Facebook Pixel

যুক্তি-১: সব মানুষ হয় মরণশীল। সব মাছ হয় মরণশীল। ∴ সকল প্রাণী হয় মরণশীল। যুক্তি-২: আমি এ যাবৎ যত ধার্মিক লোক দেখেছি তারা সকলে সৎ। অতএব, সকল ধার্মিক লোক হয় সৎ। ক. প্রকৃত আরোহ কাকে বলে? খ. 'আরোহমূলক লম্ফ আরোহের প্রাণ'- ব্যাখ্যা করো। গ. যুক্তি-১ কোন ধরনের আরোহ? ব্যাখ্যা করো। ঘ. যুক্তি-১ ও যুক্তি-২ এ নির্দেশিত আরোহসমূহের তুলনামূলক পার্থক্য আলোচনা করো।

বিষয়: যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৩ঃ আরোহের প্রকারভেদ

উৎস: Board Exam Question ChB 2025

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) যে আরোহ অনুমানে আরোহমূলক লম্ফ উপস্থিত থাকে, তাকে প্রকৃত আরোহ বলে। (খ) আরোহ অনুমানে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া হয়। এই জানা থেকে অজানা, বিশেষ থেকে সার্বিক বা নিরীক্ষিত দৃষ্টান্ত থেকে অনিরীক্ষিত দৃষ্টান্তে উত্তরণের যে প্রক্রিয়া, তাকেই আরোহমূলক লম্ফ বা উল্লম্ফন বলে। যুক্তিবিদ মিল ও বেইন আরোহমূলক লম্ফকে আরোহের মূল বৈশিষ্ট্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। কারণ, এই লম্ফ না থাকলে কোনো অনুমানই প্রকৃত আরোহ হতে পারে না। আরোহমূলক লম্ফই আরোহের সাহায্যে নতুন জ্ঞান আবিষ্কারের পথ প্রশস্ত করে এবং সিদ্ধান্তকে আশ্রয়বাক্যের চেয়ে ব্যাপকতর করে তোলে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আমরা সীমিত অভিজ্ঞতা থেকে অসীম বা সার্বিক সত্যে পৌঁছাতে পারি। তাই বলা হয়, 'আরোহমূলক লম্ফ আরোহের প্রাণ'। (গ) উদ্দীপকের যুক্তি-১ একটি বৈজ্ঞানিক আরোহ। যে আরোহ অনুমানে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর নির্ভর করে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের ভিত্তিতে একটি সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য স্থাপন করা হয়, তাকে বৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। বৈজ্ঞানিক আরোহে কেবল দৃষ্টান্তের সংখ্যা বাড়ানো হয় না, বরং সেই দৃষ্টান্তগুলোর পেছনে বিদ্যমান কার্যকারণ সম্পর্কটি বিশ্লেষণ করা হয়। উদ্দীপকের যুক্তি-১ এ বলা হয়েছে, সব মানুষ হয় মরণশীল এবং সব মাছ হয় মরণশীল। এই বিশেষ দৃষ্টান্তগুলোর ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, সকল প্রাণী হয় মরণশীল। এখানে মরণশীলতা কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি একটি জৈবিক ও প্রাকৃতিক নিয়ম। এই সিদ্ধান্তটি প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি এবং প্রাণীর জীবনচক্রের কার্যকারণ সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত। যেহেতু এখানে বিশেষ দৃষ্টান্ত থেকে সার্বিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে প্রাকৃতিক নিয়ম ও কার্যকারণ নীতি ব্যবহৃত হয়েছে, তাই এটি বৈজ্ঞানিক আরোহের দৃষ্টান্ত। (ঘ) উদ্দীপকের যুক্তি-১ এবং যুক্তি-২ এ যথাক্রমে বৈজ্ঞানিক আরোহ এবং অবৈজ্ঞানিক আরোহ নির্দেশিত হয়েছে। নিচে এই দুই ধরনের আরোহের তুলনামূলক পার্থক্য আলোচনা করা হলো: যুক্তি-১ এ বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের (মানুষ ও মাছ) ভিত্তিতে সার্বিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি ও কার্যকারণ সম্পর্ক বিদ্যমান, কারণ প্রাণীর মরণশীলতা একটি অমোঘ প্রাকৃতিক নিয়ম। তাই এটি বৈজ্ঞানিক আরোহ। অন্যদিকে, যুক্তি-২ এ বলা হয়েছে, 'আমি এ যাবৎ যত ধার্মিক লোক দেখেছি তারা সকলে সৎ। অতএব, সকল ধার্মিক লোক হয় সৎ।' এখানে সিদ্ধান্তটি কেবল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে। ধার্মিক হলে সৎ হতে হবে, এমন কোনো অনিবার্য প্রাকৃতিক বা কার্যকারণ নিয়ম নেই। তাই এটি অবৈজ্ঞানিক আরোহ। বৈজ্ঞানিক ও অবৈজ্ঞানিক আরোহের মূল পার্থক্যগুলো নিম্নরূপ: ১. ভিত্তি: বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি এবং কার্যকারণ নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহ কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি বা প্রতিকূল দৃষ্টান্ত রহিত অভিজ্ঞতার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়; এখানে কার্যকারণ নিয়মের কোনো স্থান নেই। ২. লক্ষ্য: বৈজ্ঞানিক আরোহের লক্ষ্য হলো প্রকৃতির নিয়ম আবিষ্কার ও প্রমাণ করা। অন্যদিকে, অবৈজ্ঞানিক আরোহের লক্ষ্য কেবল অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে একটি সাধারণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। ৩. নির্ভরযোগ্যতা: বৈজ্ঞানিক আরোহে অনুকূল ও প্রতিকূল উভয় প্রকার দৃষ্টান্ত বিশ্লেষণ করা হয়, তাই এর সিদ্ধান্ত অধিক নির্ভরযোগ্য। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহে প্রতিকূল দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ না করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ফলে একটিমাত্র প্রতিকূল দৃষ্টান্ত উপস্থিত হলেই পুরো সিদ্ধান্তটি ভুল প্রমাণিত হতে পারে। ৪. পদ্ধতি: বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠার জন্য নিরীক্ষণ, পরীক্ষণ, প্রকল্প প্রণয়ন এবং অপসারণের মতো জটিল স্তর অতিক্রম করতে হয়। কিন্তু অবৈজ্ঞানিক আরোহে এমন কোনো স্তরের প্রয়োজন হয় না; এটি সরাসরি অভিজ্ঞতার আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরিশেষে বলা যায়, যুক্তি-১ এ কার্যকারণ সম্পর্কের উপস্থিতির কারণে এটি বৈজ্ঞানিক আরোহ, আর যুক্তি-২ এ কেবল অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তির কারণে এটি অবৈজ্ঞানিক আরোহ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenChattogram Board (2025)

যুক্তি-১: সব মানুষ হয় মরণশীল। সব মাছ হয় মরণশীল। ∴ সকল প্রাণী হয় মরণশীল। যুক্তি-২: আমি এ যাবৎ যত ধার্মিক লোক দেখেছি তারা সকলে সৎ। অতএব, সকল ধার্মিক লোক হয় সৎ। ক. প্রকৃত আরোহ কাকে বলে? খ. 'আরোহমূলক লম্ফ আরোহের প্রাণ'- ব্যাখ্যা করো। গ. যুক্তি-১ কোন ধরনের আরোহ? ব্যাখ্যা করো। ঘ. যুক্তি-১ ও যুক্তি-২ এ নির্দেশিত আরোহসমূহের তুলনামূলক পার্থক্য আলোচনা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।