(ক)
নারী নির্যাতন বলতে নারীদের ওপর শারীরিক, মানসিক, যৌন বা অর্থনৈতিক যেকোনো ধরনের নিপীড়ন বা সহিংসতাকে বোঝায়।
(খ)
সামাজিক আইন ও সমাজ সংস্কার পরস্পর সম্পর্কিত একটি বিষয়। সামাজিক আইন হলো রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণীত সেই সব নিয়মকানুন, যা সমাজের কুসংস্কার, কুপ্রথা ও ক্ষতিকর আচরণ দূর করে একটি নিরাপদ ও কল্যাণকর সমাজ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করে। অন্যদিকে, সমাজ সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য হলো সমাজে প্রচলিত ক্ষতিকর রীতিনীতি, প্রথা বা প্রতিষ্ঠান যা সমাজের জন্য অমঙ্গলজনক, সেগুলোকে পরিবর্তন বা দূর করা।
প্রকৃতপক্ষে, সমাজ সংস্কারের লক্ষ্য অর্জনে অনেক সময় আইনের প্রয়োজন হয়, আবার আইনের প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজ সংস্কার ত্বরান্বিত হয়। যেমন, বাল্যবিবাহ রোধে আইন প্রণয়ন করা হলে তা সমাজ সংস্কারের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ, সামাজিক আইন ও সমাজ সংস্কার উভয়ের লক্ষ্যই হলো সমাজ থেকে কুপ্রথা ও কুসংস্কার দূর করা, তাই এরা পরস্পর সম্পর্কিত।
(গ)
উদ্দীপকে যে সামাজিক সমস্যার ইঙ্গিত পাওয়া যায় তা হলো মাদকাসক্তি।
সাধারণভাবে মাদকাসক্তি বলতে মাদকদ্রব্যের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্ভরশীলতাকে বোঝায়। মাদক হলো প্রাকৃতিক বা বৈজ্ঞানিক উপায়ে তৈরি এমন কোনো দ্রব্য, যা নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া বারবার সেবন করলে মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে এবং ওই দ্রব্যের ওপর নির্ভরশীলতা সৃষ্টি করে। এর ফলে আসক্ত ব্যক্তির আচার-আচরণে অসামাঞ্জস্যতা দেখা দেয় এবং সে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেকে বিচ্যুত হয়। বাংলাদেশে ১৯৬৯ সালে প্রণীত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশে মাদকাসক্ত বলতে দৈহিক বা মানসিকভাবে মাদকদ্রব্যের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তি বা অভ্যাসবশে মাদকদ্রব্য ব্যবহারকারী ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাসেল বার্ষিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার ফলে হতাশ হয়ে পড়ে এবং খারাপ বন্ধুদের প্রভাবে নেশায় আসক্ত হয়। রাসেলের এই নেশা করার প্রবণতা এবং হতাশা থেকে মাদকদ্রব্যের দিকে ঝুঁকে পড়া স্পষ্টভাবে মাদকাসক্তি নামক সামাজিক সমস্যাকে ইঙ্গিত করে।
(ঘ)
উদ্দীপকে উল্লেখিত রাসেলের মাদকাসক্তি সমস্যা সমাধানে একজন পেশাদার সমাজকর্মী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন। মাদকাসক্তি কেবল একটি শারীরিক সমস্যা নয়, বরং এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক সমস্যা। তাই একজন সমাজকর্মী নিম্নোক্ত উপায়ে রাসেলের সমস্যা সমাধানে কাজ করতে পারেন:
প্রথমত, ব্যক্তি সমাজকর্ম বা কেসওয়ার্ক পদ্ধতির মাধ্যমে সমাজকর্মী রাসেলের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপন করবেন। রাসেলের হতাশার মূল কারণ (পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া) চিহ্নিত করে তাকে মানসিকভাবে সুস্থ করতে কাউন্সেলিং করবেন এবং তার আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবেন।
দ্বিতীয়ত, রাসেলের পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে তাদের সচেতন করবেন। মাদকাসক্ত ব্যক্তির সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য পরিবারের সমর্থন অপরিহার্য। সমাজকর্মী অভিভাবকদের বোঝাবেন যেন তারা রাসেলের প্রতি কঠোর না হয়ে সহানুভূতিশীল হন এবং তাকে একটি সুস্থ পারিবারিক পরিবেশ প্রদান করেন।
তৃতীয়ত, রাসেলের জন্য উপযুক্ত মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র বা পুনর্বাসন কেন্দ্রের ব্যবস্থা করবেন। সেখানে চিকিৎসা চলাকালীন সমাজকর্মী তার মানসিক অবস্থার তদারকি করবেন এবং তাকে মাদকদ্রব্যের কুফল সম্পর্কে সচেতন করবেন।
চতুর্থত, রাসেলের খারাপ বন্ধুদের প্রভাব থেকে তাকে দূরে সরিয়ে আনতে এবং নতুন ইতিবাচক বন্ধুত্বের পরিবেশ তৈরি করতে সহায়তা করবেন। তাকে সৃজনশীল কাজ এবং খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলবেন যাতে তার মন নেশার চিন্তা থেকে দূরে থাকে।
পঞ্চমত, সুস্থ হয়ে ওঠার পর রাসেল যেন পুনরায় নেশায় ফিরে না যায়, সেজন্য নিয়মিত ফলো-আপ বা তদারকি করবেন। তাকে পুনরায় পড়াশোনায় আগ্রহী করতে এবং শিক্ষাগত লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন।
পরিশেষে বলা যায়, একজন সমাজকর্মী গবেষক, প্রশাসক এবং থেরাপিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে রাসেলের জীবনকে অন্ধকার থেকে আলোয় ফিরিয়ে আনতে এবং তাকে সমাজের একজন সুস্থ ও উৎপাদনশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেন।