Facebook Pixel

রত্না ছোট বোন ঝুমীকে নিয়ে মেলায় গেল। রত্না মেলার প্রতিটি দোকান প্রত্যক্ষ করে সিদ্ধান্ত নিল তারা পাখির মেলায় এসেছে। ঝুমীর বিশ্বাস, টিয়া পাখি, ময়না পাখি, দোয়েল পাখি যেহেতু আকাশে উড়ে, সুতরাং সকল পাখি আকাশে উড়ে। ক. অপ্রকৃত আরোহ কাকে বলে? খ. অবৈজ্ঞানিক আরোহের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। গ. রত্নার সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোন ধরনের অপ্রকৃত আরোহ প্রকাশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. ঝুমীর বক্তব্য কোন ধরনের প্রকৃত আরোহকে নির্দেশ করে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে রত্না ও ঝুমীর বক্তব্যের সাদৃশ্য দেখাও।

বিষয়: যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ আরোহের প্রকারভেদ

উৎস: Board Exam Question MSB 2024

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) যে সব আরোহের মধ্যে আরোহের মৌলিক বৈশিষ্ট্য আরোহমূলক উল্লম্ফন থাকে না, সেসব আরোহকে অপ্রকৃত আরোহ বলে। (খ) যে আরোহের ক্ষেত্রে কয়েকটি অনুকূল দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে সমজাতীয় সকল দৃষ্টান্ত সম্পর্কে সার্বিকভাবে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। এই আরোহের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো: ১. অবৈজ্ঞানিক আরোহের মধ্যে আরোহের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে, বিধায় এখানে জ্ঞাত থেকে অজ্ঞাতে গমন করা হয়। ২. অবৈজ্ঞানিক আরোহে কার্যকারণ সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে না, বিধায় এর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত নয়, বরং সম্ভাব্য হয়ে থাকে। (গ) উদ্দীপকের রত্নার সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে অপ্রকৃত আরোহের প্রকারভেদ পূর্ণাঙ্গ আরোহ প্রকাশিত হয়েছে। অপ্রকৃত আরোহের প্রকারভেদগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো পূর্ণাঙ্গ আরোহ। এই প্রকার আরোহে প্রথমে কতিপয় দৃষ্টান্তের প্রতিটিকে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং তারপর সকল দৃষ্টান্ত সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থাৎ, যে আরোহে কতিপয় দৃষ্টান্তের সবগুলো পর্যবেক্ষণ করার পর সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে। উদ্দীপকের রত্না মেলায় গিয়ে সবগুলো দোকানের প্রতিটি প্রত্যক্ষ করার পর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, সে পাখির মেলায় গিয়েছে। যেহেতু রত্না প্রতিটি দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, তাই রত্নার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ আরোহ নির্দেশিত হয়েছে। (ঘ) উদ্দীপকের ঝুমীর বক্তব্যের মাধ্যমে অবৈজ্ঞানিক আরোহ নির্দেশিত হয়েছে। অন্যদিকে, রত্নার বক্তব্যের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ আরোহ নির্দেশিত হয়েছে। উদ্দীপকের ঝুমী টিয়া, ময়না ও দোয়েল পাখি আকাশে উড়তে দেখার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে 'সকল পাখি আকাশে উড়ে' এরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। যে আরোহে কতিপয় অনুকূল দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সকল দৃষ্টান্ত সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। যেহেতু ঝুমী কয়েকটি দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সকল দৃষ্টান্ত সম্পর্কে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করেছে, তাই ঝুমীর বক্তব্যের মাধ্যমে অবৈজ্ঞানিক আরোহ নির্দেশিত হয়েছে। অন্যদিকে, রত্না মেলায় সবগুলো দোকান প্রত্যক্ষ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, সে পাখির মেলায় গিয়েছে। প্রতিটি দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করার পর ঐ দৃষ্টান্তগুলো সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়াকে পূর্ণাঙ্গ আরোহ বলে। তাই রত্নার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ আরোহ নির্দেশিত হয়েছে। পাঠ্যবইয়ের আলোকে রত্না ও ঝুমীর বক্তব্যের সাদৃশ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, এদের উভয়ের বক্তব্যে পরিলক্ষিত আরোহ দুটি ভিন্ন প্রকৃতির হলেও উভয়েই আরোহ অনুমানের অন্তর্ভুক্ত। উভয় প্রকার আরোহের ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের পর্যবেক্ষণ থাকে। অবৈজ্ঞানিক ও পূর্ণাঙ্গ উভয় আরোহ অনুমানের ক্ষেত্রে সার্বিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠার প্রয়াস থাকে এবং উভয় প্রকার আরোহে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরিশেষে বলা যায়, রত্না ও ঝুমীর বক্তব্যে পরিলক্ষিত আরোহ দুটি ভিন্ন প্রকৃতির হলেও উভয়েই আরোহ অনুমানের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenMymensingh Board (2024)

রত্না ছোট বোন ঝুমীকে নিয়ে মেলায় গেল। রত্না মেলার প্রতিটি দোকান প্রত্যক্ষ করে সিদ্ধান্ত নিল তারা পাখির মেলায় এসেছে। ঝুমীর বিশ্বাস, টিয়া পাখি, ময়না পাখি, দোয়েল পাখি যেহেতু আকাশে উড়ে, সুতরাং সকল পাখি আকাশে উড়ে। ক. অপ্রকৃত আরোহ কাকে বলে? খ. অবৈজ্ঞানিক আরোহের দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো। গ. রত্নার সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোন ধরনের অপ্রকৃত আরোহ প্রকাশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. ঝুমীর বক্তব্য কোন ধরনের প্রকৃত আরোহকে নির্দেশ করে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে রত্না ও ঝুমীর বক্তব্যের সাদৃশ্য দেখাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।