Facebook Pixel

রফিকের দাদা তার সাথে গল্প করতে গিয়ে বাংলার অর্থনীতির ঐতিহাসিক। পটভূমি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যখনই ব্রিটিশরা এদেশে ব্যবসার উদ্দেশ্যে এসে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা শুরু করে তখন থেকেই এদেশের জনগণকে শোষণ করে। পরবর্তীতে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশটি স্বাধীন হওয়ার পর অঞ্চল দুটির মধ্যে আঞ্চলিক বৈষম্য চরম আকার ধারণ করে। ১৯৭১ সালে আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া এদেশটি বর্তমানে গ্রামীণ 'অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ অর্থনীতির বিভিন্ন উপখাতের। উন্নয়ন করে জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সক্ষম হচ্ছে। ক. পরিবেশ কী? খ. বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ব্যাখ্যা কর। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত স্বাধীনতাপূর্ব শাসকগোষ্ঠীর শোষণের ইতিহাস বর্ণনা কর। ঘ. ২০৪১ সালে উদ্দীপকে বর্ণিত দেশটির উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: অর্থনীতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিচয়

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. একটি সমাজ বা দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, মাটি, জলবায়ু নদনদী, বনজ, প্রাণিজ প্রভৃতি সম্পদের সম্মিলিত প্রভাবে সৃষ্ট অবস্থাকে পরিবেশ বলে। খ. বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায়। এর তিন দিকে ঘিরে রয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা ও মিজোরাম রাজ্য। দক্ষিণ-পূর্ব দিকে আছে মিয়ানমার এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। বাংলাদেশের অবস্থান ২০°৩৪′ উত্তর থেকে ২৫°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১′ পূর্ব থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমার মধ্যে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক আয়তন ৫৫.৫৯৮ বর্গমাইল বা ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল এবং অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত স্বাধীনতাপূর্ব শাসকগোষ্ঠী হলো ব্রিটিশ শাসক ও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। নিচে এদের শোষণের ইতিহাস বর্ণনা করা হলো- বাংলার অর্থনৈতিক পশ্চাৎপদতার কারণ ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শোষণ। ব্রিটিশরা এদেশের সমৃদ্ধ অর্থনীতি দেখে দেশ দখলের নেশায় মেতে ওঠে। তারা এদেশ থেকে সম্পদ পাচার করে ইংল্যান্ডের শিল্প বিপ্লবের পথ সুগম করে। যার ফলে বাংলার শিল্প মুখ থুবড়ে পড়ে। বাংলার মানুষ দেউলিয়া হতে থাকে। কুটির শিল্পসমূহ ধ্বংস করার জন্য নানাবিধ নীতি প্রণয়ন করা হয়। যেমন- তাঁত শিল্প ধ্বংস করার জন্য তাঁতিদের বুড়ো আঙুল কেটে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হলেও বাংলার মানুষেরা শোষিত হতে থাকে। যেন ঔপনিবেশিক শাসনের পুনরাবৃত্তি হয়। পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙালিদেরকে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, শারীরিক, মানসিকভাবে নির্যাতন করে। বাঙালিদের মৌলিক অধিকারগুলো হরণ করে নেয় তারা। শোষণ ও নির্যাতন দিয়ে বাঙালিদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করে। উদ্দীপকে বর্ণিত রফিকের দাদার বর্ণনায় যে দেশটি উঠে এসেছে সে দেশটি হলো বাংলাদেশ। এদেশে স্বাধীনতাপূর্ব দুই শাসকগোষ্ঠী যথাক্রমে ব্রিটিশ ও পাকিস্তানিরা শোষণ করে। সুতরাং দেখা যায়, বাংলাদেশে বর্ণিত স্বাধীনতাপূর্ব শাসকগোষ্ঠীর শোষণের ইতিহাস মূলত ব্রিটিশ ও পাকিস্তানিদের শোষণের ইতিহাস। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত দেশটি হলো বাংলাদেশ। ২০৪১ সালে দেশটির উন্নত দেশে পরিণত হবার সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা হলো- বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তোরণ ঘটেছে। জাতিসংঘ ১৫ মার্চ ২০১৯ সালে এ ঘোষণা দেয়। উন্নয়নশীল দেশের জন্য মাথাপিছু আয় দরকার ১২৩০ মার্কিন ডলার সেখানে বাংলাদেশের রয়েছে ২,৭২৩ মার্কিন ডলার। মানবসম্পদ সূচকে ৬৬ প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশের রয়েছে ৭২.৯। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ থেকে ৫০ বছরেরও কম সময়ে আজকের এই উত্তরণের সরকারের রূপকল্প- - ২০২১ বাস্তবায়ন একটি বড় অর্জন। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, এমডিজি অর্জন, এসডিজি বাস্তবায়নসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লিঙ্গ সমতা, গড় আয় বৃদ্ধি, রপ্তানিমুখী শিল্পায়ন, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, পোশাক শিল্প দ্রুত উন্নতি। এছাড়া অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-৪১ 'ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০' এবং সুনীল অর্থনীতি কৌশলসমূহ বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। এসকল বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের উন্নত দেশ হবার সম্ভাবনা আছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রফিকের দাদা তার সাথে গল্প করতে গিয়ে বাংলার অর্থনীতির ঐতিহাসিক। পটভূমি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যখনই ব্রিটিশরা এদেশে ব্যবসার উদ্দেশ্যে এসে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা শুরু করে তখন থেকেই এদেশের জনগণকে শোষণ করে। পরবর্তীতে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশটি স্বাধীন হওয়ার পর অঞ্চল দুটির মধ্যে আঞ্চলিক বৈষম্য চরম আকার ধারণ করে। ১৯৭১ সালে আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীন হওয়া এদেশটি বর্তমানে গ্রামীণ 'অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়নসহ অর্থনীতির বিভিন্ন উপখাতের। উন্নয়ন করে জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সক্ষম হচ্ছে।

ক.

পরিবেশ কী?

খ.

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ব্যাখ্যা কর।

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত স্বাধীনতাপূর্ব শাসকগোষ্ঠীর শোষণের ইতিহাস বর্ণনা কর।

ঘ.

২০৪১ সালে উদ্দীপকে বর্ণিত দেশটির উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Capitalism and Material Life' গ্রন্থটি কে রচনা করেন?

'Industry and Empires' গ্রন্থের রচয়িতা কে?

M' দেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কিলোমিটার। 'M' দেশের ঐতিহাসিক পটভূমি পর্যালোচনা করে তিনটি সময়কাল পাওয়া যায়। যথা- ক. ১২০০-১৭৫...

'X' দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনের গতিধারা নিম্নরূপ:- 'X' দেশে সম্প্রতি সরকার খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষিতে পারমাণবিক...

SDG কী?

'textX' এবং 'textY' দুইটি দেশ। 'textX' দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত। শতভাগ শিক্ষিত এ দেশটির আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো...

অর্থনীতির শিক্ষক আসাদ সাহেব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বললেন, "সমষ্টিগত অর্থ...

অর্থনৈতিক কাঠামো কী?

অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০১৮ অনুযায়ী বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় কত?

আজিম স্যার ক্লাসে প্রাকৃতিক পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ছাত্রদের বললেন, গাছ পরিবেশ রক্ষার জন্য খুবই প্রয়োজনীয় উপাদান। ব...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।