Facebook Pixel

যুদ্ধের ফলে 'ক' দেশ ও তার মিত্রদের পরাজয় ঘটে, সমরবাদের পরাজয় ঘটে। বিভিন্ন দলকে নিষিদ্ধ করা হয়। নেতাদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিচারে অপরাধীদের দীর্ঘমেয়াদি শাস্তি দেওয়া হয়। বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার ভাবধারা বিকশিত হতে থাকে। ক. এফ. ডি. রুজভেল্ট কোন দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন? খ. নিরাপত্তা পরিষদের গঠন সম্পর্কে লেখ। গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ফলাফলের সাথে পাঠ্যপুস্তকের কোন যুদ্ধের ফলাফলের মিল রয়েছে- ব্যাখ্যা দাও। ঘ. উদ্দীপকে উক্ত যুদ্ধের আংশিক ফলাফল বর্ণিত হয়েছে- বিশ্লেষণ কর।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ হিটলার ও মুসোলিনির উত্থান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. এফ. ডি. রুজভেল্ট যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। খ. জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ হলো জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ 'অঙ্গ। এটির প্রধান দায়িত্ব হলো আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা। নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্য ১৫টি, এর মধ্যে ৫টি স্থায়ী (ফ্রান্স, বৃটেন, রাশিয়া, চীন ও আমেরিকা) সদস্যরাষ্ট্র, বাকি ১০টি অস্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র। অস্থায়ী সদস্যরাষ্ট্র দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হন। গ. ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল ছিল ভয়াবহতম। এ যুদ্ধের ক্ষত বিশ্ব এখনও বয়ে বেড়াচ্ছে। জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি এর জীবন্ত উদাহরণ। ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় এবং ১৯৪৫ সালে ব্যাপক ধ্বংসলীলার মধ্য দিয়ে এর পরিসমাপ্তি ঘটে। উদ্দীপকে 'ক' দেশ ও তার মিত্রদের পরাজয় বলতে জার্মানি, জাপান ও ইতালির পরাজয়কে বোঝানো হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের ফলে ইতিহাস থেকে ঘৃণ্য নাৎসি দলের বিলুপ্তি ঘটে। অন্যদিকে ইতালিতেও মুসোলিনীর ফ্যাসিজমের সমাধি হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য দুটি অপ্রচলিত আদালত বসে। জার্মানির নুরেমবার্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়। নুরেমবার্গ আদালতে জার্মানির যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হয় এবং মোট ২১ জনের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। আটককৃত অবস্থায় ২ জন আত্মহত্যা করে এবং বাকি ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। একই সাথে নাৎসি সংগঠন ও রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ছিল অবর্ণনীয়। জার্মানি-ফ্রান্স, রাশিয়া ও ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহর ও শিল্পকারখানা ধ্বংস করেছিল। জাপান যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটি পার্ল হারবার উড়িয়ে দিলে আমেরিকা এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে আণবিক বোমা ফেলে ব্যাপক ধ্বংস ও হত্যাযজ্ঞ চালায়। এ ক্ষত জাপানের মানুষ এখনও বয়ে বেড়াচ্ছে। আলোচনা শেষে বলা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা আজও পৃথিবীবাসীকে শিহরিত করে তোলে। হিটলারের নাৎসিবাদ ও মুসোলিনীর ফ্যাসিজমই এ যুদ্ধের জন্য দায়ী ছিল। ঘ. উদ্দীপকে উল্লিখিত যুদ্ধের অর্থাৎ দ্বিতীয় যুদ্ধের আংশিক ফলাফল বর্ণিত হয়েছে। উদ্দীপকে ফলাফল হিসেবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, সমরবাদের পতন এবং গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার ভাবধারার বিকাশ লাভের কথা বলা হয়েছে, যা ফলাফলের আংশিক বর্ণিত হয়েছে। তবে এ যুদ্ধের আরও বিস্তৃত ও গভীর ফলাফল রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে। আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন দুটি পরাশক্তির উদ্ভব ঘটে। ফলে এই দুই দেশের মধ্যে শুরু হয় স্নায়ুযুদ্ধ বা মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব। যুদ্ধের পর শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্ভব ঘটে জাতিসংঘের। জাতিসংঘ বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। যুদ্ধ পরবর্তীতে অর্থনীতির পুনর্গঠন হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উপনিবেশবাদের পতন ঘটে। উপনিবেশবাদীদের দুর্বলতার ফলে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলো স্বাধীনতা লাভ করতে থাকে। এ সময় প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ঘটে। বিভিন্ন অস্ত্রের উদ্ভব, রাডার, পরমাণুগত অনেক প্রযুক্তির উদ্ভব ঘটে। গণতন্ত্রের বিস্তার লাভ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে। জাপান ও জার্মানসহ বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা চালু হয়। এটি বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রসারে ভূমিকা রাখে। সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলতে পারি, উদ্দীপকে উল্লিখিত ফলাফল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আংশিক দিক নির্দেশ করে। প্রকৃতপক্ষে এই যুদ্ধে বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক কাঠামোকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছিল।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

যুদ্ধের ফলে 'ক' দেশ ও তার মিত্রদের পরাজয় ঘটে, সমরবাদের পরাজয় ঘটে। বিভিন্ন দলকে নিষিদ্ধ করা হয়। নেতাদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিচারে অপরাধীদের  দীর্ঘমেয়াদি শাস্তি দেওয়া হয়। বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার ভাবধারা বিকশিত হতে থাকে।

ক.

এফ. ডি. রুজভেল্ট কোন দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন?

খ.

নিরাপত্তা পরিষদের গঠন সম্পর্কে লেখ।

গ.

উদ্দীপকে উল্লিখিত ফলাফলের সাথে পাঠ্যপুস্তকের কোন যুদ্ধের ফলাফলের মিল রয়েছে- ব্যাখ্যা দাও।

ঘ.

উদ্দীপকে উক্ত যুদ্ধের আংশিক ফলাফল বর্ণিত হয়েছে- বিশ্লেষণ কর।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Mein Kampf এর রচয়িতা কে?

Mein Kampf কোন ধরনের গ্রন্থ?

Mein-Kampf হলো- i. হিটলারের আত্মজীবনী ii. নাৎসিবাদের বাইবেলম্বরূপ iii. ফ্যাসিবাদের দলিল Q. নিচের কোনটি সঠিক?

'X' চরম স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে কুখ্যাত ছিলেন। সামান্য সৈনিক হিসেবে জীবন শুরু করে একদা একটি রাষ্ট্রের সর্বেসর্বা হয়ে উঠেন...

X নামক এক ব্যক্তি সৈনিক থেকে ধীরে ধীরে একটি দেশের জনপ্রিয় নেতা হলে উঠেন এবং পাশাপাশি তার আদর্শ ছড়িয়ে দিতে থাকেন সম্মোহনী...

"X" নামক ব্যক্তি পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের দেশে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষকতা পেশা নিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করলেও শিক্ষকতার ...

ক. হিটলার আত্মহত্যা করেন কবে? খ. উগ্র জাতীয়তাবাদ বলতে কী বুঝ? গ. উদ্দীপকের ছকে প্রশ্নবোধক (?) চিহ্নিত স্থানটি তোমার পাঠ্...

'Fascio' শব্দের অর্থ কী?

Mein Kampf এর রচয়িতা কে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র → ৬ আগস্ট ১৯৪৫ ⇒ ০৯ আগস্ট ১৯৪৫। ক. NATO এর পূর্ণরূপ কী ? খ. ফ্যাসিবাদ (Fascism) বলতে কী ব...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।