Facebook Pixel

যুক্তি-১: কোনো জীব নয় অমর। সকল গরু হয় জীব। ∴ কোনো গরু নয় অমর। যুক্তি-২: কোনো কোকিল নয় সাদা। সকল কোকিল হয় পাখি। ∴ কোনো পাখি নয় সাদা। ক. মাধ্যম অনুমান কী? খ. চতুষ্পদী অনুপপত্তি বলতে কী বোঝ? গ. যুক্তি-১ কোন অনুমানকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. যুক্তি-২ এ যে অনুপপত্তির সৃষ্টি হয়েছে তার ব্যাখ্যা দাও।

বিষয়: যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ অবরোহ অনুমান

উৎস: Board Exam Question RB 2024

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: (ক) যে অনুমানে এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে একটি সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়, তাকে মাধ্যম অনুমান বলে। (খ) সহানুমানের নিয়ম অনুযায়ী, একটি বৈধ সহানুমান যুক্তিতে তিনটি এবং কেবলমাত্র তিনটি পদ থাকে। যদি কোনো কারণে সহানুমানের এই নিয়ম অমান্য করে তিনটির অধিক পদ ব্যবহার করা হয়, তবে সেখানে যে অনুপপত্তি ঘটে তাকে চতুষ্পদী অনুপপত্তি বলে। সহানুমানের প্রতিটি পদ আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তে মোট দুবার করে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু যদি পদের অর্থের ভিন্নতার কারণে বা ভুল ব্যবহারের ফলে পদের সংখ্যা বেড়ে যায়, তবে সিদ্ধান্তটি আর অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয় না। এই ত্রুটিকে যুক্তিবিদ্যায় চতুষ্পদী অনুপপত্তি বলা হয়। (গ) উদ্দীপকের যুক্তি-১ একটি সহানুমানকে নির্দেশ করে। সহানুমান হলো এক বিশেষ প্রকার মাধ্যম অবরোহ অনুমান, যেখানে দুটি আশ্রয়বাক্যের মাধ্যমে একটি সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়। সহানুমানের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এতে তিনটি পদ থাকে এবং আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত বেশি ব্যাপক হয় না। যুক্তি-১ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়: প্রধান আশ্রয়বাক্য: কোনো জীব নয় অমর। অপ্রধান আশ্রয়বাক্য: সকল গরু হয় জীব। সিদ্ধান্ত: কোনো গরু নয় অমর। এখানে 'জীব' হলো মাধ্যম পদ, যা উভয় আশ্রয়বাক্যে উপস্থিত থেকে গরু এবং অমরের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেছে। যেহেতু এখানে দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে একটি অনিবার্য সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়েছে এবং সহানুমানের আকারগত নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে, তাই যুক্তি-১ একটি সহানুমান। (ঘ) উদ্দীপকের যুক্তি-২ এ অব্যাপ্য পদজনিত অনুপপত্তি ঘটেছে, যাকে বিশেষ করে অবৈধ পক্ষ দোষ (Fallacy of Illicit Minor) বলা হয়। সহানুমানের একটি মৌলিক নিয়ম হলো, যে পদ আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্য নয়, সে পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হতে পারে না। অর্থাৎ, সিদ্ধান্ত কখনোই আশ্রয়বাক্যের চেয়ে বেশি ব্যাপক হতে পারে না। যদি কোনো পদ আশ্রয়বাক্যে আংশিক ব্যক্ত্যর্থ (অব্যাপ্য) হয়ে সিদ্ধান্তে পূর্ণ ব্যক্ত্যর্থ (ব্যাপ্য) হয়, তবে সেখানে অবৈধ ব্যাপ্যতাজনিত অনুপপত্তি ঘটে। যুক্তি-২ এর গঠন বিশ্লেষণ করা হলো: প্রধান আশ্রয়বাক্য: কোনো কোকিল নয় সাদা। (E বাক্য) অপ্রধান আশ্রয়বাক্য: সকল কোকিল হয় পাখি। (A বাক্য) সিদ্ধান্ত: কোনো পাখি নয় সাদা। (E বাক্য) এখানে 'পাখি' হলো পক্ষ পদ বা অপ্রধান পদ। অপ্রধান আশ্রয়বাক্যটি একটি A বাক্য এবং এখানে 'পাখি' পদটি বিধেয় হিসেবে থাকায় তা অব্যাপ্য। কিন্তু সিদ্ধান্তে পদটি একটি E বাক্যের উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় তা ব্যাপ্য হয়েছে। অর্থাৎ, যে পদটি আশ্রয়বাক্যে অব্যাপ্য ছিল, তা সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হয়ে সহানুমানের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। যেহেতু এখানে পক্ষ পদটি অবৈধভাবে ব্যাপ্য হয়েছে, তাই যুক্তি-২ এ অবৈধ পক্ষ দোষের সৃষ্টি হয়েছে।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

WrittenRajshahi Board (2024)

যুক্তি-১: কোনো জীব নয় অমর। সকল গরু হয় জীব। ∴ কোনো গরু নয় অমর। যুক্তি-২: কোনো কোকিল নয় সাদা। সকল কোকিল হয় পাখি। ∴ কোনো পাখি নয় সাদা। ক. মাধ্যম অনুমান কী? খ. চতুষ্পদী অনুপপত্তি বলতে কী বোঝ? গ. যুক্তি-১ কোন অনুমানকে নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো। ঘ. যুক্তি-২ এ যে অনুপপত্তির সৃষ্টি হয়েছে তার ব্যাখ্যা দাও।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।