(ক)
অনুমান প্রধানত দুই প্রকার। যথা: আরোহ অনুমান এবং অবরোহ অনুমান।
(খ)
সহানুমান হলো এমন এক ধরনের অবরোহ অনুমান যেখানে দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে একটি সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে অনুমিত হয়। একটি সহানুমান গঠিত হয় তিনটি যুক্তিবাক্য (দুটি আশ্রয়বাক্য ও একটি সিদ্ধান্ত) এবং তিনটি পদ (প্রধান পদ, অপ্রধান পদ ও মধ্যপদ) নিয়ে। এখানে মধ্যপদটি উভয় আশ্রয়বাক্যে উপস্থিত থাকে কিন্তু সিদ্ধান্তে অনুপস্থিত থাকে, যা আশ্রয়বাক্য দুটির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে সিদ্ধান্তটি বের করতে সাহায্য করে।
(গ)
উদ্দীপকের যুক্তি-১ হলো:
"কিছু পাখি হয় সুন্দর।
∴ কিছু সুন্দর জীব হয় পাখি।"
উপরিউক্ত যুক্তি-১ একটি অমাধ্যম অনুমান, কারণ এখানে একটি মাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত অনুমিত হয়েছে। অমাধ্যম অনুমানের প্রকারভেদে এটি একটি আবর্তনের উদাহরণ।
ব্যাখ্যা: আবর্তন হলো এমন এক অমাধ্যম অনুমান যেখানে আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য পদটি সিদ্ধান্তে বিধেয় পদ হিসেবে এবং আশ্রয়বাক্যের বিধেয় পদটি সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, এবং উভয় বাক্যের গুণ অভিন্ন থাকে। উদ্দীপকের যুক্তি-১ এ দেখা যাচ্ছে, আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য পদ "পাখি" সিদ্ধান্তে বিধেয় হিসেবে এবং বিধেয় পদ "সুন্দর" সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়া উভয় বাক্যের গুণ "কিছু" (বিশেষ) হিসেবে অভিন্ন রয়েছে।
সুতরাং, যুক্তি-১ এর মাধ্যমে অমাধ্যম অনুমানের আবর্তন প্রতিফলিত হয়েছে।
(ঘ)
উদ্দীপকের যুক্তি-২ এবং যুক্তি-৩ এর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য নিচে আলোচনা করা হলো:
যুক্তি-২ এর বিশ্লেষণ:
"সকল দার্শনিক হন মানুষ।
এরিস্টটল হন একজন দার্শনিক।
∴ এরিস্টটল হন একজন মানুষ।"
এখানে দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে একটি সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে অনুমিত হয়েছে এবং সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যের তুলনায় কম ব্যাপক। এটি একটি অবরোহ অনুমান। অবরোহ অনুমানে সাধারণ সত্য থেকে বিশেষ সত্যের দিকে যাওয়া হয় এবং এর সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যের মধ্যেই নিহিত থাকে।
যুক্তি-৩ এর বিশ্লেষণ:
"শিমুল হয় মরণশীল।
তমাল হয় মরণশীল।
গীতা হয় মরণশীল।
মিতা হয় মরণশীল।
∴ সকল মানুষ হয় মরণশীল।"
এখানে বিশেষ বিশেষ দৃষ্টান্ত (শিমুল, তমাল, গীতা, মিতা) পর্যবেক্ষণ করে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত (সকল মানুষ) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এটি একটি আরোহ অনুমান। আরোহ অনুমানে বিশেষ সত্য থেকে সাধারণ সত্যের দিকে যাওয়া হয় এবং এর সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যের তুলনায় বেশি ব্যাপক হয়।
অবরোহ ও আরোহ অনুমানের প্রধান পার্থক্যসমূহ হলো:
১. গতির দিক: অবরোহ অনুমান সাধারণ থেকে বিশেষের দিকে যায়, আর আরোহ অনুমান বিশেষ থেকে সাধারণের দিকে যায়।
২. ব্যাপকতা: অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যের চেয়ে বেশি ব্যাপক হতে পারে না, কিন্তু আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত সব সময় আশ্রয়বাক্যের চেয়ে বেশি ব্যাপক হয়।
৩. অনিবার্যতা: অবরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত অনিবার্যভাবে সত্য হয় যদি আশ্রয়বাক্যগুলো সত্য হয়, কিন্তু আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত সম্ভাব্য সত্য হয়।
৪. লক্ষ্য: অবরোহ অনুমানের লক্ষ্য হলো আকারগত সত্যতা প্রতিষ্ঠা করা, আর আরোহ অনুমানের লক্ষ্য হলো বস্তুগত সত্যতা প্রতিষ্ঠা করা।
সুতরাং বলা যায়, যুক্তি-২ এর মাধ্যমে অবরোহ অনুমান এবং যুক্তি-৩ এর মাধ্যমে আরোহ অনুমান প্রকাশিত হয়েছে, যাদের প্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ ভিন্ন।