ক.
বিবর্তন এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কোনো জিনিসের মধ্যে সুপ্তাবস্থায় লুকায়িত বৈশিষ্ট্য বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
খ.
চুরির অভিপ্রায়কে অপরাধ বলা যায় না। কারণ চুরির অভিপ্রায় অপরাধ নয়।
অপরাধ বলতে সেসব আচরণকে বোঝায়, যা রাষ্ট্রের আইন-কানুন বা বিধি-বিধানের পরিপন্থি এবং আইননুযায়ী শাস্তিযোগ্য। যেমন চুরি করা একটি অপরাধ। কিন্তু চুরির অভিপ্রায় তথা ইচ্ছা পোষণ করা অপরাধ নয়। কেননা কোনো অপরাধ করার ইচ্ছা পোষণ করলে তা আইনের দৃষ্টিতে শাস্তিরযোগ্য হবে না যদি না ঐ কাজটি সম্পন্ন করা হয়।
গ.
উদ্দীপকে বর্ণিত অপরারটি হলো কিশোর অপরাধ। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো :
কিশোর অপরাধ হচ্ছে অপ্রাপ্তবয়স্ক তথা কিশোর কিশোরীদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধ। বাংলাদেশের প্রচলিত শিশু আইন অনুযায়ী সাধারণত ৭ থেকে ১৫ বছর বয়সে কিশোর কিশোরীদের দ্বারা সংঘটিত অপরাধকে কিশোর অপরাধ বলা হয়। কিশোর অপরাধের উদাহরণ হলো উচ্ছৃঙ্খলতা, ছোটখাটো চুরি-ছিনতাই, মেয়েদের উত্যক্ত করা ইত্যাদি। কিশোর আদালতের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধীদের বিচার কাজ সম্পন্ন করে জেল হাজতের পরিবর্তে চারিত্রিক সংশোধনাগারে প্রেরণ করা হয়। উদ্দীপকে ও অনুরূপ পরিস্থিতি প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায, দশম শ্রেণীর ছাত্র রাশেদ চুরি ছিনতাউসহ নানা অপকর্মে সাথে লিপ্ত। একদিন তার বাবা জানতে পারে তাকে পুলিশে ধরে নিয়ে গেছে। তবে বর্তমানে রাশেদের পরিবার তার চ চরিত্র সংশোধনের মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে রাশেদ যেহেতু অপ্রাপ্তবয়স্ক সেহেতু তার করা অপরাধ প্রচলিত আইন অনুযায়ী কিশোর অপরাধ। আর এজন্যই পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার পরও তাকে শাস্তি না দিয়ে পরিবারের মাধ্যমে চরিত্র সংশোধনের সুযোগ করে দিয়েছে।
সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লেখিত বিষয়টি কিশোর অপরাধের চিত্রই প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ.
উদ্দীপকের রাশিদের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ সম্পন্ন করতে পারলে সে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো :
সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মানব শিশু ক্রমেই সামাজিক মানুষে পরিণত হয়ে ওঠে। এ প্রক্রিয়া ব্যক্তিকে তা সামাজিক জগতে অনুপ্রশে করাতে সাহায্য করে এবং সমাজের কাঙ্ক্ষিত সদস্য হিসেবে গড়ে তোলে। ব্যক্তির সামাজিকীকরণ যদি সুষ্ঠু না হয় তবে ব্যক্তির মধ্যে অসৎ গুণাবলীর বিকাশ ঘটে। অর্থাৎ ব্যক্তির সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া যদি সঠিকভাবে সম্পাদিত না হয় তবে ব্যক্তির স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় । ফলে ব্যক্তি সমাজ বিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে পারে। যেমনটি উদ্দীপকের রাশিদের ক্ষেত্রে ঘটেছে।
ব্যক্তির সামাজিকীকরণের বিভিন্ন বাহন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন পরিবার, সঙ্গীদল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে শিশু প্রাথমিকশিক্ষা, নীতিবোধ ইত্যাদি জ্ঞান অর্জন করতে পারে যা তার সুষ্ঠু ব্যক্তিত্ব গঠনে সহায়তা করে। অন্যদিকে সঙ্গীদলের সাথে শিশুরা নানা পাবে প্রভাবিত হয়। সমবয়সীদের সাথে পারস্পরিক মিথস্ক্রীয়ার ফলে শিশুরা সহযোগিতা, সহমর্মিতা, নেতৃত্ব প্রভৃতি গুণ অর্জন করে যা তাদেরকে সমাজের কাঙ্খিত সদস্য হতে অনেকাংশের সাহায্য করে। আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিশুকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল ও প্রজ্ঞাবান করে তোলে । আর গুলোর মাধ্যমে সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ সম্পন্ন হলে ব্যক্তি সমাজে কাঙ্কিত আচরণে অভ্যস্ত হয়। ফলে সে সমাজবিরোধী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়ায় না।
সুতরাং বলা যায় য, উদ্দীপকে উল্লিখিত রাশিদের ক্ষেত্রে সুষ্ঠু সামাজিকীকরণ সম্পন্ন করতে পারলে সে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে। পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, জ্ঞাতিসম্পন্ন, গণমাধ্যম ইত্যাদি ভূমিকা নিশ্চিত করার প্রয়োজন।