(ক)
যে অনুমান প্রক্রিয়ায় কয়েকটি বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্তের ওপর ভিত্তি করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়, তাকে আরোহ অনুমান বলে।
(খ)
আরোহমূলক লম্ফের উপস্থিতির কারণে সাদৃশ্যানুমানকে প্রকৃত আরোহ বলা হয়।
সাদৃশ্যানুমান অনুমানে সাদৃশ্য বা মিল দেখে সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই প্রকার আরোহে দুটি বস্তুর মধ্যে সাদৃশ্য দেখে তাদের মধ্যে নতুন কোনো বিষয়ে সাদৃশ্য অনুমান করা হয়। এখানে আরোহাত্মক লম্ফ বিদ্যমান থাকে, যার ফলে জ্ঞাত থেকে অজ্ঞাতে গমন করা হয়। যেহেতু প্রকৃত আরোহের প্রধান শর্ত হলো আরোহাত্মক লম্ফের উপস্থিতি, তাই সাদৃশ্যানুমানকে প্রকৃত আরোহ বলা হয়।
(গ)
উদ্দীপকের যুক্তি-১ এ নির্দেশিত আরোহটি হলো 'অবৈজ্ঞানিক আরোহ' বা 'লৌকিক আরোহ'।
যে আরোহ অনুমানে কোনো প্রকার কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা না করে কেবল অবাধ বা একানুবর্তী অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে একটি সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য স্থাপন করা হয়, তাকে অবৈজ্ঞানিক আরোহ বলে। এ প্রকার আরোহে দৃষ্টান্তগুলো কেবল অনুকূল হয়, কোনো প্রতিকূল দৃষ্টান্ত থাকে না এবং এর সিদ্ধান্তটি একটি সম্ভাব্য সত্য মাত্র।
উদ্দীপকের যুক্তি-১ এ বলা হয়েছে, "সক্রেটিস হয় বুদ্ধিজীবী। এরিস্টটল হয় বুদ্ধিজীবী। অতএব, সকল দার্শনিক হয় বুদ্ধিজীবী।" এখানে সক্রেটিস ও এরিস্টটলের মতো কয়েকজন দার্শনিকের বুদ্ধিজীবী হওয়ার দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে কোনো বৈজ্ঞানিক কার্যকারণ সম্পর্ক ছাড়াই একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে দার্শনিক হওয়ার সাথে বুদ্ধিজীবী হওয়ার কোনো অনিবার্য কারণ নির্ণয় করা হয়নি, বরং শুধুমাত্র অনুকূল অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে সার্বিক সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে। তাই উদ্দীপকের যুক্তি-১ এ অবৈজ্ঞানিক আরোহের দৃষ্টান্ত নির্দেশিত হয়েছে।
(ঘ)
উদ্দীপকের যুক্তি-২ এর দৃষ্টান্তটি অবৈজ্ঞানিক আরোহের হলেও এর সিদ্ধান্তটি যথার্থ নয়।
কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ব্যতিরেকে কেবল প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতির ওপর নির্ভর করে বা অনুকূল দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার আলোকে যে আরোহানুমান একটি সার্বিক সংশ্লেষক বাক্য স্থাপন করে, তাকে বলে অবৈজ্ঞানিক আরোহ। এই প্রকার আরোহে প্রতিকূল দৃষ্টান্তের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে কার্যকারণ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা হয় না। তাই কোনো অবস্থায় একটি প্রতিকূল দৃষ্টান্ত পাওয়া গেলে সমগ্র সিদ্ধান্তটি ভ্রান্ত বলে প্রমাণিত হয় এবং সিদ্ধান্তটি বাতিল হয়ে যায়। ফলে সিদ্ধান্তের সার্বিকীকরণ অবৈধ হয় এবং অনুপপত্তি ঘটে। এ জাতীয় অনুপপত্তিকে অবৈধ সার্বিকীকরণ অনুপপত্তি (Fallacy of Illicit Generalisation) বলে।
উদ্দীপকের যুক্তি-২-এ বর্ণিত, "আমি এ পর্যন্ত যত পাখি দেখেছি তারা সবাই উড়তে পারে। অতএব, সকল পাখি উড়তে পারে।" এটি একটি অবৈজ্ঞানিক আরোহের দৃষ্টান্ত। কারণ এখানে কেবল অনুকূল দৃষ্টান্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা জানি, উটপাখি পাখি হওয়া সত্ত্বেও বাস্তবে এরা উড়তে পারে না। তাই "সকল পাখি উড়তে পারে" এই সিদ্ধান্তটি ভ্রান্ত হিসেবে প্রমাণিত হয়। এরূপ ভ্রান্ত সিদ্ধান্তের কারণে এখানে অবৈধ সার্বিকীকরণ অনুপপত্তি ঘটেছে।
তাই সার্বিক আলোচনায় বলা যায়, আরোহমূলক লম্ফের উপস্থিতির কারণে অবৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃত আরোহ হলেও ভ্রান্ত অনুকূল দৃষ্টান্তের কারণে এই আরোহের সিদ্ধান্ত অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা উদ্দীপকের যুক্তি-২ এর দৃষ্টান্তে প্রতীয়মান।