ক.
জাতি হচ্ছে জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ এবং রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত এমন একটি জনসমষ্টি যারা হয় স্বাধীন বা স্বাধীনতাকামী।
খ.
জাতীয়তা একটি মানসিক ধারণা ও চেতনা যা কোনো একটি জনসমাজকে অন্য জনসমাজ হতে পৃথক করে তোলে এবং নিজেদের মধ্যে ঐক্যবোধ গড়ে তোলে।
জাতীয়তা সেই জনসমষ্টিকে নির্দেশ করে যারা একই বংশ, ভৌগোলিক অবস্থান, ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্যের বন্ধন দ্বারা ঐক্যবদ্ধ। আর এই ঐক্যবোধ তাদেরকে অন্য জনসমষ্টি হতে পৃথক ভাবতে শেখায়।
গ.
রফিকুল ইসলামের আচরণে দেশপ্রেমের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে । দেশের উন্নয়নে, দেশ রক্ষায় এবং দেশের প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করার জন্য প্রস্তুত থাকার সদিচ্ছাকে দেশপ্রেম বলা হয়। এটি নাগরিকের এক পবিত্র অনুভূতি। দেশের মাটি, সম্পদ, ভাষা ও সংস্কৃতি, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করা সব কিছুই দেশপ্রেমের অংশ। দেশপ্রেম মানুষকে দেশবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জাগিয়ে তোলে। অই ধর্ম, বর্ণ, দল, মত নির্বিশেষে যেকোনো সংকটে দেশের সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে দেশপ্রেম জন্মভূমির জন্য মানুষের এক ধরনের অনুরাগময় ভাবাবেগ। মা, মাতৃভাষা এবং মাতৃভূমির প্রতি গভীর ভালোবাসার আবেগময় প্রকাশ ঘটে দেশপ্রেমের মধ্য দিয়ে।
উদ্দীপকের রফিকুল ইসলাম তার দেশকে নিয়ে খুবই গর্ববোধ করেন । তিনি সবসময় স্বদেশী পণ্য ব্যবহার করেন এবং অন্যদেরকেও তা করার জন্য উৎসাহিত করেন। তিনি মানুষকে আইন মেনে চলার পরামর্শ দেন। অর্থাৎ জনাব রফিকুল ইসলাম তার দেশের প্রতি মায়া-মমতা অনুভব করেন । তাই তার আচরণে দেশপ্রেমের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে।
ঘ.
উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয় অর্থাৎ দেশপ্রেমের ওপর জাতীয় উন্নতি নির্ভরশীল— উক্তিটি সঠিক।
মাতৃভূমির প্রতি মমত্ববোধ ও ভালোবাসাই হচ্ছে দেশপ্রেম। এটি নাগরিকের এক পবিত্র অনুভূতি। দেশের মাটি, সম্পদ, পরিবেশ ও প্রতিবেশ, ভাষা ও সংস্কৃতি, আর দেশবাসীর প্রতি ভালোবাসা এবং তাদের সাথে একাত্মতা বোধ করা ইত্যাদি দেশপ্রেমের অংশ। দেশপ্রেম জাতীয় উন্নতিকে ত্বরান্বিত।
চলমান গণতান্ত্রিক বিশ্বে একটি রাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়ন, অগ্রগতি ও শান্তি- শৃঙ্খলা অনেকাংশে নির্ভর করে জাতির দেশপ্রেমের ওপর। নাগরিক এবং রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনগুলো যদি দেশপ্রেমকে অগ্রাধিকার দেয়, তবেই দেশের উন্নয়ন হবে। দেশপ্রেমের ভিত্তিতেই জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে পৃথিবীতে যে দেশগুলো উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাদের উন্নয়নে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছে দেশপ্রেম। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নাগরিক কখনও কর ফাঁকি দেবে না, দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করবে না বা জাতীয় সম্পদ বিনষ্ট করবে না । ফলে জাতীয় উন্নয়ন তরান্বিত হবে।
পরিশেষে বলা যায়, দেশপ্রেম হলো একটি মানসিক ও বিমূর্ত ধারণা । দেশপ্রেম জাতি, জাতীয়তা ও রাষ্ট্র গঠন এবং রাষ্ট্রকে টিকিয়ে রাখার মূলমন্ত্র হিসেবে কাজ করে । তাই দেশপ্রেমের ওপর জাতীয় উন্নতি নির্ভরশীল।