Facebook Pixel

'রায়পুর ডিগ্রি কলেজ'- এ সম্প্রতি অনার্স মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতিসহ সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের সহায়ক কোর্স হিসেবে এমন একটি বিষয় পাঠদান করা হয়। এটি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে একটি বিষয় হিসেবে থাকলেও স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে এর অস্তিত্ব এ কলেজে নেই। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে কর্তৃপক্ষ উক্ত বিষয়ে কলেজে অনার্স পর্যায়ে আলাদা একটি বিভাগ খোলে। সম্পূর্ণ ঘটনাটি উক্ত বিষয়ের কোর্স শিক্ষক জনাব তাওহিদুর রহমানকে বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে অনার্স কোর্স খোলার ঘটনা মনে করিয়ে দেয়। তিনি বলেন, “নিজ দেশের সমাজ- সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে জানার জন্য এ বিষয়ের অধ্যয়ন প্রয়োজন।” ক. বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের অগ্রপথিক কে?. খ. সামাজিক স্তরবিন্যাস সম্পর্কে জানতে হলে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান থাকা কেন প্রয়োজন? গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি বাংলাদেশের কোন বিষয়ের সূচনার কথা মনে করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর। ঘ. উদ্দীপকের তাওহিদ স্যারের মন্তব্যের সাথে তুমি কি একমত? বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার বিকাশ

উৎস: Board Exam Question Combined 2015

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের অগ্রপথিক হলেন ড. এ. কে. নাজমুল করিম এবং অজিত কুমার সেন। (খ) সামাজিক স্তরবিন্যাস বলতে সমাজের মানুষকে বিভিন্ন স্তরে বা শ্রেণিতে বিভক্ত করার প্রক্রিয়াকে বোঝায়। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ পেশা, শ্রেণি, লিঙ্গ, বর্ণ ও বংশের ভিত্তিতে বিভিন্ন স্তরে বিভক্ত হয়ে বসবাস করে আসছে। এই স্তরবিন্যাসের ফলে সমাজে বৈষম্য এবং নানাবিধ জটিল সমস্যার সৃষ্টি হয়। সমাজবিজ্ঞান এই স্তরবিন্যাসের কারণ, এর প্রভাব এবং কীভাবে এই বৈষম্য দূর করে একটি সাম্যবাদী সমাজ গঠন করা যায়, তা বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করে। তাই সামাজিক স্তরবিন্যাস সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে হলে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। (গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের সূচনার কথা মনে করিয়ে দেয়। বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯১৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে দর্শন এবং চল্লিশের দশকের শুরুতে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধীনে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে সমাজবিজ্ঞানের একটি পত্র পাঠদান শুরু হয়। উদ্দীপকের রায়পুর ডিগ্রি কলেজে সমাজবিজ্ঞান প্রথমে অন্যান্য বিভাগের সহায়তক কোর্স হিসেবে ছিল, যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিকের অবস্থার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। পঞ্চাশের দশকে প্রখ্যাত ফরাসি নৃবিজ্ঞানী ক্লদ লেভি স্ট্রস-এর নেতৃত্বে ইউনেস্কো বিশেষজ্ঞ দল ঢাকা সফরে আসেন। তাঁর সাথে অধ্যাপক অজিত কুমার সেন এবং ড. এ. কে. নাজমুল করিম দেখা করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্বতন্ত্র সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠার দাবি জানান। লেভি স্ট্রসের সহযোগিতা এবং ইউনেস্কোর সহায়তায় ১৯৫৭-৫৮ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ একটি স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ের প্রসার ঘটে। (ঘ) উদ্দীপকের তাওহিদ স্যারের মন্তব্য হলো, "নিজ দেশের সমাজ-সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে জানার জন্য এ বিষয়ের অধ্যয়ন প্রয়োজন।" আমি তাঁর এই বক্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ একমত। মানুষ সামাজিক জীব, তাই সমাজের বাইরে তার অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। একটি দেশের নাগরিক হিসেবে সেই দেশের সামাজিক কাঠামো, মানুষের আচার-আচরণ, রীতিনীতি এবং জীবনপ্রণালি সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি। সমাজবিজ্ঞান পাঠের মাধ্যমে আমরা সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য, সামাজিক অগ্রগতি, সামাজিক আন্দোলন এবং শিল্পায়নের প্রভাব সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ জ্ঞান লাভ করতে পারি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেখলে, আমাদের রয়েছে ভাষা আন্দোলন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের এক গৌরবময় ইতিহাস। এদেশের লোকসাহিত্য, গান, কবিতা এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতি আমাদের নিজস্ব স্বকীয়তা প্রদান করেছে। সমাজবিজ্ঞান আমাদের শেখায় কীভাবে এই ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে লালন করতে হয় এবং বহিরাগত সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিহত করে নিজস্ব পরিচয় বজায় রাখতে হয়। এছাড়া, একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করে তা সমাধানের পথ খোঁজার জন্য সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য। যদিও সমাজবিজ্ঞান একটি মূল্যবোধ নিরপেক্ষ বিজ্ঞান, তবুও এর অর্জিত জ্ঞান মানুষকে সচেতন করে এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে উদ্বুদ্ধ করে। সুতরাং, দেশের সমাজ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঠিক মূল্যায়ন এবং গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্য সমাজবিজ্ঞান অধ্যয়ন করা একান্ত প্রয়োজন।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCombined Board (2015)

'রায়পুর ডিগ্রি কলেজ'- এ সম্প্রতি অনার্স মাস্টার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতিসহ সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের সহায়ক কোর্স হিসেবে এমন একটি বিষয় পাঠদান করা হয়। এটি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে একটি বিষয় হিসেবে থাকলেও স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে এর অস্তিত্ব এ কলেজে নেই। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে কর্তৃপক্ষ উক্ত বিষয়ে কলেজে অনার্স পর্যায়ে আলাদা একটি বিভাগ খোলে। সম্পূর্ণ ঘটনাটি উক্ত বিষয়ের কোর্স শিক্ষক জনাব তাওহিদুর রহমানকে বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে অনার্স কোর্স খোলার ঘটনা মনে করিয়ে দেয়। তিনি বলেন, “নিজ দেশের সমাজ- সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে জানার জন্য এ বিষয়ের অধ্যয়ন প্রয়োজন।”

ক. বাংলাদেশের সমাজবিজ্ঞানের অগ্রপথিক কে?.

খ. সামাজিক স্তরবিন্যাস সম্পর্কে জানতে হলে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান থাকা কেন প্রয়োজন?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি বাংলাদেশের কোন বিষয়ের সূচনার কথা মনে করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের তাওহিদ স্যারের মন্তব্যের সাথে তুমি কি একমত? বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Course de Philosophie Positive' বইটি কোন সমাজবিজ্ঞানীর লেখা?

'অর্থশাস্ত্র' গ্রন্থটির লেখক কে?

'আকবরনামা' গ্রন্থের লেখক কে?

ক. অগবার্নের মতে সংস্কৃতির ধরনসমূহ কী কী? খ. 'সংস্কৃতি একটি জীবনপ্রণালি' - বুঝিয়ে লেখ। গ. উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানের ...

কখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কখন প্রতিষ্ঠিত হয়?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম অধ্যক্ষ কে ছিলেন?

দেশবিভাগের পূর্বে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত উচ্চশিক্ষার এ প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পথ সুগম হয়। তার পর অনেক...

দেশবিভাগের পূর্বে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত উচ্চশিক্ষার এ প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পথ সুগম হয়। তার পর অনেক...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।