Facebook Pixel

রঘুনাথপুর অঞ্চলের গ্রামগুলো একে অপরের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিল। এক পর্যায়ে গ্রামগুলো দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে মহাযুদ্ধে লিপ্ত হয়। যুদ্ধ শেষে সবাই অনুধাবন করে যে, যুদ্ধ কখনো শান্তি আনতে পারে না। তাই সকল গ্রাম মিলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সংগঠন গড়ে তুলে। ফলে আর কোনো বড় যুদ্ধ সংঘটিত হবার আশঙ্কা দূর হয়ে যায়। ক. বাংলাদেশ কত সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে? খ. কীভাবে নিরাপত্তা পরিষদ গঠিত হয়? গ. উদ্দীপকের সংগঠনের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন সংগঠনের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. বিশ্বশান্তি রক্ষায় উক্ত সংগঠনের সাফল্য-ব্যর্থতা বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ জাতিসংঘ ও বিশ্বশান্তি

উৎস: Board Exam Question Combined 2026

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে। খ. জাতিসংঘের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী অঙ্গসংগঠন হলো 'নিরাপত্তা পরিষদ', যা মোট ১৫টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত হয়। এই ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ৫টি হলো স্থায়ী সদস্য এবং বাকি ১০টি হলো অস্থায়ী সদস্য। স্থায়ী ৫টি রাষ্ট্র হলো— যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ফ্রান্স ও চীন, যাদের 'ভেটো' বা কোনো প্রস্তাবে অসম্মতি জানানোর বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে। অন্যদিকে, বাকি ১০টি অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ২ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে থাকে। গ. উদ্দীপকের রঘুনাথপুর অঞ্চলের গ্রামগুলোর মিলে তৈরি করা শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী সংগঠনের সাথে পাঠ্যবইয়ের আন্তর্জাতিক সংগঠন 'জাতিসংঘ' -এর হুবহু মিল রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, রঘুনাথপুর অঞ্চলের গ্রামগুলো দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে এক ভয়াবহ যুদ্ধে লিপ্ত হয়। যুদ্ধ শেষে ধ্বংসলীলা দেখে তারা বুঝতে পারে যে যুদ্ধ কখনো শান্তি আনতে পারে না। তাই ভবিষ্যৎ সংঘাত এড়াতে এবং শান্তি বজায় রাখতে তারা সম্মিলিতভাবে একটি সংগঠন গড়ে তোলে। পাঠ্যবইয়ের আলোকে আমরা জানি, পৃথিবীতে দুটি ভয়াবহ বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানি বিশ্ববিবেককে গভীরভাবে নাড়া দেয়। বিশ্বের নেতৃবৃন্দ উপলব্ধি করেন যে, মানবসভ্যতাকে টিকিয়ে রাখতে হলে যুদ্ধ পরিহার করে বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এই উদ্দেশ্যেই ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর বিশ্বের স্বাধীন রাষ্ট্রগুলো মিলে 'জাতিসংঘ' প্রতিষ্ঠা করে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত না হয়। উদ্দীপকে উল্লিখিত মহাযুদ্ধ শেষে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সংগঠন তৈরির বিষয়টি মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে গঠিত জাতিসংঘের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকেই নির্দেশ করে। ঘ. উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সংগঠনটি হলো 'জাতিসংঘ'। বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘের সাফল্য ও ব্যর্থতা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে নিচে বিশ্লেষণ করা হলো: সাফল্য: ১. তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ রোধ: জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে আর কোনো বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হতে দেয়নি। ২. আঞ্চলিক সংঘাত নিরসন: সুয়েজ খাল সংকট, কঙ্গো সমস্যা, কোরিয়া যুদ্ধ, কিংবা ইরান-ইরাক যুদ্ধের মতো ভয়াবহ আঞ্চলিক সংঘাতগুলো নিরসনে জাতিসংঘ কার্যকর মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। ৩. উপনিবেশবাদ বিলোপ ও মানবাধিকার: এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে জাতিসংঘ সাহায্য করেছে। এছাড়া ১৯৪৮ সালে 'মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণাপত্র' প্রকাশের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ৪. শান্তিরক্ষী বাহিনী: বিশ্বের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে 'জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী' প্রেরণ করে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সংস্থাটি অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছে। ব্যর্থতা: ১. পরাশক্তিগুলোর আধিপত্য ও ভেটো প্রয়োগ: জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ৫টি স্থায়ী সদস্যের 'ভেটো' ক্ষমতা থাকায় পরাশক্তিগুলো প্রায়শই নিজেদের স্বার্থে এই ক্ষমতার অপব্যবহার করে। ফলে আগ্রাসন বন্ধের অনেক যৌক্তিক সিদ্ধান্তও আটকে যায়। ২. দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা সমাধানে অক্ষমতা: কাশ্মীর সংকট, ফিলিস্তিন সমস্যা, কিংবা সিরিয়া যুদ্ধের মতো দীর্ঘস্থায়ী ও অমানবিক সংঘাতগুলো স্থায়ীভাবে সমাধানে জাতিসংঘ চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। পরাশক্তিগুলোর সদিচ্ছার অভাবেই মূলত এসব সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। পরিশেষে বলা যায়, পরাশক্তিগুলোর স্বার্থের দ্বন্দ্বে জাতিসংঘ অনেক ক্ষেত্রে অসহায়ত্ব ও ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও, বিশ্বশান্তি রক্ষায় এর সামগ্রিক সাফল্য কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমান বিশ্বে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো ধ্বংসযজ্ঞ এড়াতে এমন একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনের অস্তিত্ব মানবসভ্যতার জন্যই অপরিহার্য।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenCombined Board (2026)

রঘুনাথপুর অঞ্চলের গ্রামগুলো একে অপরের সাথে দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিল। এক পর্যায়ে গ্রামগুলো দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে মহাযুদ্ধে লিপ্ত হয়। যুদ্ধ শেষে সবাই অনুধাবন করে যে, যুদ্ধ কখনো শান্তি আনতে পারে না। তাই সকল গ্রাম মিলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সংগঠন গড়ে তুলে। ফলে আর কোনো বড় যুদ্ধ সংঘটিত হবার আশঙ্কা দূর হয়ে যায়।

ক.

বাংলাদেশ কত সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে?

খ.

কীভাবে নিরাপত্তা পরিষদ গঠিত হয়?

গ.

উদ্দীপকের সংগঠনের সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন সংগঠনের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

বিশ্বশান্তি রক্ষায় উক্ত সংগঠনের সাফল্য-ব্যর্থতা বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

UNDCP মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে- i. উৎপাদন কমিয়ে ii. ব্যবহারকারীদের চিকিৎসা দিয়ে iii. ব্যবহারকারীদের...

WHO প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?

ক. জাতিসংঘের সদস্যসংখ্যা কত? খ. ভেটো ক্ষমতা কী? গ. উদ্দীপকে কোন সংস্থাটির চিত্র প্রকাশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. নিরাপত্ত...

ক. জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিবের নাম কী? খ. ট্রম্যান ডকট্রিন কী প্রভাব ফেলেছিল মূল বিষয় ব্যাখ্যা কর। গ. '?' স্থানে কোন সংস...

ক. VC ভিচি সরকার কোন দেশে গড়ে উঠে ? খ. টেনিস কোর্টের শপথ বলতে কী বোঝ ? গ. উদ্দীপক [ ক ] চিহ্নিত স্থান তোমার পঠিত কোন সং...

ক. সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে কতটি রাষ্ট্র গঠিত হয় ? খ. নেপোলিয়ন কোড বলতে কী বোঝ ? গ. উদ্দীপকে কোন সংস্থাটির চিত্র প্রকাশিত...

ILO-এর উদ্দেশ্য কোনটি?

‘X’ ও ‘Y’ রাষ্ট্র দুটির সীমান্তবর্তী নদীর মোহনায় নতুন একটি দ্বীপ। জেগে উঠলে উভয় দেশই এর মালিকানা দাবি করে। দ্বীপটি মাল...

আঞ্চলিক কিংবা আন্তর্জাতিক যে ধরনের সংগঠনই হোক না কেন সময় সময় তার পরিবর্তন করার প্রয়োজন রয়েছে। তাছাড়া পরিবর্তনশীল সা...

আটলান্টিক সনদ কোন দুটি দেশের গোপন আলোচনার ফসল?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।