ক.
মুক্তিযুদ্ধের সর্বশ্রেষ্ঠ খেতাব বীরশ্রেষ্ঠ ।
খ.
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ঐতিহাসিক ভূমিকার জন্য মূল কৃতিত্বের দাবিদার শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী। ভারতের জনগণ ও সরকার প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয়, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর পাকিস্তান ভারতে বিমান হামলা চালায়। পাকিস্তানের আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এবং ভারত সরকার মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ কমান্ড গঠন করে। ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দান করে।
গ.
উদ্দীপকে রীমার মা মুক্তিযুদ্ধে বিরোধিতাকারী আলবদর বাহিনীর প্রতি ইঙ্গিত করেন ।
১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর আলবদর বাহিনীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। আল বদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন জামায়াত ইসলামের সাবেক আমির ও মানবতাবিরোধী অপরাধী মতিউর রহমান নিজামী। মুক্তিযুদ্ধের শেষদিকে অর্থাৎ ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাকিস্তানি বাহিনী পরাজয় নিশ্চিত জেনে আলবদর ও রাজাকার বাহিনীর সহযোগিতায় বুদ্ধিজীবী অপহরণ ও হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ১৪ ডিসেম্বর ঢাকার গভর্নর হাউসে বোমাবর্ষণের পর ড. মগ্রিক মন্ত্রিসভার পদত্যাগ করলে পাকিস্তানি বাহিনীর সকল আশা ধূলিসাৎ হয়ে যায়। ইতোমধ্যে আটককৃত এবং নতুন আটককৃত বুদ্ধিজীবীদের সরাসরি হত্যা করা হয়। ঢাকার বুদ্ধিজীবীদের মিরপুর শিয়ালবাড়ি ও মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে হত্যা করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে আরও অনেক বধ্যভূমিতে তাদের লাশ পাওয়া যায়। আবার কারও কারও লাশ পাওয়া যায়নি। স্বাধীনতার পর লাশের স্তূপে যাদের পাওয়া গিয়েছে তাদের সকলের হাত-পা-চোখ বাঁধা ছিল। কারও হাত নেই। কারও চোখ বা হৃৎপিণ্ড নেই। এগুলো নরপিশাচদের নির্যাতনের স্বাক্ষর বহন করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত মর্মান্তিক। ১৯৭১ সালের ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের খ্যাতিমান শিক্ষক, চিকিৎসক ও সাংবাদিকসহ অনেক বুদ্ধিজীবীকে হত্যা করা হয় ৷
উদ্দীপকের রীমা তার মায়ের সাথে রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে যায় । তার মা তাকে বলে মুক্তিযুদ্ধের সময় বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে মাটি 'চাপা দেওয়া যায়। যা ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী নিরীহ বাঙালির ওপর করেছিল। পাকিস্তানি বাহিনীর এই জঘন্য কাজে সাহায্য করেছিল মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী আলবদর বাহিনী। তাই বলা যায়, রীমার মা উদ্দীপকে আলবদর বাহিনীর প্রতি ইঙ্গিত করেছিল।
ঘ.
১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ ছিল সর্বকালের সেরা ভাষণগুলোর একটি।
এ ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু বেশকিছু বিষয় উত্থাপন করেন। যেমন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালিরা ৭০-এর নির্বাচনে জয়লাভ করে। কিন্তু ১ মার্চ ১৯৭১ সালে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান কর্তৃক পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এর প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু সমগ্র পূর্ব বাংলায় হরতালের ডাক দেন। শুরু হয় পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন। ঢাকায় কার্ফু জারি করা হয়। কিন্তু বাঙালি কার্ফু ভাঙলে পুলিশ গুলি চালায়। প্রতিদিন শত শত মানুষ হতাহত হয়। চারদিকে বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে। সবার মুখে মুখে একই কথা বীর বাঙালি অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর। এরই ধারাবাহিকতায় ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু এ ভাষণটি দেন। এতে তিনি পাকিস্তানি সরকারের সব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দুর্গ গড়ে তুলতে আহ্বান জানান। তিনি ঘোষণা করেন এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তার এ ঘোষণার মাধ্যমে অসহযোগ আন্দোলনের প্রতিরূপ ফুটে ওঠে। অর্থাৎ অসহযোগ আন্দোলনকে ফলপ্রসূ করার জন্য বঙ্গবন্ধু তার এ ভাষণটি প্রদান করেন। তিনি এ ভাষণের মাধ্যমে সামরিক শাসন প্রত্যাহার এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া, সামরিক বাহিনীর হাতে প্রাণহানির তদন্ত এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি উত্থাপন করেন। এছাড়াও এ ভাষণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু মুক্তি সংগ্রাম ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন। তার এ ভাষণকে বাঙালির মুক্তির পথিকৃৎও বলা যায়।