Facebook Pixel

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জনাব রাইসুল ইসলাম শ্রেণিকক্ষে আমাদের সংবিধানের সংশোধনীসমূহ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তিনি বলেন যে, সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। কিন্তু ১৯৯১ সালে আবার আরেকটি সংশোধনীর মাধ্যমে উক্ত সরকার পদ্ধতির পরিবর্তে বর্তমান সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। প্রকৃতপক্ষে, এ সংশোধনী ছিল জনগণের প্রত্যাশার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ । ক. ন্যায়পাল কী? খ. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকের শেষাংশে সংবিধানের কোন সংশোধনীর কথা বলা, হয়েছে? উক্ত সংশোধনীর বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করো। ঘ. “বর্তমান সরকার ব্যবস্থা জনগণের প্রত্যাশার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ” —উক্তিটি যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৪ঃ বাংলাদেশের সংবিধান

উৎস: Board Exam Question CB 2019

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ন্যায়পাল হলেন সংসদ কর্তৃক নিযুক্ত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যিনি সরকারি প্রশাসনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করেন। বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৭ অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল নিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে। (খ) বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে সরকারের আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের প্রভাব বা হস্তক্ষেপমুক্ত থেকে বিচারকদের স্বাধীনভাবে ও নিরপেক্ষভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করার ক্ষমতাকে বোঝায়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অর্থ হলো বিচারকরা কোনো প্রকার সামাজিক, রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক চাপের সম্মুখীন না হয়ে সংবিধান ও আইনের আলোকে রায় প্রদান করবেন। বিচার বিভাগের এই স্বাধীনতা নাগরিক অধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রধান রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। (গ) উদ্দীপকের শেষাংশে বাংলাদেশ সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর কথা বলা হয়েছে। ১৯৯১ সালে এই সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হয়। দ্বাদশ সংশোধনীর মূল বিষয়বস্তু ও বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: ১. সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা: এই সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে পুনরায় সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। ২. প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা: প্রধানমন্ত্রীকে সরকার প্রধান হিসেবে প্রকৃত নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী করা হয়। ৩. রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা: রাষ্ট্রপতিকে নিয়মতান্ত্রিক প্রধান হিসেবে রাখা হয় এবং তার ক্ষমতা হ্রাস করা হয়। ৪. উপ-রাষ্ট্রপতি পদ বিলোপ: এই সংশোধনীর মাধ্যমে উপ-রাষ্ট্রপতির পদটি বিলুপ্ত করা হয়। ৫. স্পিকারের দায়িত্ব: রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে স্পিকারের দায়িত্ব পালনের বিধান রাখা হয়। ৬. জবাবদিহিতা: শাসন বিভাগকে আইন বিভাগের নিকট সরাসরি জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়। (ঘ) বর্তমান সরকার ব্যবস্থা অর্থাৎ সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা জনগণের প্রত্যাশার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, উক্তিটি যথার্থ ও যুক্তিযুক্ত। নিচে এর সপক্ষে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো: ১. জনগণের প্রতিনিধিত্ব: সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আইনসভায় অংশগ্রহণ করেন। ফলে সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হয়। ২. দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা: সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভা তাদের প্রতিটি কাজের জন্য জাতীয় সংসদের নিকট দায়ী থাকেন। সংসদ সদস্যরা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা ও আলোচনার মাধ্যমে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতে পারেন, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে। ৩. একনায়কতন্ত্র রোধ: এই ব্যবস্থায় ক্ষমতা কোনো একক ব্যক্তির হাতে কুক্ষিগত থাকে না। মন্ত্রিসভার সম্মিলিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হয়, যা একনায়কতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ করে। ৪. গণতান্ত্রিক চর্চা: সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনা এবং সংসদের সার্বভৌমত্ব বজায় থাকে, যা দেশে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও চর্চাকে শক্তিশালী করে। পরিশেষে বলা যায়, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা জনগণের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষায় সবচেয়ে কার্যকর। তাই ১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে প্রবর্তিত এই সরকার ব্যবস্থা জনগণের প্রত্যাশার সাথে পূর্ণাঙ্গভাবে সঙ্গতিপূর্ণ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCumilla Board (2019)

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জনাব রাইসুল ইসলাম শ্রেণিকক্ষে আমাদের সংবিধানের সংশোধনীসমূহ নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তিনি বলেন যে, সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীতে দেশে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। কিন্তু ১৯৯১ সালে আবার আরেকটি সংশোধনীর মাধ্যমে উক্ত সরকার পদ্ধতির পরিবর্তে বর্তমান সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। প্রকৃতপক্ষে, এ সংশোধনী ছিল জনগণের প্রত্যাশার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ।

ক. ন্যায়পাল কী?

খ. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকের শেষাংশে সংবিধানের কোন সংশোধনীর কথা বলা, হয়েছে? উক্ত সংশোধনীর বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করো।

ঘ. “বর্তমান সরকার ব্যবস্থা জনগণের প্রত্যাশার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ” —উক্তিটি যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

‘B’ রাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ স্বাধীনতা অর্জনের পরবর্তী এক বছরের মধ্যে একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করে। এতে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনী...

P' দেশের সংবিধান গণপরিষদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সংবিধানটির প্রকৃতি হল লিখিত ও দূষ্পরিবর্তনীয়। এ সংবিধানে মৌলিক অধি...

'X' রাষ্ট্র পরিচালনার লক্ষ্যে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি মাত্র নয় মাসের মধ্যে রাষ্ট্রকে একট...

'X' রাষ্ট্রের একটি অঞ্চল স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই আশা করছিল তাদের অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন সাধিত হবে। কিন্তু তারা শাসক ...

'X' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি সংবিধান প্রণয়ন করে। সংবিধানে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন...

অধ্যাপক আফরোজা আক্তার শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে গিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশের সংবিধান লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয়। ইচ্ছে করলেই সংবিধ...

অনন্তপুর ও গইয়াতলা গ্রামের শিক্ষিত বেকার যুবকেরা অর্থনৈতিকভাবে নিজেদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়...

উক্ত '?' চিহ্নিত স্থানে স্থাপিত বিষয়টি রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হলে—

উক্ত বিষয়টি রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হলে- i. জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে ii. স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে iii. জনমতের গুরুত্ব ব...

উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও: "Y" একটি সদ্য স্বাধীনতাপ্রাপ্ত রাষ্ট্র। স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী রাজনৈতিক দ...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।