Facebook Pixel

রুবা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী। সে একদিন তার স্কুল শিক্ষকের কাছে জানতে পারে, এ উপমহাদেশে এমনও সাহসী লোকের জন্ম হয়েছিল যিনি অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে বাঁশের কেল্লা স্থাপন করে যুদ্ধ করেছিলেন। সাধারণ তথা কৃষকশ্রেণির ওপর যেকোনো অত্যাচারের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। জোরপূর্বক অলাভজনক এক ধরনের ফসল ফলাতে কৃষকদের বাধ্য করার কারণে তিনি জমিদার ও শাসকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত তৈরি করতে সক্ষম হন। ক. কাকে মজলুম জননেতা বলা হয়? খ. NDF সম্পর্কে বর্ণনা কর। গ. রুবার স্কুল শিক্ষকের দেওয়া তথ্যে যে মনীষীর চেতনা প্রকাশিত হয়েছিল তার ব্রিটিশ শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ব্যাখ্যা কর। ঘ. 'এ ধরনের একজন মনীষীর আন্দোলন-সংগ্রাম পরবর্তীতে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করেছিল'- মূল্যায়ন কর।

বিষয়: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বঃ বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীকে মজলুম জননেতা বলা হয়। খ. ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট- NDF কোনো রাজনৈতিক দল ছিল না। এটি ছিল আইয়ুববিরোধী একটি রাজনৈতিক মোর্চা বা প্লাটফর্ম। এর লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের জন্য একটি সত্যিকার গণতান্ত্রিক শাসনতন্ত্র লাভ। এর তেমন কোনো সাংগঠনিক কাঠামো ছিল না। বস্তুত NDF ছিল একটি আন্দোলন, যার প্রবক্তা ছিল প্রবীণ নেতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ১৯৬২ সালের ৪ আগস্ট পূর্ব পাকিস্তানে প্রাদেশিক পরিষদের আইয়ুব সরকারবিরোধী সদস্যদের দ্বারা NDF গঠিত হয়। গ. রুবার স্কুল শিক্ষকের দেওয়া তথ্যে সৈয়দ নিসার আলী ওরফে তিতুমীর নামক মনীষীর চেতনা প্রকাশিত হয়েছে। ব্রিটিশ ভারতে যে কয়জন অকুতোভয় দৃঢ়চেতা মুক্তিসেনানী প্রচন্ড সাহস, অনমনীয় মনোবল, সাধারণ তেজস্বীতা নিয়ে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন তিতুমীর তাদের মধ্যে অন্যতম। তার সময় জোর করে কৃষকদের অলাভজনক নীল চাষে বাধ্য করার ফলে কৃষককুল ক্রমান্বয়ে সর্বস্বান্ত হতে থাকে এবং জমিদারদের অত্যাচারে প্রান্তিক কৃষক বিশেষ মুসলমানদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে। তিতুমীর বুঝতে পেরে ছিলেন যে, নীলকর বণিক ও. এদেশীয় সামন্ত রাজাদের হাত থেকে গরিব কৃষককুলকে মুক্ত করার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী সংগঠন এবং তাদের ঐক্য। এই চেতনা থেকে তিতুমীর কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করতে থাকেন এবং সামরিক কৌশল শিক্ষা দেন। এর প্রত্যক্ষ কয়েকটি যুদ্ধে জমিদারদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করে। এসব যুদ্ধ থেকে দূরদর্শী তিতুমীর বুঝতে পারেন যে, ইংরেজ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হলে প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ সামরিক প্রস্তুতি। তার অংশ হিসেবে তিনি কলকাতার নিকটবর্তী নারকেলবাড়িয়া নামক স্থানে একটি সুদৃঢ় বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন। ইতহাসে এ কেল্লাই 'নারকেলবাড়িয়ার বাঁশের কেল্লা' নামে খ্যাত। এ বাঁশের কেল্লা আক্রমণের জন্য ইংরেজ সরকার মেজর স্কটের নেতৃত্বে একদল সুসজ্জিত বাহিনী পাঠান। এ যুদ্ধে ইংরেজদের কামানের আঘাতে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ধ্বংস হয়। তিতুমীর শহিদ হন। উদ্দীপকের দিকে গভীর দৃষ্টিতে তাকালে দেখা যায়, রুবার স্কুল শিক্ষকদের দেওয়া তথ্য যেমন- বাঁশের কেল্লা, সাধারণ কৃষকদের প্রতি অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং অলাভজনক ফসল ফলাতে বাধ্য করা ইত্যাদি বস্তুত শহীদ তিতুমীরের পূর্ণ জীবনালেখ্য। ঘ. "এ ধরনের একজন মনীষীর অর্থাৎ সৈয়দ নিসার আলী ওরফে তিতুমীরের সংগ্রাম পরবর্তীতে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করেছিল"- উক্তিটি অতি বাস্তবসম্মত ও দর্শনসমৃদ্ধ। ব্রিটিশ শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে তিতুমীর শহীদ হয়েছেন। এ কথা সত্য। তার চেয়ে বড় সত্য হলো বীরের রক্তদান কখনো বৃথা যায় না। বিদেশি শাসক ও শোষকদের বিরুদ্ধে তার বিদ্রোহ ভবিষ্যৎ সংগ্রামের ভিত তৈরি করেছিল। তিতুমীর সংগ্রাম ও স্বাধীনতার চেতনা পরবর্তীকালের সকল আন্দোলনের উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা ছিল মূলত দেশপ্রেম ও স্বাধীনতার প্রতীক, সংগ্রামের উৎস। যা যুগে যুগে বাঙালিকে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাহস যুগিয়েছে, প্রেরণা যুগিয়েছে। তার অদম্য সাহস ও আপোসহীনতাই ফুটে উঠে বাঙালির ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। ব্যক্তি তিতুমীর শহীদ হয়েছে কিন্তু তার চেতনা থেকে সৃষ্টি হয়েছে লক্ষ তিতুমীর, যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে তিতুমীরের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে। পরিশেষে বলা দরকার যে, তিতুমীর আমাদের শিখিয়েছেন জয় পরাজয় বড় কথা নয়, স্বৈরাচার, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ, সংগ্রাম গড়ে তোলাটাই বড় বিজয়। মোটকথা হলো শুরু করাটাই এক ধরনের সাফল্য।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রুবা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী। সে একদিন তার স্কুল শিক্ষকের কাছে জানতে পারে, এ উপমহাদেশে এমনও সাহসী লোকের জন্ম হয়েছিল যিনি অত্যাচারী শাসকের বিরুদ্ধে বাঁশের কেল্লা স্থাপন করে যুদ্ধ করেছিলেন। সাধারণ তথা কৃষকশ্রেণির ওপর যেকোনো অত্যাচারের বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। জোরপূর্বক অলাভজনক এক ধরনের ফসল ফলাতে কৃষকদের বাধ্য করার কারণে তিনি জমিদার ও শাসকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত তৈরি করতে সক্ষম হন।

ক.

কাকে মজলুম জননেতা বলা হয়?

খ.

NDF সম্পর্কে বর্ণনা কর।

গ.

রুবার স্কুল শিক্ষকের দেওয়া তথ্যে যে মনীষীর চেতনা প্রকাশিত হয়েছিল তার ব্রিটিশ শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

'এ ধরনের একজন মনীষীর আন্দোলন-সংগ্রাম পরবর্তীতে বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করেছিল'- মূল্যায়ন কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

A একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনীতিবিদ। তিনি সবসময়ই নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপোসহীন। এজন্য ত...

NDF কে গঠন করেন?

Q. উপরে" ? " চিহ্নিত স্থানে কার নাম বসবে?

'The way of Swaray' কত সালে প্রকাশিত হয়?

'The way of Swaray' গ্রন্থে চিত্তরঞ্জন দাসের কিসের পূর্বাভাস পাওয়া যায়?

ক. 'মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি' কে প্রতিষ্ঠা করেন? খ. বেঙ্গল প্যাক্ট বলতে কী বোঝ? গ. কৃষকদের কল্যাণ সাধনে 'খ' ব্যক্তি কী...

ক. বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন? খ. বেঙ্গল প্যাক্টের মূল বিষয়বস্তু কী ছিল? গ. 'ক' ছকে লক্ষণীয় ব্যক্তির ...

ক. ঋণ সালিশি বোর্ড কী? খ. মজলুম জননেতা কাকে বলা হয় এবং কেন? গ. ছক 'ক' তে আলোচিত ব্যক্তিকে চিহ্নিত করো। ঘ. ছক 'খ' তে আলোচ...

ক. অধ্যাদেশ জারি করেন কে? খ. রাষ্ট্রপতির অভিশংসন পদ্ধতি বর্ণনা করো। গ. খ ছকের '?' স্থান কোন প্রশাসক নির্দেশ করে? তার কার...

ক. দ্বৈত শাসন কী? খ. ৬ দফাকে বাঙালির 'ম্যাগনাকার্টা' বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকে 'X' ছকে তোমার পঠিত যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।