Facebook Pixel

যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বিশ্ববাসীকে রক্ষা করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার আদর্শ নিয়ে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিভিন্ন সময়ে এবং স্থানে সম্মেলন করে শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণকারী দেশসমূহের সিদ্ধান্তে এ সংগঠনটির জন্ম হয়। বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা অর্জনে এই সংগঠনটির ভূমিকা ব্যাপক। ক. আন্তর্জাতিক আদালতের সদর দপ্তর কোথায়? খ. আটলান্টিক চার্টার বলতে কী বোঝায়?. গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনটির সাথে তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানে উক্ত সংগঠনটির ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ জাতিসংঘ ও বিশ্বশান্তি

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. আন্তর্জাতিক আদালত নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত। খ. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪১ সালে যখন হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং জাপান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পার্লহারবার আক্রমণ করে তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী চার্চিল আটলান্টিক মহাসাগরে যুদ্ধ জাহাজে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন। উভয় নেতা একটি সনদে স্বাক্ষর করেন, যা ইতিহাসে আর্টলান্টিক সনদ বা আটলান্টিক চার্টার নামে পরিচিত। যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠক হলেও যুদ্ধ বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পায়, যা পরবর্তী পর্যায়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। গ. উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনটির সাথে আন্তর্জাতিক সংগঠন জাতিসংঘের সাদৃশ্য রয়েছে। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা পুরো পৃথিবীকে নতুন করে ভাবতে শেখায় । বিশ্ব নেতৃবৃন্দ যুদ্ধ পরিহার করে শান্তি স্থাপনের উপায় খুঁজতে থাকেন। যুদ্ধকালীন মিত্র শক্তির রাষ্ট্র নেতারা তাদের আলোচনা বৈঠক ও ঘোষণাপত্র গুলোতে কতগুলো নীতি গ্রহণ করেছিলেন। শান্তি স্থাপনের উপায় হিসেবে অনেক সম্মেলন হয় তার মধ্যে লন্ডন ঘোষণা ১৯৪১, ওয়াশিংটন সম্মেলন ১৯৪২, মস্কো সম্মেলন ১৯৪৩, ইয়াল্টা সম্মেলন ১৯৪৫ অন্যতম। এ সম্মেলনগুলোতে শুধু সমরনীতি বিষয়ক সিদ্ধান্ত হয়নি, কতগুলো রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছিলো। যার ফল হিসেবে জাতিসংঘের উদ্ভব। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা ছিলো আন্তর্জাতিক সংগঠনের ইতিহাসে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। বিশ্ব ইতিহাসের এক দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার আশার আলো প্রজ্জ্বলন করে জাতিসংঘের জন্ম। প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতিসংঘ বিভিন্ন দেশের মধ্যকার বিরুদ্ধে রক্ষার অব্যাহত ভূমিকা রেখে চলেছে। উদ্দীপকে দেখা যায় যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বিশ্ববাসীকে রক্ষা করা এবং বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার আদর্শ নিয়ে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিভিন্ন সময় এবং স্থানে সম্মেলন করে এ গঠনটির জন্ম হয়। যা জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পটভূমিকে ইঙ্গিত করেছে। সুতরাং বলা যায় যে, উদ্দীপকের উল্লেখিত সংগঠনের সাথে জাতিসংঘের মিল রয়েছে। ঘ. উক্ত সংগঠন তথা জাতিসংঘ রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার যুক্তির প্রশ্নে বিজয় অর্জনের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। নিম্নে তা ব্যাখ্যা করা হলো : বিশ্ব যখন কোনো নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় গঠে তখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রশ্নটি সামনে আসে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ব্যতীত কোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না। এর জন্য মুজিবনগর সরকার বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বীকৃতি আদায়ের জন্য তৎপর হয়। একটি নতুন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য আন্তর্জাতিক আইনের যেসব সত্যপূরণের দরকার হয় তা সবগুলোই পূরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতিসংঘ বিশ্বের জাতিসমূহের নিকট আবেদন জানিয়েছিলেন। শর্তগুলো হলো– নতুন রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের স্বাভাবিক আনুগত্য, সরকারের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা এবং সরকারের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা। এতদসত্ত্বের জাতিসংঘ বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রসঙ্গে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সামনে মূল সমস্যাটি ছিলো এর সনদের ২ (৭ ) ধারা । এ ধারায় কোনো রাষ্ট্রের জনগণের মানবাধিকার বা আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার ও রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার নীতির মধ্যে সীমারেখা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এটিকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীন ও মুসলিম দেশগুলো পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার প্রশ্নের জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বীকৃতি বিরোধীতা করে। ফলের চূড়ান্ত বিজয়ের আগ পর্যন্ত জাতিসংঘ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানে ব্যর্থ হয়। সুতরাং বলা যায় যে, ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচটি বৃহত্তর শক্তিধর রাষ্ট্রের পারস্পরিক সমঝোতা ব্যতীত জাতিসংঘ কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে না। এ কারণেই জাতিসংঘ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানের নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বিশ্ববাসীকে রক্ষা করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার আদর্শ নিয়ে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিভিন্ন সময়ে এবং স্থানে সম্মেলন করে শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণকারী দেশসমূহের সিদ্ধান্তে এ সংগঠনটির জন্ম হয়। বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা অর্জনে এই সংগঠনটির ভূমিকা ব্যাপক। 

ক.

আন্তর্জাতিক আদালতের সদর দপ্তর কোথায়?

খ.

আটলান্টিক চার্টার বলতে কী বোঝায়?.

গ.

উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনটির সাথে তোমার পাঠ্য বইয়ের কোন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানে উক্ত সংগঠনটির ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

UNDCP মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছে- i. উৎপাদন কমিয়ে ii. ব্যবহারকারীদের চিকিৎসা দিয়ে iii. ব্যবহারকারীদের...

WHO প্রতিষ্ঠিত হয় কত সালে?

ক. জাতিসংঘের সদস্যসংখ্যা কত? খ. ভেটো ক্ষমতা কী? গ. উদ্দীপকে কোন সংস্থাটির চিত্র প্রকাশিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর। ঘ. নিরাপত্ত...

ক. জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিবের নাম কী? খ. ট্রম্যান ডকট্রিন কী প্রভাব ফেলেছিল মূল বিষয় ব্যাখ্যা কর। গ. '?' স্থানে কোন সংস...

ক. VC ভিচি সরকার কোন দেশে গড়ে উঠে ? খ. টেনিস কোর্টের শপথ বলতে কী বোঝ ? গ. উদ্দীপক [ ক ] চিহ্নিত স্থান তোমার পঠিত কোন সং...

ক. সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে কতটি রাষ্ট্র গঠিত হয় ? খ. নেপোলিয়ন কোড বলতে কী বোঝ ? গ. উদ্দীপকে কোন সংস্থাটির চিত্র প্রকাশিত...

ILO-এর উদ্দেশ্য কোনটি?

‘X’ ও ‘Y’ রাষ্ট্র দুটির সীমান্তবর্তী নদীর মোহনায় নতুন একটি দ্বীপ। জেগে উঠলে উভয় দেশই এর মালিকানা দাবি করে। দ্বীপটি মাল...

আঞ্চলিক কিংবা আন্তর্জাতিক যে ধরনের সংগঠনই হোক না কেন সময় সময় তার পরিবর্তন করার প্রয়োজন রয়েছে। তাছাড়া পরিবর্তনশীল সা...

আটলান্টিক সনদ কোন দুটি দেশের গোপন আলোচনার ফসল?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।