ক.
'ফ্যাসিও' শব্দের অর্থ হলো 'বল' বা 'শক্তি'।
খ.
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে একটি আন্তর্জাতিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা ইতিহাসে প্যারিস শান্তিচুক্তি হিসেবে পরিচিত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ফ্রান্স দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালি, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, ফিনল্যান্ডের মতো তুলনামূলকভাবে ছোট ও দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর সাথে শান্তিচুক্তির বিষয়ে আলোচনা করে। এ শান্তিচুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল যুদ্ধের ক্ষতিপুরণ, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের অবসানসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক সমন্বয় সাধনের প্রতিশ্রুতি।
গ.
উদ্দীপকে উল্লিখিত নেতার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের নেতা এডলফ হিটলার মিল রয়েছে।
এডলফ হিটলার ১৯২৩ সালে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করেন। প্রখ্যাত জার্মান সেনাপতি লুডেনডর্ফও এ ক্ষমতা দখলের চেষ্টায় যোগ দিয়েছিলেন। তাদের এ অভ্যুত্থান ব্যর্থ হয়। হিটলার পাঁচ বছরের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেও নয় মাস পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। কারাবাসের সময়ই তার জীবনী মেইন ক্যামফ (Mein Kampt) রচিত হয়। এ গ্রন্থের প্রধান উপজীব্য বিষয় হলো নাৎসিবাদ। গ্রন্থটিতে নাৎসি দলের মহাদর্শ প্রকাশিত হয়েছে। নাৎসিদের কাছে প্রশ্নটি ছিল বাইবেলের মতো। ১৯২৯ সালের মন্দা নাৎসি দলের জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার এক নতুন যুগ এনে দিল। এসময় হিটলার ইয়ং পরিকল্পনার বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য জাতীয়তাবাদী হুগেনবের্গের সঙ্গে একটি চুক্তি করেন। ফলে হিটলারের পক্ষে দেশের সকল মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হলো। সরকারের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতির ব্যর্থতার জন্য হিটলার নিরবচ্ছিন্ন প্রচার ও গণআন্দোলন চালাতে লাগলেন। নির্বাচনে নাৎসিদের সংখ্যা বাড়তে লাগল। ১৯৩০ সালের নির্বাচনে নাৎসিরা ৬,০০০,০০০ মিলিয়ন ভোট পেল। সংসদে তারা দ্বিতীয় বৃহৎ রাজনৈতিক দলে পরিণত হলো।
উদ্দীপকে এক নেতা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করতে যেয়ে ব্যর্থ হয়। বিচারে তার জেল হয়। জেলখানায় তিনি একটি বই লিখেন যা তার দলের বাইবেল হিসেবে খ্যাত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের নেতার সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের হিটলারের মিল রয়েছে।
ঘ.
উক্ত নেতা অর্থাৎ হিটলারের উত্থান বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছিল।
হিটলারের মূল লক্ষ্য ছিল ভার্সাই সন্ধির অভিশাপ থেকে জার্মান জাতিকে মুক্ত করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জার্মানির শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করা। নাৎসি তত্ত্বে বলা হয়েছিল জার্মানরা আর্য জাতির বংশধর। আর্যদের মধ্যে নর্ডিকগণ'ই শ্রেষ্ঠ। সুতরাং 'নর্ডিক' আর্য হওয়ার কারণে জার্মান জাতির দায়িত্বই হলো বিশ্বকে পদানত করে শাসন করা। এভাবে নাৎসিরা উগ্র জার্মান জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগ্রত করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তার পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিল।
১৯৩০ সালে জার্মানি জাতিপুঞ্জের সদস্যপদ পরিত্যাগ করে। অতঃপর হিটলার ভার্সাই সন্ধি লঙ্ঘন করে ফ্রান্সের নিকট তার আলসাম ও লোরেন, সার অঞ্চল এবং পোল্যান্ডের নিকট 'ডানজিগ বন্দর ও পোলিশ করিডোর ফেরত চান। ১৯৩৬ সালে হিটলার রাইনল্যান্ড দখল করে নেন। একই বছর হিটলার 'রোম-বার্লিন' চুক্তি করে আবিসিনিয়ায় ইতালীয় যুদ্ধকে সমর্থন জানায়। একই বছর নভেম্বরে হিটলার জাপানের সাথে কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তির মাধ্যমে ইতালি- জার্মানি-জাপান ত্রিশক্তি জোট গড়ে তোলেন যা ইতিহাসে অক্ষশি নামে পরিচিত। অতঃপর হিটলার চেকোস্লোভাকিয়ার 'সুদেতেন অঞ্চলের দিকে নজর দেন। এ জেলাতে সাড়ে তিন মিলিয়ন জার্মান অধিবাসী ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ। হিটলারের নির্দেশে নাৎসিরা জার্মান-চেক সীমান্তে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে এ অজুহাতে জার্মানি সুদেতেন অঞ্চল দখল করে নেয়। এভাবে হিটলারের নেতৃত্বে জার্মান বাহিনী একে একে ভার্সাই সন্ধি লঙ্ঘন করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পূর্ববর্তী জার্মান সীমানার প্রায় সমস্ত অঞ্চল পুনরাধিকার করতে সক্ষম হয়। জার্মানি পোল্যান্ডের দিকে নজর দেয়। পোল্যান্ড আক্রমণের পূর্বে হিটলার একের পর এক কৌশলী নীতি প্রয়োগ করে রাশিয়াকে পশ্চিমা মিত্রদের নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। অতঃপর ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর হিটলার জার্মান বাহিনীকে পোল্যান্ড আক্রমণের নির্দেশ দিলে ওই বছরই ৩ সেপ্টেম্বর ইঙ্গ-ফরাসি বাহিনী জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এভাবে শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
অতএব বলা যায়, হিটলারের উত্থান বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল ।