(ক)
একটি যুক্তিবাক্যে দুটি পদ থাকে। যথা: উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদ।
(খ)
যে পদ একের অধিক শব্দ দ্বারা গঠিত হয়, তাকে যৌগিক পদ বলে। যৌগিক পদকে অনেক সময় বহুশাব্দিক পদও বলা হয়, কারণ এটি একাধিক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত হয়। উদাহরণস্বরূপ: "লাল কুকুর", "একটি মেধাবী ছাত্র", "বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী" ইত্যাদি পদগুলো একাধিক শব্দ সমন্বয়ে গঠিত। সুতরাং, এরা প্রত্যেকে এক একটি যৌগিক পদ। এই কারণেই যৌগিক পদকে বহুশাব্দিক পদ বলা হয়।
(গ)
উদ্দীপকে প্রদত্ত যুক্তিবাক্যটি হলো: "কিছু ফুল নয় সাদা"। এই যুক্তিবাক্যটির আবর্তন প্রক্রিয়া সম্ভব নয়।
প্রদত্ত যুক্তিবাক্যটি একটি 'O' বাক্য (বিশেষ নঞর্থক বাক্য)। আবর্তনের নিয়ম অনুযায়ী, 'O' বাক্যের বৈধ আবর্তন সম্ভব নয়। 'O' বাক্য একটি নঞর্থক যুক্তিবাক্য, তাই এর থেকে প্রাপ্ত সিদ্ধান্তটিও নঞর্থক হবে। 'O' বাক্যের উদ্দেশ্য পদটি অব্যাপ্য। আবর্তন করতে গেলে এই অব্যাপ্য উদ্দেশ্য পদটি সিদ্ধান্তে গিয়ে একটি নঞর্থক বাক্যের বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং consequently ব্যাপ্য হয়ে যায়, যা আবর্তনের নিয়ম লঙ্ঘন করে।
আবর্তনের নিয়মানুযায়ী, আবর্তনীয়ের কোনো অব্যাপ্য পদকে আবর্তিতে ব্যাপ্য করা যাবে না।
উদাহরণস্বরূপ:
আশ্রয়বাক্য (O): কিছু আম নয় মিষ্টি।
আবর্তন (O): কিছু মিষ্টি জিনিস নয় আম।
এখানে আশ্রয়বাক্যে "আম" পদটি অব্যাপ্য, কিন্তু সিদ্ধান্তে গিয়ে এটি বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় ব্যাপ্য হয়ে গেছে। সুতরাং, উদ্দীপকে প্রদত্ত যুক্তিবাক্যটি 'O' বাক্য হওয়ায় এর বৈধ আবর্তন প্রক্রিয়া সম্ভব নয়।
(ঘ)
উদ্দীপকের যুক্তিটিতে অমাধ্যম অনুমানের একটি বিশেষ ধরন "প্রতিবর্তন" (Obversion) ব্যবহৃত হয়েছে।
যে অমাধ্যম অবরোহ অনুমানে কোনো প্রদত্ত বাক্যের বিধেয়ের বিরুদ্ধ পদকে সিদ্ধান্তের বিধেয় হিসেবে ব্যবহার করে গুণের পরিবর্তন ঘটিয়ে এবং অর্থ অপরিবর্তিত রেখে সিদ্ধান্ত অনুমান করা হয়, তাকে প্রতিবর্তন বলে। প্রতিবর্তন একটি অমাধ্যম অনুমান, যেখানে একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সরাসরি সিদ্ধান্ত টানা হয়। এখানে একটি সদর্থক যুক্তিবাক্য থেকে একই অর্থবোধক কোনো নঞর্থক যুক্তিবাক্য বা কোনো নঞর্থক যুক্তিবাক্য থেকে একই অর্থবোধক কোনো সদর্থক যুক্তিবাক্য অনুমান করা হয়। প্রতিবর্তনের আশ্রয়বাক্যকে বলা হয় প্রতিবর্তনীয় এবং সিদ্ধান্তকে বলা হয় প্রতিবর্তিত।
উদ্দীপকে প্রদত্ত যুক্তিটি হলো:
আশ্রয়বাক্য: কিছু পাখি হয় সুন্দর।
সিদ্ধান্ত: $\therefore$ কিছু পাখি নয় অ-সুন্দর।
এই যুক্তিটিতে "কিছু পাখি হয় সুন্দর" হচ্ছে আশ্রয়বাক্য এবং "কিছু পাখি নয় অ-সুন্দর" হচ্ছে সিদ্ধান্ত। এখানে আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য পদটি ঠিক রেখে বিধেয় পদের স্থলে তার বিরুদ্ধ পদ ("সুন্দর" এর পরিবর্তে "অ-সুন্দর") ব্যবহার করা হয়েছে এবং গুণের পরিবর্তন (সদর্থক থেকে নঞর্থক) ঘটিয়ে সিদ্ধান্ত অনুমান করা হয়েছে। সুতরাং, এখানে একটি প্রতিবর্তন প্রক্রিয়া ঘটেছে। উদ্দীপকের আশ্রয়বাক্যটি একটি 'I' বাক্য (বিশেষ সদর্থক বাক্য), আর এর সিদ্ধান্তটি একটি 'O' বাক্য (বিশেষ নঞর্থক বাক্য)। অর্থাৎ, 'I' যুক্তিবাক্যের প্রতিবর্তিত রূপ হলো 'O' বাক্য। এছাড়া 'I' এবং 'O' যুক্তিবাক্যের উদ্দেশ্য পদ একই থাকে, কিন্তু বিধেয় পদ দুটি পরস্পর বিরুদ্ধ হয়।
পরিশেষে বলা যায়, যুক্তিটির প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এটি প্রতিবর্তনের রূপ, কারণ এখানে প্রতিবর্তনের সকল নিয়ম যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে।