(ক) আবর্তনের নিয়ম মোট ৪টি (চারটি)।
(খ) ‘O’ যুক্তিবাক্যের আবর্তন সম্ভব নয় কেন তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
আবর্তনের চতুর্থ নিয়ম অনুযায়ী, আশ্রয়বাক্যের কোনো অব্যাপ্য পদকে সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য করা যায় না। ‘O’ যুক্তিবাক্যটি হলো বিশেষ নঞর্থক যুক্তিবাক্য। এর উদ্দেশ্য পদটি অব্যাপ্য কিন্তু বিধেয় পদটি ব্যাপ্য। আবর্তনের নিয়ম অনুসারে আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য পদটি সিদ্ধান্তের বিধেয় পদ হবে। এখন ‘O’ যুক্তিবাক্যকে যদি আবর্তন করা হয়, তবে এর অব্যাপ্য উদ্দেশ্য পদটি সিদ্ধান্তের বিধেয় স্থানে বসবে। আমরা জানি, আবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের গুণ একই হতে হবে। যেহেতু ‘O’ বাক্যটি নঞর্থক, তাই এর সিদ্ধান্তকেও নঞর্থক (E বা O) হতে হবে। আর যেকোনো নঞর্থক বাক্যের বিধেয় পদটি সবসময় ব্যাপ্য হয়। ফলে আশ্রয়বাক্যের অব্যাপ্য উদ্দেশ্য পদটি সিদ্ধান্তে এসে ব্যাপ্য হয়ে যাবে, যা আবর্তনের চতুর্থ নিয়মকে সরাসরি লঙ্ঘন করে। এই নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে ‘O’ যুক্তিবাক্যের আবর্তন সম্ভব নয়।
(গ) যুক্তি-১ এ অমাধ্যম অনুমানের একটি বিশেষ রূপ ‘প্রতিবর্তন’ (Obversion) নির্দেশ করা হয়েছে।
যে অমাধ্যম অবরোহ অনুমানে আশ্রয়বাক্যের অর্থ অপরিবর্তিত রেখে গুণের পরিবর্তন করা হয় এবং আশ্রয়বাক্যের বিধেয়ের বিরুদ্ধ পদকে সিদ্ধান্তের বিধেয় হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাকে প্রতিবর্তন বলে। প্রতিবর্তনের ক্ষেত্রে আশ্রয়বাক্যকে প্রতিবর্তনীয় এবং সিদ্ধান্তকে প্রতিবর্তিত বলা হয়।
উদ্দীপকের যুক্তি-১ এ বলা হয়েছে:
আশ্রয়বাক্য: কিছু মানুষ হয় সৎ (I)
সিদ্ধান্ত: কিছু মানুষ নয় অসৎ (O)
এখানে প্রতিবর্তনের নিয়মগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে:
১. আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য পদ ‘মানুষ’ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য পদ হিসেবে অপরিবর্তিত রয়েছে।
২. আশ্রয়বাক্যের বিধেয় পদ ‘সৎ’ এর বিরুদ্ধ পদ ‘অসৎ’ সিদ্ধান্তের বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
৩. আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের গুণ ভিন্ন হয়েছে; আশ্রয়বাক্যটি সদর্থক (I) এবং সিদ্ধান্তটি নঞর্থক (O) হয়েছে।
৪. আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের পরিমাণ একই রয়েছে; উভয় বাক্যই বিশেষ যুক্তিবাক্য।
সুতরাং, যুক্তি-১ একটি বৈধ প্রতিবর্তন অনুমানের দৃষ্টান্ত।
(ঘ) আবর্তনের নিয়মানুসারে যুক্তি-২ এর वैधता নিচে বিচার করা হলো:
উদ্দীপকের যুক্তি-২ টি হলো:
আশ্রয়বাক্য: সকল কাপুরুষ হয় অসাধু (A)
সিদ্ধান্ত: সকল অসাধু লোক হয় কাপুরুষ (A)
আবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী, আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য পদ সিদ্ধান্তে বিধেয় হবে এবং আশ্রয়বাক্যের বিধেয় পদ সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য হবে। আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের গুণ অভিন্ন থাকবে এবং আশ্রয়বাক্যের কোনো অব্যাপ্য পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হতে পারবে না।
উদ্দীপকের যুক্তিটিতে A যুক্তিবাক্যকে সরল আবর্তন করে আরেকটি A যুক্তিবাক্য সিদ্ধান্ত হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা জানি, A যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য কিন্তু বিধেয় পদ অব্যাপ্য। উদ্দীপকের আশ্রয়বাক্য ‘সকল কাপুরুষ হয় অসাধু’ (A) এ ‘কাপুরুষ’ পদটি ব্যাপ্য এবং ‘অসাধু’ পদটি অব্যাপ্য।
কিন্তু সিদ্ধান্তে ‘সকল অসাধু লোক হয় কাপুরুষ’ (A) লেখার ফলে আশ্রয়বাক্যের অব্যাপ্য বিধেয় পদ ‘অসাধু’ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য স্থানে বসে ব্যাপ্য হয়ে গেছে (যেহেতু A বাক্যের উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্য)। এটি আবর্তনের চতুর্থ নিয়মকে লঙ্ঘন করেছে। আবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী অব্যাপ্য পদকে সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য করা অবৈধ।
A যুক্তিবাক্যের বৈধ আবর্তন করতে হলে পরিমাণ পরিবর্তন করে বিশেষ সদর্থক বা I যুক্তিবাক্য করতে হয়, যাকে অসরল আবর্তন বলে। যেমন: ‘কিছু অসাধু লোক হয় কাপুরুষ’ (I)।
অতএব, উদ্দীপকের যুক্তি-২ এর আবর্তন প্রক্রিয়াটি অবৈধ এবং এটি ‘অবৈধ সরল আবর্তন’ দোষে দুষ্ট।