতে স্থানান্তর করলে মদিনার মর্যাদা হ্রাস পায় এবং মদিনাবাসীরা হযরত আলী (রা)-কে সহযোগিতা প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়। এ যুদ্ধের ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে হযরত আলী (রা) ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ জানুয়ারি শাহাদত বরণ করেন। তার মৃত্যুর সাথে সাথে খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগের অবসান ঘটে এবং মুয়াবিয়া কর্তৃক ক্ষমতা গ্রহণের মাধ্যমে খিলাফতের পরিবর্তে উমাইয়া রাজবংশ প্রতিষ্ঠিত হয় ও খলিফার পদ বংশানুক্রমিক হয়ে যায়। পরিশেষে বলা যায়, ৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত সিফফিনের যুদ্ধের ফলস্বরূপ মুসলিম জাহানের শাসনক্ষমতা আলী (রা) ও মুয়াবিয়ার মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে আলী (রা)-এর মৃত্যুর পর মুয়াবিয়া ক্ষমতা গ্রহণ করলে সত্য ও ন্যায়ের যুগের অবসান হয় এবং বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

শেখ আল হাসান বিন সাদ ক্ষমতা গ্রহণের পর রাষ্ট্রীয় প্রশাসনব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করার উদ্যোগ নেন। স্থানীয়, প্রাদেশিক ও কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা পুনর্বিন্যাসকালে তার পূর্ববর্তী শাসনামলে নিযুক্ত একজন প্রাদেশিক শাসনকর্তার সাথে তিনি বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। উক্ত প্রাদেশিক শাসনকর্তা কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশ অমান্য করে প্রাদেশিক শাসনকর্তার পদ হতে পদত্যাগ করতে অস্বীকার করেন। এতে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক শাসকের মধ্যে সশস্ত্র যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

ক.

আসাদুল্লাহ শব্দের অর্থ কী?

খ.

খারেজি কারা?

গ.

উদ্দীপকের ঘটনার সাথে তোমার পঠিত খলিফা ও তার প্রাদেশিক শাসকের মধ্যে সংঘটিত বিরোধের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংঘর্ষের ফলাফল বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Garden of Death' বলা হয় কাকে?

অটোমান সুলতান মহামতি সুলাইমান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর থেকে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এবং ...

অমুসলমানদের ভূমি কর কোনটি?

আফজাল মিয়া একটি সিরামিক ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধার। তার বিরুদ্ধে দুটি মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়। তিনি তার আপনজনদেরকে প্রতিষ্ঠানে...

আবু জার আল গিফারী (রা.) মুসলমানদের যে জীবনযাপনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে কঠোর প্রতিবাদ করেন-) i. সাদাসিধে জীবন ii. জাঁকজমকপূর্ণ ঐশ...

আবু বকর (রা.)-কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়- i. শিশু ইসলামি রাষ্ট্রকে রক্ষা ii. রিদ্দার যুদ্ধে জয় iii. মিরাজের ঘটনা বিশ্ব...

আবু বকর (রা.) কত খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন?

আবু বকর (রা.) কত হিজরিতে পারস্যে সামরিক অভিযান প্রেরণ করেন ?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।