Facebook Pixel

রনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিষয়ে পড়াশোনা করছে তার মূল আলোচ্য বিষয় 'সমাজ'। বিষয়টিতে সমাজের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ ছাড়াও সমাজের সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ বিষয়টি অধ্যয়নের ফলে রনি সমাজকে সহজে বুঝতে ও ব্যাখ্যা করতে পারছে। এতে সে খুব আনন্দ পায়। বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিষয়টির পঠন-পাঠন শুরু হয় ১৯৫৭ সালে। এক্ষেত্রে যারা ভূমিকা রেখেছিল রনি তাদের অবদানকে স্মরণ করে। ক. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কখন প্রতিষ্ঠিত হয়? খ. প্রত্নতত্ত্ব বলতে কী বোঝায়? গ. উদ্দীপকে বর্ণিত রনির পঠিত বিষয়টির বাংলাদেশে বিকাশের ধারা ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির জ্ঞান সমাজ পাঠে কীভাবে ভূমিকা রাখবে বলে তুমি মনে কর? ব্যাখ্যা করো।

বিষয়: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০১ঃ বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান চর্চার বিকাশ

উৎস: Board Exam Question MSB 2023, Board Exam Question DB 2023, Board Exam Question BB 2023

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২১ সালে। (খ) প্রত্নতত্ত্ব বলতে বোঝায় প্রাগৈতিহাসিক সমাজ ও মানুষ সম্পর্কিত বিজ্ঞানভিত্তিক অধ্যয়ন। প্রত্নতত্ত্বের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Archaeology', যা এসেছে গ্রিক শব্দ 'Arkhaios' (অর্থ-প্রাচীন) আর 'Logia' (অর্থ-অধ্যয়ন বা পাঠ) থেকে। অর্থাৎ, উৎপত্তিগত অর্থে প্রত্নতত্ত্ব অর্থ হচ্ছে 'প্রাচীন বিদ্যা'। ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ স্যার ই.বি. টেইলর প্রত্নতত্ত্বের সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে বলেন, "প্রত্নতত্ত্ব হচ্ছে অতীতের ধ্বংসাবশেষ সম্পর্কিত পাঠ।" সুতরাং উৎপত্তিগত অর্থ এবং টেইলর প্রদত্ত সংজ্ঞার আলোকে বলা যায়, অতীতকালের মানুষের ব্যবহার্য দ্রব্যসামগ্রী, হাতিয়ার, বাসগৃহ ইত্যাদির ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সে সময়ের সামাজিক জীবনের অধ্যয়নই হলো প্রত্নতত্ত্ব। (গ) উদ্দীপকের রনির পঠিত বিষয়টি হলো সমাজবিজ্ঞান। সমাজবিজ্ঞান হলো বিজ্ঞানের সেই শাখা, যাতে সমাজের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ, সমাজস্থ সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ক, সামাজিক প্রতিষ্ঠানসহ সমগ্র সমাজ নিয়ে আলোচনা, গবেষণা ও বিশ্লেষণ করা হয়। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, রনির পঠিত বিষয়ের মূল আলোচ্য বিষয় 'সমাজ' এবং বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এর পঠন-পাঠন শুরু হয় ১৯৫৭ সালে। এই তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, রনি সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করছে। বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞানের বিকাশধারা ১৯৫৭ সালে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভের ফলে ত্বরান্বিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'সমাজবিজ্ঞান বিভাগ' প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ১৯৭০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হলে এই শাস্ত্রটি চর্চার পথ আরও প্রশস্ত হয়। ধীরে ধীরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০২ সালে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১০ সালে এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১২ সালে সমাজবিজ্ঞান চর্চা শুরু হয়। এছাড়া পরবর্তীকালে দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান চর্চা বিকাশ লাভ করে। বর্তমানে এনসিটিবি'র অধীনে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদেরও সমাজবিজ্ঞান পড়ানো হয়। সমাজবিজ্ঞানের এই সাবলীল বিকাশধারায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের গবেষণা ও অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত বিদ্বান ব্যক্তিদের রচনা প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখেছে। (ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টি তথা সমাজবিজ্ঞান সমাজ সম্পর্কিত পূর্ণাঙ্গ আলোচনার মাধ্যমে সমাজ পাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি। সমাজবিজ্ঞান হচ্ছে এমন একটি বিজ্ঞান, যা সমাজের সঙ্গে জড়িত সব বিষয়ের বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ করে। অর্থাৎ সমাজের মধ্যে যেসব বিষয় রয়েছে তার প্রত্যেকটি সমাজবিজ্ঞান পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অধ্যয়ন করে। সমাজ, সংঘ, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সমাজকাঠামো, সামাজিক স্তরবিন্যাস, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক সমস্যা, সামাজিক পরিবর্তন, সামাজিক ইতিহাস এবং সামাজিক উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয় সমাজবিজ্ঞানের আলোচনার আওতাভুক্ত। অর্থাৎ সমাজের সঙ্গে জড়িত সব বিষয় নিয়েই সমাজবিজ্ঞান গভীরভাবে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে। সমাজবিজ্ঞানের আলোচনার পরিধি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, সমগ্র সমাজ হচ্ছে সমাজবিজ্ঞানের গবেষণার ক্ষেত্র। সুতরাং এই শাস্ত্রের জ্ঞান থাকলে সমাজকাঠামো তথা ব্যক্তি, গোষ্ঠী এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের গঠন, পারস্পরিক সম্পর্ক ও কার্যাবলি অনুধাবন ও বিশ্লেষণ করা সম্ভব। বস্তুত সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞানই পরিবর্তনশীল সমাজের ধরন, পরিবর্তনের কারণ ও গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে বুঝতে সাহায্য করে। সর্বোপরি সমাজের উৎপত্তি, ক্রমবিকাশ এবং পরিবর্তনের ধারা প্রভৃতি পাঠে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞানই মুখ্য ভূমিকা পালন করে। পরিশেষে বলা যায়, সমাজবিজ্ঞানের তাত্ত্বিক ও বিশ্লেষণমূলক জ্ঞান সমাজ অধ্যয়নের একটি অপরিহার্য হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenMymensingh Board (2023)Dhaka Board (2023)Barisal Board (2023)

রনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যে বিষয়ে পড়াশোনা করছে তার মূল আলোচ্য বিষয় 'সমাজ'। বিষয়টিতে সমাজের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ ছাড়াও সমাজের সকল বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ বিষয়টি অধ্যয়নের ফলে রনি সমাজকে সহজে বুঝতে ও ব্যাখ্যা করতে পারছে। এতে সে খুব আনন্দ পায়। বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিষয়টির পঠন-পাঠন শুরু হয় ১৯৫৭ সালে। এক্ষেত্রে যারা ভূমিকা রেখেছিল রনি তাদের অবদানকে স্মরণ করে। ক. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কখন প্রতিষ্ঠিত হয়?

খ. প্রত্নতত্ত্ব বলতে কী বোঝায়?

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত রনির পঠিত বিষয়টির বাংলাদেশে বিকাশের ধারা ব্যাখ্যা করো।

ঘ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয়টির জ্ঞান সমাজ পাঠে কীভাবে ভূমিকা রাখবে বলে তুমি মনে কর? ব্যাখ্যা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Course de Philosophie Positive' বইটি কোন সমাজবিজ্ঞানীর লেখা?

'অর্থশাস্ত্র' গ্রন্থটির লেখক কে?

'আকবরনামা' গ্রন্থের লেখক কে?

ক. অগবার্নের মতে সংস্কৃতির ধরনসমূহ কী কী? খ. 'সংস্কৃতি একটি জীবনপ্রণালি' - বুঝিয়ে লেখ। গ. উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানের ...

কখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ চালু হয়?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কখন প্রতিষ্ঠিত হয়?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম অধ্যক্ষ কে ছিলেন?

দেশবিভাগের পূর্বে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত উচ্চশিক্ষার এ প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পথ সুগম হয়। তার পর অনেক...

দেশবিভাগের পূর্বে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত উচ্চশিক্ষার এ প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাজবিজ্ঞান চর্চার পথ সুগম হয়। তার পর অনেক...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।