(ক) আবর্তনের নিয়ম মোট ৪টি (চারটি)।
(খ) ‘অমাধ্যম অনুমানের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত’ বলতে বোঝায় যে, অমাধ্যম অনুমানে কোনো মধ্যবর্তী পদের সাহায্য ছাড়াই একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সরাসরি সিদ্ধান্ত টানা হয়।
এই সংক্ষিপ্ত যাত্রাপথের কারণে অনেক যুক্তিবিদ (যেমন: জন স্টুয়ার্ট মিল, আলেকজান্ডার বেইন) অমাধ্যম অনুমানকে প্রকৃত অনুমান হিসেবে স্বীকার করতে চান না। তাঁদের মতে, অনুমানে জানা সত্য থেকে নতুন কোনো অজানা সত্যে পৌঁছাতে হয়, কিন্তু অমাধ্যম অনুমানে সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নতুন কোনো তথ্যের প্রকাশ ঘটে না। তবে যুক্তিবিদ ওয়েলটন মনে করেন, অমাধ্যম অনুমানের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত হলেও তা সম্পূর্ণ অর্থহীন নয়। আশ্রয়বাক্যের অন্তর্নিহিত অর্থ যা আমাদের কাছে অস্পষ্ট ছিল, সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়। তাই অমাধ্যম অনুমানের একটি নিজস্ব যৌক্তিক মূল্য রয়েছে।
(গ) উদ্দীপকের যুক্তি-১ এ ‘সরল আবর্তন’ (Simple Conversion) প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করা হয়েছে।
যে আবর্তনে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের পরিমাণ একই থাকে, তাকে সরল আবর্তন বলে। অর্থাৎ, আশ্রয়বাক্য সার্বিক হলে সিদ্ধান্তও সার্বিক হবে, আর আশ্রয়বাক্য বিশেষ হলে সিদ্ধান্তও বিশেষ হবে। আবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের গুণ সবসময় অভিন্ন থাকে।
উদ্দীপকের যুক্তি-১ এ দেওয়া আছে:
আশ্রয়বাক্য: কোনো হরিণ নয় বাঘ (E)
সিদ্ধান্ত: কোনো বাঘ নয় হরিণ (E)
এখানে আশ্রয়বাক্যটি একটি সার্বিক নঞর্থক বা E যুক্তিবাক্য এবং সিদ্ধান্তটিও একটি E যুক্তিবাক্য। আবর্তনের নিয়ম অনুসারে:
১. আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য ‘হরিণ’ সিদ্ধান্তের বিধেয় হয়েছে।
২. আশ্রয়বাক্যের বিধেয় ‘বাঘ’ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হয়েছে।
৩. আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের গুণ অভিন্ন রয়েছে (উভয়ই নঞর্থক)।
৪. আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের পরিমাণ একই রয়েছে (উভয়ই সার্বিক)।
৫. E যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় উভয় পদই ব্যাপ্য থাকায় এখানে কোনো অব্যাপ্য পদকে সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য করার নিয়ম লঙ্ঘনের সুযোগ নেই।
যেহেতু আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের পরিমাণ অপরিবর্তিত রয়েছে, তাই এটি একটি বৈধ সরল আবর্তন। সাধারণত E এবং I যুক্তিবাক্যের সরল আবর্তন সম্ভব।
(ঘ) উদ্দীপকের যুক্তি-২ এর আবর্তন প্রক্রিয়াটি অবৈধ হওয়ার কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
উদ্দীপকের যুক্তি-২ টি হলো:
আশ্রয়বাক্য: সকল মানুষ হয় দ্বিপদ (A)
সিদ্ধান্ত: সকল দ্বিপদ প্রাণী হয় মানুষ (A)
এখানে A যুক্তিবাক্যকে সরল আবর্তন করে আরেকটি A যুক্তিবাক্য সিদ্ধান্ত হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, যা আবর্তনের নিয়মকে লঙ্ঘন করে।
আবর্তনের চতুর্থ নিয়ম অনুযায়ী, আশ্রয়বাক্যের কোনো অব্যাপ্য পদকে সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য করা যায় না। আমরা জানি, A (সার্বিক সদর্থক) যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য হলেও বিধেয় পদ অব্যাপ্য থাকে।
উদ্দীপকের আশ্রয়বাক্য ‘সকল মানুষ হয় দ্বিপদ’ (A) এ উদ্দেশ্য পদ ‘মানুষ’ ব্যাপ্য কিন্তু বিধেয় পদ ‘দ্বিপদ’ অব্যাপ্য।
কিন্তু যখন এই বাক্যটিকে সরল আবর্তন করে সিদ্ধান্ত হিসেবে ‘সকল দ্বিপদ প্রাণী হয় মানুষ’ (A) লেখা হয়, তখন আশ্রয়বাক্যের অব্যাপ্য বিধেয় পদ ‘দ্বিপদ’ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য স্থানে বসে ব্যাপ্য হয়ে যায় (যেহেতু A যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য)। এটি আবর্তনের নিয়মকে সরাসরি লঙ্ঘন করে।
A যুক্তিবাক্যের বৈধ আবর্তন করতে হলে এর পরিমাণ পরিবর্তন করে বিশেষ সদর্থক বা I যুক্তিবাক্য করতে হয়, যাকে অসরল আবর্তন (Conversion by limitation) বলে। যেমন: ‘কিছু দ্বিপদ প্রাণী হয় মানুষ’ (I)।
অতএব, উদ্দীপকের যুক্তি-২ এ A যুক্তিবাক্যের অবৈধ সরল আবর্তন করার কারণে আবর্তন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অবৈধ হয়েছে।