(ক) B to C (Business to Consumer) বলতে এমন এক ধরনের ইলেকট্রনিক ব্যবসায়িক লেনদেন বা যোগাযোগ ব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে একপক্ষ থাকে ব্যবসায়ী এবং অন্যপক্ষ থাকে চূড়ান্ত ভোক্তা।
(খ) ই-মার্কেটিং ও ই-রিটেইলিং এর মধ্যে পার্থক্য নিচে আলোচনা করা হলো:
| ভিত্তি |
ই-মার্কেটিং |
ই-রিটেইলিং |
| সংজ্ঞা |
ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পণ্যের বিপণন বা প্রচার কাজ পরিচালনা করাকে ই-মার্কেটিং বলে। |
ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতা কর্তৃক সরাসরি গ্রাহকের কাছে পণ্য ও সেবা বিক্রয় করাকে ই-রিটেইলিং বলে। |
| মূল লক্ষ্য |
এর মূল লক্ষ্য হলো নতুন বাজার সৃষ্টি করা এবং ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে পণ্যের চাহিদা বাড়ানো। |
এর মূল লক্ষ্য হলো অনলাইনে পণ্য বিক্রয় করা এবং ক্রেতার ঠিকানায় পণ্য পৌঁছে দেওয়া। |
(গ) জনাব রিপন মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় জড়িত।
মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ স্থাপন, তথ্য সংগ্রহ, তথ্য প্রদান এবং আর্থিক লেনদেন করাকে মোবাইল ব্যাংকিং বলে। এর মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, মোবাইল রিচার্জ, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ এবং অন্যান্য আর্থিক সেবা গ্রহণ করা যায়। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ খুব সহজেই ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, রিপন তার গ্রামের মানুষকে শহরে টাকা পাঠাতে এবং মোবাইল ফোন বিল, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি পরিশোধে সাহায্য করেন এবং এর বিনিময়ে সার্ভিস চার্জ আয় করেন। রিপনের এই কার্যক্রমগুলো মোবাইল ব্যাংকিং সেবারই অংশ। সুতরাং, বলা যায় যে জনাব রিপন মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় জড়িত।
(ঘ) জনাব হৃদয়ানের কার্ডটি ব্যাংক ও গ্রাহক উভয়ের জন্যই লাভজনক- আমি এই বক্তব্যটি সমর্থন করি।
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হৃদয়ান এমন একটি ব্যাংক কার্ড গ্রহণ করেছেন যার মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবে অর্থ না থাকলেও টাকা পরিশোধ করা যায়। এই ধরনের কার্ডকে ক্রেডিট কার্ড বলা হয়। ক্রেডিট কার্ড হলো ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত একটি ঋণ সুবিধা সম্বলিত প্লাস্টিক কার্ড, যার মাধ্যমে গ্রাহক নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত অর্থ ব্যয় করতে পারেন।
গ্রাহকের জন্য লাভজনক দিক: ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহক তাৎক্ষণিকভাবে কেনাকাটা বা বিল পরিশোধ করতে পারেন, এমনকি তার অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকলেও। এটি জরুরি প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে এবং লেনদেনের প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করে। এর ফলে গ্রাহক আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য লাভ করেন।
ব্যাংকের জন্য লাভজনক দিক: ব্যাংক গ্রাহককে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ঋণ প্রদান করে এবং নির্দিষ্ট সময় পর সেই ঋণের ওপর সুদ আদায় করে। এছাড়া কার্ড ইস্যু করা এবং বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফি-র মাধ্যমে ব্যাংক মুনাফা অর্জন করে।
পরিশেষে বলা যায়, ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহক যেমন ঋণ সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্য পান, তেমনি ব্যাংক সুদ ও ফি-র মাধ্যমে আয় করে। তাই হৃদয়ানের কার্ডটি ব্যাংক ও গ্রাহক উভয়ের জন্যই লাভজনক।