(ক)
আমলাতন্ত্রের জনক হলেন ম্যাক্স ওয়েবার।
(খ)
লালফিতার দৌরাত্ম্য বলতে প্রশাসনিক কাজে অহেতুক আনুষ্ঠানিকতা, নিয়মনীতির কঠোরতা এবং দীর্ঘসূত্রতাকে বোঝায়। সপ্তদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডে সরকারি ফাইলগুলো লাল রঙের ফিতায় বেঁধে রাখা হতো, যা বর্তমানে নিয়মের কড়াকড়িতে কাজ থমকে থাকা বা অহেতুক সময়ক্ষেপণের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে সেবাগ্রহীতারা হয়রানির শিকার হন এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় না।
(গ)
উদ্দীপকে উল্লিখিত যেসব আমলা নিজেদের জনগণের প্রভু মনে করেন, তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য মূলত দুই ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়: বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ।
বাহ্যিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিসমূহ:
১. রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ: আমলাতন্ত্র রাজনৈতিক নির্বাহী বা মন্ত্রীদের অধীনে পরিচালিত হয়। মন্ত্রীরা তাদের অধীনস্থ কর্মকর্তাদের কাজের নির্দেশনা প্রদান, বদলি বা প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করেন।
২. আইনগত নিয়ন্ত্রণ: আইনসভায় মন্ত্রীরা তাদের মন্ত্রণালয়ের কাজের জন্য জবাবদিহি করেন, যা পরোক্ষভাবে আমলাদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করে।
৩. বিচার বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ: আমলারা যদি ক্ষমতার অপব্যবহার করেন বা নাগরিকের মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করেন, তবে বিচার বিভাগ রিট বা অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
৪. অরাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ: গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ এবং জনমত গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে আমলাদের স্বেচ্ছাচারিতা রোধে ভূমিকা রাখে।
অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিসমূহ:
১. প্রশাসনিক তদারকি: ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অধস্তনদের কাজের ওপর নিয়মিত নজরদারি করেন।
২. উপদেষ্টা কমিটি ও নিয়মাবলি: প্রশাসনিক কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উপদেষ্টা কমিটি গঠন এবং সুনির্দিষ্ট আচরণবিধি অনুসরণ করা হয়।
৩. দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: আমলাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনা, যাতে তারা নিজেদের জনগণের প্রভু না ভেবে সেবক হিসেবে বিবেচনা করেন।
(ঘ)
উদ্দীপকে বর্ণিত রহিম সাহেবের মতো সৎ, দক্ষ ও কর্মঠ আমলারা একটি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেন। তাদের ভূমিকা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. নীতি বাস্তবায়ন: সরকার রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য যে সকল পরিকল্পনা ও নীতি গ্রহণ করে, তা মাঠ পর্যায়ে সফলভাবে বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমলাদের। রহিম সাহেবের মতো দক্ষ কর্মকর্তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করলে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সময়মতো সম্পন্ন হয়।
২. জনসেবা নিশ্চিতকরণ: আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক সেবাগুলো জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আমলাদের ভূমিকা অপরিসীম। রহিম সাহেব নিজেকে জনগণের সেবক মনে করেন, যা জনসেবার মান বৃদ্ধিতে সরাসরি সহায়তা করে।
৩. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: রহিম সাহেবের টেবিলে ফাইল পড়ে থাকে না, অর্থাৎ তিনি দীর্ঘসূত্রতা পরিহার করেন। এমন কর্মঠ আমলাদের কারণে প্রশাসনিক কাজে স্বচ্ছতা আসে এবং দুর্নীতি হ্রাস পায়, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৪. জাতীয় অগ্রগতি: রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিধান এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে আমলাতন্ত্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য। রহিম সাহেবের মতো দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা তাদের প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় গতিশীলতা আনেন।
পরিশেষে বলা যায়, রহিম সাহেবের মতো আমলারা কেবল সরকারি কর্মচারী নন, বরং তারা জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম কারিগর। তাদের সততা ও কর্মদক্ষতা দেশের সামগ্রিক সমৃদ্ধি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।