ক.
'VC' ভিচি সরকার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে ফ্রান্সে গড়ে ওঠে।
খ.
ফ্রান্সে সমাজের তৃতীয় শ্রেণির সদস্যরা এস্টেট জেনারেলের অধিবেশনে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত হয়ে পার্শ্ববর্তী একটি টেনিস কোর্টে মিলিত হয়ে শপথগ্রহণ করেন। ১৭৮৯ সালের ২০ জুন গৃহীত এ শপথ Tennis Court Oath নামে সুপরিচিত।
‘টেনিস কোর্ট শপথ’-এ বলা হয়, ফ্রান্সের জন্য একটি নতুন সংবিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত তৃতীয় শ্রেণির ঘোষিত জাতীয় সভা বলবৎ থাকবে। যেখানে এ সভা বসবে সেখানেই তা বৈধ বলে গণ্য হবে।
গ.
উদ্দীপকে ক চিহ্নিত স্থান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে নির্দেশ করে ।
বিশ্বের সব স্বাধীন দেশ নিয়ে জাতিসংঘ গঠিত। প্রতিষ্ঠাকালে এর সদস্য | সংখ্যা ৫১ থাকলেও বর্তমানে ১৯৩টি স্বাধীন দেশ এর সদস্য। মোট ৬টি পৃথক সংস্থার সমন্বয়ে জাতিসংঘ গড়ে ওঠে। এগুলো হলো- ১. সাধারণ পরিষদ, ২. নিরাপত্তা পরিষদ, ৩. অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ, ৪. অছি পরিষদ, ৫. আন্তর্জাতিক বিচারালয় এবং ৬ সচিবালয়। জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত
প্রতিটি দেশের ৫ জন করে প্রতিনিধির সমন্বয়ে সাধারণ পরিষদ গঠিত। তবে প্রতিটি দেশের ভোট একটি করে। জাতিসংঘের মূল নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী নিরাপত্তা পরিষদ। শুরুতে ৫টি স্থায়ী সদস্য (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন) ও ৬টি অস্থায়ী সদস্য নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ গঠিত হলেও বর্তমানে ৫ স্থায়ী সদস্য এবং ১০ অস্থায়ী সদস্য মিলে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদ গঠিত হচ্ছে। এছাড়া ৫৪ সদস্য বিশিষ্ট অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ প্রতিবছর দুইবার অধিবেশনে মিলিত হয়ে এর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ১৯৪৫ সালে লীগ অব নেশন্সের ১১টি দেশের দায়িত্ব নিয়ে অছি পরিষদ কার্যক্রম শুরু করলেও বর্তমানে এর কার্যক্রম নেই বললেই চলে। জাতিসংঘের প্রধান বিচার বিভাগীয় সংস্থা হিসেবে কাজ করছে আন্তর্জাতিক আদালত। প্রাত্যহিক দাপ্তরিক কাজকর্ম পরিচালনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ইস্টার নদীর তীরে জাতিসংঘের সদর দপ্তর স্থাপন করা হয়েছে। একজন মহাসচিব ও সাংগঠনিক কর্মীদের নিয়ে এ দপ্তর গঠিত।
নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ী ৫টি শক্তিশালী দেশ। উদ্দীপকের ছকটিতে এ পাঁচটি দেশ ও একটি সংগঠনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ উদ্দীপকের ক চিহ্নিত স্থানটি আমার পঠিত সংগঠন জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে নির্দেশ করে। নিরাপত্তা পরিষদ ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন এবং জাতিসংঘের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তসমূহ নিরাপত্তা পরিষদ নিয়ে থাকে।
ঘ.
বিভিন্ন নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় উক্ত সংগঠন তথা নিরাপত্তা পরিষদ কাজ করে থাকে ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভীষিকার পর বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় গঠিত জাতিসংঘ মূলত কয়েকটি অঙ্গ সংগঠনের সম্মিলিত রূপ। এগুলোর মধ্যে নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী হলো নিরাপত্তা পরিষদ। বিশ্বশান্তি রক্ষার প্রাথমিক ও প্রধান দায়িত্ব এই পরিষদের। কাজের পরিধি ও গুরুত্ব বিবেচনায় নিরাপত্তা পরিষদকে তাই জাতিসংঘের মেরুদণ্ড বা হূৎপিণ্ড বলা হয়। নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই জাতিসংঘ নিজেকে অত্যাধিক ক্ষমতাসম্পূর্ণ সম্পন্ন সংস্থায় পরিণত করেছে; যেমন- ক. শান্তিভঙ্গ, ভীতি প্রদর্শন এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা, খ, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা, গ. আঞ্চলিক বন্দোবস্তুবিষয়ক ক্ষমতা, ঘ. অছি বিষয়ক ক্ষমতা, ঙ. নতুন সদস্য গ্রহণ বিষয়ক ক্ষমতা, চ, সদস্য বহিষ্কার বিষয়ক ক্ষমতা, ছ, নির্বাচনমূলক ক্ষমতা, জ, মিলিটারি স্টাফ কমিটি গঠন ।
এছাড়াও নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যগণ ভেটো ক্ষমতার অধিকারী। জাতিসংঘ পরিচালনার সবচেয়ে বেশি অর্থও দিয়ে থাকে এ রাষ্ট্রগুলো। এভাবে নিজেদের বিভিন্ন ক্ষমতা প্রয়োগের মাধ্যমে নিরাপত্তা পরিষদ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।