Facebook Pixel

রৌমারী উপজেলা চেয়ারম্যান রহিম সাহেব একজন সফল ও জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি। জনগণের যেকোনো বিপর্যয়ে তিনি নিজ হাতে সাহায্য পৌঁছে দিতেন। তিনি তাঁর এলাকায় ন্যায়বিচার, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, পুলিশ বিভাগ গঠনসহ নানা প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রচলন করে বিখ্যাত হয়ে আছেন। ক. খলিফা অর্থ কী? খ. হযরত ওমর (রাঃ) এর মজলিস উশ শূরা ছিল গণতন্ত্রের প্রতীক-ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে কোন খলিফার শাসনামলের মিল রয়েছে- মূল্যায়ন কর। ঘ. উক্ত খলিফা মুসলমানদের জন্য নতুন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে একটি প্রকৃত জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছিলেন- ব্যাখ্যা কর।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ খুলাফায়ে রাশেদিন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. খলিফা অর্থ প্রতিনিধি। খ. হযরত ওমর (রা.)-এর মজলিস উশ শূরা ছিল গণতন্ত্রের প্রতীক। কেননা এর মাধ্যমে মতামত গ্রহণ করে রাষ্ট্রের সকল কার্য পরিচালনা। করা হতো। ইসলামি রাষ্ট্রের মন্ত্রণা পরিষদকে মজলিস-উশ-শুরা বলা হয়। হযরত উমর (রা.) শাসন কার্যাদি জনগণের মতামতের ভিত্তিতে পরিচালনার জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি মন্ত্রণ্য পরিষদ গঠন করেন যা মজলিস-উশ-শূরা নামে পরিচিত। বিখ্যাত সাহাবি, বিশিষ্ট নাগরিক ও বেদুইন নেতাদের নিয়ে গঠিত এ সভা দুভাগে বিভক্ত ছিল। যথা- মজলিস উল-খাস-ও মজলিস উল আম। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলের মিল রয়েছে। উদ্দীপকের রৌমারী উপজেলা চেয়ারম্যান রহিম সাহেব একজন সফল ও জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি। জনগণের যেকোনো বিপর্যয়ে তিনি নিজ হাতে সাহায্য পৌঁছে দিতেন। তিনি তার এলাকায় ন্যায়বিচার, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, পুলিশ বিভাগ গঠনসহ নানা প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রচলন করে বিখ্যাত হয়ে আছেন। যা হযরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলের মিল রয়েছে। হযরত উমর (রা.) ৬৩৪ সালে খলিফা নির্বাচিত হয়ে রাজ্য বিজয় তথা মুসলিম রাষ্ট্রের সম্প্রসারণ ও প্রজাকল্যাণমূলক শাসন সংস্কার করেন। তিনি প্রশাসনিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করে কুরআন ও হাদিসের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি পুলিশব্যবস্থা, কারাগার ব্যবস্থা, আদমশুমারি ও মজলিস উশ-সূরা গঠন করে ইতিহাসে অমরত্ব লাভ করেন। তিনি দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের জন্য উদারতা ও মহানুভবতা প্রদর্শন করেন। হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর শাসনামলে ইসলামি সাম্রাজ্য গোটা বিশ্বের অর্ধেক অংশজুড়ে বিস্তৃতি লাভ করে। তিনি যেমন শ্রেষ্ঠ বিজেতা ছিলেন তেমনি একজন চৌকস শাসকও ছিলেন। তার আমলে শাসনব্যবস্থার প্রভৃত সংস্কার সাধিত হয় এবং নিরপেক্ষ, প্রজাবান্ধব ও রাষ্ট্রীয় কল্যাণমূলক প্রশাসনব্যবস্থা গড়ে ওঠে। এ মহান খলিফার আদর্শই উদ্দীপকের শাসক রহিম সাহেবের কর্মকান্ডে ফুটে উঠেছে। তাঁরই অনুকরণে তিনি রাজ্যজয় করেন এবং সুষ্ঠু প্রশাসন গড়ে তোলেন। তিনি রাতে নিজ খিলাফতে ঘুরে বেড়াতেন এবং বিপর্যয়ে নিজ হাতে নাগরিকদের খাবার পৌছে দিতেন। অতএব, উদ্দীপকের উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর শাসনামলের মিল রয়েছে। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত খলিফা অর্থাৎ হযরত ওমর (রা.) নতুন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সক্ষম হয়েছিলেন। মন্তব্যটি যথার্থ। হযরত উমর (রা.) ইসলামের আদর্শকে ধারণ ও লালন করেছিলেন। পারস্য ও পূর্ব রোমান সাম্রাজ্য মুসলিম সাম্রাজ্যের সাথে একীভূত হওয়ার ফলে কুরআন, হাদিস ও ইজমার ভিত্তিতে ইসলামি রাষ্ট্রের রূপদান করেন। তাঁর শাসনব্যবস্থায় দেখা যায় কুরআন ও হাদিসের অধীনে সকল অধিবাসী শতভাগ স্বাধীন। হযরত উমর (রা.)-এর মজলিসে শূরা ছিল আধুনিক বিশ্বের আইনসভার অনুরূপ। তাঁর প্রশাসনিক কাঠামো খলিফা কেন্দ্রীয় প্রধান, ওয়ালি প্রদেশ প্রধান, আমল জেলা প্রধান ছিলেন। সুষম উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলা স্থিতিশীল রাখার জন্য হযরত উমর (রা.) তার খিলাফতকে ১৪টি প্রদেশে ভাগ করেন। প্রত্যেকটি ওয়ালির একটি দেওয়ান বা Sectrariat বা সচিবালয় ছিল। হযরত উমর (রা.)-এর রাজস্ব ব্যবস্থাকে দুভাগে ভাগ করা হয়। যথ- ক. আয় ও খ. ব্যয়। হযরত উমর (রা.)-এর আমলে রাজস্বের উৎস ছিল ৭টি। যথা- ১. আল গনিমত, ২. আল জাকাত, ৩. আল উশর, ৪. আল জিজিয়া, ৫. আল খারাজ, ৬. আল ফাই, ৭. আল হিমা। উশর ছিল ভূমি রাজস্ব। এ কর শুধু মুসলিমদের দিতে হতো। কোনো জমিতে ৫ ওয়াসাক বা যা ফসল উৎপাদিত হতো ঐ জমির ফসল থেকে উশর দিতে হতো। সুষ্ঠু, ন্যায় ও নিরপেক্ষ বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি বিচার বিভাগকে সর্বপ্রথম নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করেন। মসজিদকে বিচারালয় হিসেবে ব্যবহার করা হতো। হযরত উমর (রা.)-এর শাসনব্যবস্থা ছিল একটি প্রকৃত রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রৌমারী উপজেলা চেয়ারম্যান রহিম সাহেব একজন সফল ও জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি। জনগণের যেকোনো বিপর্যয়ে তিনি নিজ হাতে সাহায্য পৌঁছে দিতেন। তিনি তাঁর এলাকায় ন্যায়বিচার, প্রশাসনিক ব্যবস্থা, পুলিশ বিভাগ গঠনসহ নানা প্রশাসনিক ব্যবস্থার প্রচলন করে বিখ্যাত হয়ে আছেন।

ক.

খলিফা অর্থ কী?

খ.

হযরত ওমর (রাঃ) এর মজলিস উশ শূরা ছিল গণতন্ত্রের প্রতীক-ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে কোন খলিফার শাসনামলের মিল রয়েছে- মূল্যায়ন কর।

ঘ.

উক্ত খলিফা মুসলমানদের জন্য নতুন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে একটি প্রকৃত জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছিলেন- ব্যাখ্যা কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Garden of Death' বলা হয় কাকে?

অটোমান সুলতান মহামতি সুলাইমান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর থেকে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এবং ...

অমুসলমানদের ভূমি কর কোনটি?

আফজাল মিয়া একটি সিরামিক ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধার। তার বিরুদ্ধে দুটি মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়। তিনি তার আপনজনদেরকে প্রতিষ্ঠানে...

আবু জার আল গিফারী (রা.) মুসলমানদের যে জীবনযাপনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে কঠোর প্রতিবাদ করেন-) i. সাদাসিধে জীবন ii. জাঁকজমকপূর্ণ ঐশ...

আবু বকর (রা.)-কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়- i. শিশু ইসলামি রাষ্ট্রকে রক্ষা ii. রিদ্দার যুদ্ধে জয় iii. মিরাজের ঘটনা বিশ্ব...

আবু বকর (রা.) কত খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন?

আবু বকর (রা.) কত হিজরিতে পারস্যে সামরিক অভিযান প্রেরণ করেন ?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।