ক.
ভৌগোলিক উপাদান হচ্ছে ওইসব মহাজাগতিক অবস্থা এবং প্রপঞ্চ, যা- মানবসৃষ্ট নয় এবং সেগুলো নিজস্ব ধারায় স্বপরিবর্তনশীল এবং স্বনিয়ন্ত্রিত।
খ.
বিবর্তন ও পরিবর্তনের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
বিবর্তন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া। যার মাধ্যমে মানুষের আচার-ব্যবহার, সামাজিক বিশ্বাস, মূল্যবোধ, রীতিনীতি, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি ধীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সরল থেকে জটিল অবস্থায় রূপান্তরিত হয়। অন্যদিকে পরিবর্তন হলো সমাজকাঠামোর পরিবর্তন। সমাজকাঠামোর ভিত্তি হলো পারস্পরিক সম্পর্ক বা মিথস্ক্রিয়া। তাই সামাজিক পরিবর্তনের অর্থ হলো সংঘবদ্ধ মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের পরিবর্তন।
গ.
উদ্দীপকের ছক-২ সমাজবিজ্ঞানের অন্যতম মৌল প্রত্যয় অপরাধকে নির্দেশ করে। অপরাধের কতকগুলো প্রকার বা ধরন রয়েছে। সাধারণভাবে সামাজিক মূল্যবোধ পরিপন্থি বা রাষ্ট্রীয় আইন পরিপন্থি কাজকে অপরাধ বলে গণ্য করা হয়।
উদ্দীপকের ছক-২-এ যেসব বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়েছে তা অপরাধ নামক মৌল প্রত্যয়কে নির্দেশ করে।
পাশ্চাত্যের অপরাধবিজ্ঞানী ও সমাজবিজ্ঞানীরা পাঁচ ধরনের অপরাধের কথা বলেছেন। এগুলো হলো- ১. কিশোর অপরাধ, ২. ক্ষতিগ্রস্ত বা শিকারবিহীন অপরাধ, ৩. ভদ্রবেশী অপরাধ, ৪. সংঘবদ্ধ অপরাধ, ৫. সম্পত্তি বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ। কিশোর-কিশোরী দ্বারা সংঘটিত অপরাধকে কিশোর অপরাধ বলা হয়। অশালীন আচরণ, ছোট-খাটো চুরি প্রভৃতি কিশোর অপরাধের উদাহরণ। ক্ষতিগ্রস্ত বা শিকারবিহীন অপরাধ দ্বারা অপরাধীই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদের ওপর তেমন প্রভাব পড়ে না। যেমন- জুয়াখেলা, পতিতাবৃত্তি প্রভৃতি। ভদ্রবেশী অপরাধের মধ্যে রয়েছে আয়কর ফাঁকি, ট্রেডমার্ক নকল করা ইত্যাদি। সংঘবদ্ধ অপরাধ হলো একাধিক ব্যক্তির সমন্বয়ে সংঘটিত অপরাধ। যেমন-নারী ও শিশু পাচার, জুয়া ইত্যাদি। আর ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের মধ্যে রয়েছে সম্পত্তি আত্মসাৎ, জবরদখল, মারধর ইত্যাদি।
ঘ.
উদ্দীপকের ছক-১ দ্বারা নির্দেশিত মৌল প্রত্যয় বিচ্যুতিমূলক আচরণের সাথে ছক-২ এ নির্দেশিত অপরাধের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
মূল্যবোধ পরিপন্থি আচরণ যা সমাজের কাছে অপ্রত্যাশিত ও নিন্দনীয় এরূপ আচরণকে বিচ্যুতিমূলক আচরণ বলে। ছক-১ এ এসব বৈশিষ্ট্যই উল্লেখ করা হয়েছে। যা বিচ্যুতিকে নির্দেশ করে। আর ছক-২ এ অপরাধের ধরন নির্দেশিত হয়েছে। অপরাধ ও বিচ্যুতিমূলক আচরণের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য লক্ষ করা যায়।
রাষ্ট্রীয় আইনের সাথে সাংঘর্ষিক আচরণই অপরাধ। অর্থাৎ সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক নিষিদ্ধ কার্যক্রমই অপরাধ বলে গণ্য হয়। পক্ষান্তরে বিচ্যুতিমূলক আচরণ হলো সামাজিক মূল্যবোধ পরিপন্থি এমন কিছু অস্বাভাবিক আচরণ যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় আইনে এর জন্য কোনো শাস্তির বিধান নেই। অপরাধ সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় আইনের সাথে সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে বিচ্যুতিমূলক আচরণ সামাজিক মূল্যবোধ, ঐতিহ্য ও রীতিনীতির সাথে সাংঘর্ষিক। সব ধরনের বিচ্যুতিমূলক আচরণ অপরাধ নয়। কিন্তু সব অপরাধই বিচ্যুতিমূলক আচরণ। আবার অপরাধ এমন এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত বা অস্বাভাবিক আচরণ যা অনানুষ্ঠানিক কোনো বাহন বা সংস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। অন্যদিকে বিচ্যুতিমূলক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলকভাবে অপরাধ থেকে সহজ।
সুতরাং বলা যায়, অপরাধ এবং বিচ্যুতিমূলক আচরণের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু অপরাধ এবং বিচ্যুতিমূলক আচরণ উভয়ই সমাজের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে। তাই এর কোনোটিই সমাজের কাছে কাঙ্ক্ষিত বা গ্রহণযোগ্য নয়।