ক.
বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ পূর্বাংশে অবস্থিত। এদেশ ২০০৩৪ হতে ২৬০৩৮ উত্তর অক্ষাংশে এবং ৮৮°০১ হতে ৯২°০৪১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত।
খ.
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্তর একরকম নয়। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিক দিয়ে পৃথিবীর দেশগুলোকে উন্নত, উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশে ভাগ করা হয়। উন্নত দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় ও জীবনযাত্রার মান খুব উঁচু। এসব দেশে পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ইত্যাদির পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান। সেসব দিক দিয়ে বিবেচনা করলে বাংলাদেশের অর্থনীতি উন্নত নয়।
বাংলাদেশের অর্থনীতি কোন স্তরের তা জানতে আমাদের অর্থনীতির বৈশিষ্ট্যগুলো জানা প্রয়োজন। যেমন- কৃষি খাতের প্রাধান্য, অপ্রসারিত শিল্পখাত, জনসংখ্যাধিক্য, বেকারত্ব, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা প্রভৃতি বিদ্যমান। এই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে কোনোক্রমেই উন্নত দেশের পর্যায়ে ফেলা যায় না। তবে উল্লিখিত অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যগুলোর দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ বলা যায়।
গ.
উদ্দীপকের 'X' দেশে খাদ্যশস্য উৎপাদনের চার অর্থবছরের গতিধারা উল্লেখ করা হয়েছে। নিচে সেগুলোর অবদান দণ্ডচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হলো:

ঘ.
বর্তমান সরকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে মোট ১৫,৮৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে, যা মোট বাজেটের ৫.৩৭ শতাংশ। দেশজ কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কৃষকদের সহায়তা প্রদানের জন্য সার ও অন্যান্য কৃষি কার্যক্রমের ভর্তুকি বাবদ ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে ৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। খাদ্যশস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি গৃহীত পদক্ষেপসমূহ হলো-
১. ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও মাটির স্বাস্থ্য সংরক্ষণের জন্য কৃষকপর্যায়ে সুষম সারের চাহিদা দূরীভূত করতে সরকার কর্তৃক সার বিতরণ মনিটরিং কার্যক্রম জোরদারকরণ।
২. কৃষি যান্ত্রিকীকরণে বর্তমানে ৩০ শতাংশ ভর্তুকি মূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে কৃষকপর্যায়ে উন্নয়ন সহায়তা প্রদান।
৩. মানসম্মত বীজ সরবরাহ ও সহজলভ্যতা নিশ্চিতকরণ। বিভিন্ন ফসলের হাইব্রিড ও উফশী জাতের ব্যবহার বৃদ্ধিকরণ।
৪. উপযুক্ত সেচ ব্যবস্থা/কার্যক্রম গ্রহণে কৃষককে উৎসাহিতকরণ। সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ দ্বারা সেচ প্রদানে স্মার্টকার্ড প্রচলন।
৫. খরা, বন্যা ও লবণাক্ততাসহিষ্ণু বিভিন্ন ফসলের আধুনিক জাতের আবাদ সম্প্রসারণ।
৬. ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নত ও আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে কৃষককে উৎসাহিতকরণ।
৭. দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিযোজনের জন্য আধুনিক লাগসই কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন, প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ।
৮. বসতবাড়ির আঙিনায় সবজি আবাদ এবং বিলুপ্ত প্রায় বিভিন্ন অপ্রচলিত ও প্রচলিত ফল লাগাতে চাষিদের উদ্বুদ্ধকরণ।
৯. সারা দেশে ৭২৭টি কৃষক তথ্য ও পরামর্শ কেন্দ্র স্থাপন ও কৃষকের প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ প্রদান।
তাছাড়া কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি; ক্ষুদ্র ও মাঝারি নদীতে রাবারড্যাম স্থাপনের মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ ও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি; কৃষক পর্যায়ে মানসম্পন্ন বীজ সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ; ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র স্থাপন; কৃষি তথ্য সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে ১টি কৃষি কল সেন্টার স্থাপন; কৃষিখাতে মহিলাদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি; বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BINA) এর উপকেন্দ্র স্থাপন ইত্যাদিসহ নানান উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে কৃষির সার্বিক উন্নয়নে।