Facebook Pixel

রাজনৈতিক মতবিরোধের জন্য একই সম্প্রদায়ভুক্ত জনপদের দুটি বিবাদমান গ্রুপ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের কারণে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি লক্ষ্য করে শান্তিপ্রিয় কিছু লোক মীমাংসার জন্য শালিসের প্রস্তাব করেন। শর্ত সাপেক্ষে সংঘর্ষ বন্ধের প্রস্তাব গৃহিত হয়। কিন্তু এক পক্ষ শর্ত ভঙ্গ করে চাতুরতা করলে শালিস মীমাংসা অকার্যকর হয় এবং সংঘর্ষ অব্যাহত তাকে। ফলে উভয় সম্প্রদায়ের লোকদের সমূহ ক্ষতি সাধিত হয়। এ ঘটনা ইতিহাসে একটি নতুন রাষ্ট্র ব্যবস্থার সূত্রপাত ঘটায়। ক. আবুজার গিফারিকে কোথায় নির্বাসন দেওয়া হয়? খ. হুদাইবিয়া সন্ধিকে ফাতহুম মুবিন বলা হয় কেন? গ. উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে- ব্যাখ্যা কর। ঘ. তুমি কি মনে কর তোমার পঠিত ঘটনাটি পরবর্তী জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষণীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ খুলাফায়ে রাশেদিন

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. আবুজার গিফারিকে রাবাদাতে নির্বাসন দেওয়া হয়। খ. মক্কার কুরাইশদের সাথে হযরত মুহম্মদ (সা.) ৬ষ্ঠ হিজরিতে হুদায়বিয়া নামক স্থানে যে সন্ধি বা শান্তি চুক্তি সম্পাদন করেন ইসলামের ইতিহাসে তা হুদায়বিয়া সন্ধি নামে পরিচিত। হুদাইবিয়ার অত্যাচারী ও ষড়যন্ত্রকারীরা এ চুক্তিতে হযরতের সাথে স্বাক্ষর করে প্রকৃতপক্ষে তাকে আল্লাহর প্রেরিত পুরুষরূপে স্বীকৃতি প্রদান করে। বাহ্যিক দৃষ্টিতে হুদাইবিয়ার সন্ধি মুসলমানদের স্বার্থের পরিপন্থি বলে মনে হলেও দূরদৃষ্টি দিয়ে বিচার করলে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, তা মুসলমানদের অনুকূলে সম্পাদিত হয়েছে। ইসলামের সর্বাত্মক বিজয় সংকেত এতে লুক্কায়িত ছিল। তাই পবিত্র কুরআনে এ চুক্তিকে 'ফাতহুম মুবিন' বা প্রকাশ্য বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। গ. উদ্দীপকের সাথে আমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত সিফফিনের যুদ্ধ ও দুমার মীমাংসার ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে। হযরত আলী (রা.) ৬৫৬ সালে খিলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণের প্রথম থেকেই সাম্রাজ্যে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা বিদ্যমান ছিল। উক্ত পরিস্থিতি নির্মূলে প্রাদেশিক শাসনকর্তার রদবদল করা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। খলিফা কালবিলম্ব না করে বসরা, কুফা, মিশর ও সিরিয়ার শাসনকর্তাদের পদত্যাগের নির্দেশ দেন। অন্যান্য শাসনকর্তারা খলিফার নির্দেশ মান্য করলেও সিরিয়ার শাসনকর্তা মুয়াবিয়া খলিফার নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। মুয়াবিয়ার বিশ্বাসঘাতকতা ও অবাধ্যতার উপযুক্ত জবাব এবং ইসলামে ঐক্য ও সংহতিকে রক্ষার জন্য হযরত আলী (রা.) ৬৫৭ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে ৫০,০০০ সৈন্যসহ সিরিয়া অভিমুখে রওয়ানা হন। খলিফার এ অগ্রগতির সংবাদে কালবিলম্ব না করে মুয়াবিয়াও ৬০,০০০ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে সিফফিন নামক প্রান্তরে উপস্থিত হন। যুদ্ধে পরাজয় যখন আসন্ন তখন মুয়াবিয়া আমর আল আসের পরামর্শে বর্শার মাথায় কুরআন ঝুলিয়ে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান। ঘোষণা করা হয় সালিশ বৈটকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে। সিফফিনের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে হযরত আলী (রা.) ও মুয়াবিয়ার মধ্যে যে সালিশ সংঘটিত হয় তাই ইতিহাসে দুমার মীমাংসা নামে পরিচিত। দুমাতুল জন্দল নামক স্থানে এ মীমাংসা অনুষ্ঠিত হয়। এতে হযরত আলী (রা.)-এর পক্ষে আবু মুসা আশারির নেতৃত্বে ৪০০ জন ও মুয়াবিয়ার পক্ষে আমর আল আসের নেতৃত্বে ৪০০ জন লোক অংশগ্রহণ করে। তবে আমরের ধূর্ততায় দুমাতুল জন্দলের সালিশি রায় প্রহসনে রূপ নেয়। অতএব উদ্দীপকের সাথে সিফফিনের যুদ্ধ ও দুমার মীমাংসার মিল রয়েছে। ঘ. হ্যাঁ, আমি মনে করি পঠিত ঘটনাটি পরবর্তী জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষণীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে। হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর মধ্যকার গৃহযুদ্ধের ফলে মুসলমানদের ঐক্য ও সংহতি বিপন্ন হয়। আর দুমাতুল জন্দলের রায় প্রহসনে পরিণত হলে মুসলমানগণ পরবর্তীকালে বিভিন্ন দল ও উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যার জন্য মুসলমানদের ভবিষ্যৎ ভাগ্য আরও অনিশ্চয়তার দিকে অগ্রসর হয়। মুসলিম ঐক্য বিনষ্ট হলে আর কোনোদিন মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতি গড়ে ওঠেনি। এ যুদ্ধের ফলে মুসলিম সাম্রাজ্য দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। মিশর ও সিরিয়া খিলাফত হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে হযরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর শাসনাধীনে শাসিত হতে থাকে। এ ধরনের বিভক্তি ও বিচ্ছেদের কারণে ইসলামি খিলাফতের প্রতি মানুষ বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে। হযরত আলী (রা.) ও হযরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর মধ্যকার যুদ্ধের ফলে সাম্রাজ্যের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টি হয়। ৬৬২ খ্রিষ্টাব্দে খারিজিদের হাতে হযরত আলী (রা.) নিহত হলে ইসলামি খিলাফত ব্যবস্থার পরিসমাপ্তি ঘটে। খিলাফতের মতো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্থলে ইসলামি শাসনব্যবস্থায় রাজতন্ত্রের সূচনা হয়। হযরত মুয়াবিয়া (রা.) তার পুত্র ইয়াজিদকে পরবর্তী উত্তরাধিকার মনোনয়ন করলে রাজতন্ত্র চালু হয়। তাই সবার জন্য শিক্ষণীয় বিষয় হিসেবে দুমাতুল জন্দলের মীমাংসার ব্যর্থতা মুসলিম জাহানের জন্য বিশাল ক্ষতি বয়ে আনে। তাই এটি পরবর্তী জনগোষ্ঠীর শিক্ষণীয় বিষয় হয়ে আছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

রাজনৈতিক মতবিরোধের জন্য একই সম্প্রদায়ভুক্ত জনপদের দুটি বিবাদমান গ্রুপ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের কারণে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি লক্ষ্য করে শান্তিপ্রিয় কিছু লোক মীমাংসার জন্য শালিসের প্রস্তাব করেন। শর্ত সাপেক্ষে সংঘর্ষ বন্ধের প্রস্তাব গৃহিত হয়। কিন্তু এক পক্ষ শর্ত ভঙ্গ করে চাতুরতা করলে শালিস মীমাংসা অকার্যকর হয় এবং সংঘর্ষ অব্যাহত তাকে। ফলে উভয় সম্প্রদায়ের লোকদের সমূহ ক্ষতি সাধিত হয়। এ ঘটনা ইতিহাসে একটি নতুন রাষ্ট্র ব্যবস্থার সূত্রপাত ঘটায়।

ক.

আবুজার গিফারিকে কোথায় নির্বাসন দেওয়া হয়?

খ.

হুদাইবিয়া সন্ধিকে ফাতহুম মুবিন বলা হয় কেন?

গ.

উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে- ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

তুমি কি মনে কর তোমার পঠিত ঘটনাটি পরবর্তী জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষণীয় বিষয়ে পরিণত হয়েছে? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

'Garden of Death' বলা হয় কাকে?

অটোমান সুলতান মহামতি সুলাইমান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর থেকে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এব...

অটোমান সুলতান মহামতি সুলায়মান একজন শ্রেষ্ঠ সাম্রাজ্য বিস্তারকারী শাসক ছিলেন। তাঁর সাম্রাজ্য কৃষ্ণসাগর হতে তিউনিসিয়া এবং ...

অমুসলমানদের ভূমি কর কোনটি?

আফজাল মিয়া একটি সিরামিক ইন্ডাস্ট্রির কর্ণধার। তার বিরুদ্ধে দুটি মারাত্মক অভিযোগ তোলা হয়। তিনি তার আপনজনদেরকে প্রতিষ্ঠানে...

আবু জার আল গিফারী (রা.) মুসলমানদের যে জীবনযাপনে বীতশ্রদ্ধ হয়ে কঠোর প্রতিবাদ করেন-) i. সাদাসিধে জীবন ii. জাঁকজমকপূর্ণ ঐশ...

আবু বকর (রা.)-কে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা হয়- i. শিশু ইসলামি রাষ্ট্রকে রক্ষা ii. রিদ্দার যুদ্ধে জয় iii. মিরাজের ঘটনা বিশ্ব...

আবু বকর (রা.) কত খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন?

আবু বকর (রা.) কত হিজরিতে পারস্যে সামরিক অভিযান প্রেরণ করেন ?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।