(ক)
যে আরোহ অনুমানে আরোহমূলক লম্ফের সাহায্যে কতিপয় জানা আশ্রয়বাক্য থেকে অজানা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাকে প্রকৃত আরোহ বলে।
(খ)
অবৈজ্ঞানিক আরোহে অনুকূল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কোনো অবস্থায় যদি একটি প্রতিকূল দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, তবে সিদ্ধান্তটি ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয়। এ জাতীয় ভ্রান্ত সিদ্ধান্তকে অবৈধ সামান্যীকরণ বা সার্বিকীকরণ বলে।
অবৈধ সামান্যীকরণ এক প্রকার ভ্রান্ত অনুমান। যেমন, ঢাকা শহরের কিছু কাক দেখে বলা হলো 'সকল কাক হয় কালো'। কিন্তু যখন অস্ট্রেলিয়ায় সাদা কাকের সন্ধান পাওয়া যায়, তখন উক্ত সিদ্ধান্তটি ভ্রান্ত হিসেবে প্রমাণিত হয়। এরূপ ভ্রান্ত সিদ্ধান্তের কারণে যে অনুপপত্তি ঘটে, তাকে অবৈধ সামান্যীকরণ বলে।
(গ)
উদ্দীপকটি অপ্রকৃত আরোহের প্রকার হিসেবে পূর্ণাঙ্গ আরোহকে প্রকাশ করেছে।
যে আরোহ অনুমানে সকল দৃষ্টান্তের পর্যবেক্ষণ বা নিরীক্ষণের ভিত্তিতে সার্বিক যুক্তিবাক্য প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে। যেমন, একটি ঝুড়িতে রাখা ১৫টি আঙ্গুরের স্বাদ পরীক্ষা করে বলা হলো 'ঝুড়ির সকল আঙ্গুর হয় টক'। এই সার্বিক বাক্যটির সত্যতা পরীক্ষার জন্য স্বতন্ত্রভাবে প্রতিটি আঙ্গুর খেয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে, তাই এটি পূর্ণাঙ্গ আরোহের দৃষ্টান্ত।
উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনায়, রুমি ঝুড়ির প্রতিটি আম পরীক্ষা করে দেখল যে, প্রতিটি আমই মিষ্টি। অতএব, এই ঝুড়ির সকল আম হয় মিষ্টি। এখানে ঝুড়ির প্রতিটি আম যাচাই করে এরূপ সার্বিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া হয়েছে। এ কারণে উদ্দীপকে পূর্ণাঙ্গ আরোহের দৃষ্টান্ত প্রতিফলিত হয়েছে।
(ঘ)
উদ্দীপকে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ আরোহের সাথে বৈজ্ঞানিক আরোহের পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:
প্রথমত, বৈজ্ঞানিক আরোহে আরোহমূলক লম্ফ উপস্থিত থাকে, এ কারণে বৈজ্ঞানিক আরোহকে প্রকৃত আরোহ বলা হয়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহে আরোহমূলক লম্ফ অনুপস্থিত থাকে, তাই পূর্ণাঙ্গ আরোহ হলো অপ্রকৃত আরোহ।
দ্বিতীয়ত, বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত একটি প্রকৃত সার্বিক যুক্তিবাক্য। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহের সিদ্ধান্ত দেখতে সার্বিক যুক্তিবাক্যের মতো মনে হলেও আসলে সেটি কেবল নির্দিষ্ট দৃষ্টান্তের সমষ্টি মাত্র, প্রকৃত সার্বিক যুক্তিবাক্য নয়।
তৃতীয়ত, বৈজ্ঞানিক আরোহ কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভরশীল। এতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে ঘটনাবলিকে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দুটি ঘটনার মধ্যে একটি কার্যকারণ সম্পর্ক আবিষ্কার করা হয়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহ কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভরশীল নয়; এতে কেবল দৃষ্টান্ত গণনার মাধ্যমে সরাসরি সিদ্ধান্তে গমন করা হয়।
চতুর্থত, পূর্ণাঙ্গ আরোহে সিদ্ধান্ত গ্রহণকালে কোনো বিশেষ স্তর বা পর্যায় অনুসরণ করা হয় না, তাই এই আরোহ একটি সরল প্রক্রিয়া। কিন্তু বৈজ্ঞানিক আরোহে সিদ্ধান্ত গ্রহণকালে নিরীক্ষণ, পরীক্ষণ, বিশ্লেষণ, অপনয়ন এবং প্রকল্প গঠন প্রভৃতি স্তর অতিক্রম করে সিদ্ধান্ত গঠন করতে হয়। তাই বৈজ্ঞানিক আরোহ একটি জটিল প্রক্রিয়া, যা সবাই সহজে সম্পন্ন করতে পারে না।
পরিশেষে বলা যায়, পূর্ণাঙ্গ আরোহ ও বৈজ্ঞানিক আরোহ দুটি ভিন্ন প্রকৃতির আরোহ হলেও জ্ঞানের প্রসারে ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে উভয় অনুমানের গুরুত্ব অপরিসীম।