Facebook Pixel

যুদ্ধের কারণে ' ক ' দেশ ও তার মিত্রদের পরাজয় ঘটে। বিচার করা হয় বহু ব্যক্তির। বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার চিন্তাধারা বিকশিত হয়। ক. 'হয় সবটা চাই , নতুবা কিছুই চাই না '- উক্তিটি কার ? খ. অক্ষশক্তি চুক্তি কী ? ব্যাখ্যা কর । গ. উদ্দীপকের সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফলের সাদৃশ্যসমূহ ব্যাখ্যা কর। ঘ. উক্ত ফলাফল কি গণতন্ত্রমুখী ছিল ? তোমার মতামত দাও ।

বিষয়: ইতিহাস ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৫ঃ হিটলার ও মুসোলিনির উত্থান এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. ‘ হয় সবটা চাই , নতুবা কিছুই চাই না ' – উক্তিটি জার্মান সেনাপতি ফন মুলার - এর। খ. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে জার্মানি ও ইতালির মধ্যে সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে গঠিত জোট ইতিহাসে অক্ষশক্তি নামে খ্যাত। অক্ষশক্তি মূলত কমিউনিস্টবিরোধী চুক্তির মাধ্যমে গঠিত হলেও একে বিশ্বযুদ্ধে মিত্রশক্তির বিরুদ্ধেই সামরিক জোটও বলা যেতে পারে। ১৯৩৭ , সালে ইতালি এ শক্তিজোটে যোগ দেয়। তৎকালীন ইতালির উগ্রপন্থি রাজনৈতিক মতবাদ ফ্যাসিবাদের জনক বেনিতো মুসোলিনী বলেছিলেন , ' এটি এমন একটি অক্ষ যার চারদিকে শান্তির জন্য অনুপ্রাণিত ইউরোপীয় শক্তিবর্গ সহযোগিতা করতে পারে ' । গ. ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল ছিল ভয়াবহতম । এ যুদ্ধের ক্ষত বিশ্ব এখনও বয়ে বেড়াচ্ছে। জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি এর জীবন্ত উদাহরণ। ১৯৩৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয় এবং ১৯৪৫ সালে ব্যাপক ধ্বংসলীলার মধ্য দিয়ে এর পরিসমাপ্তি ঘটে। উদ্দীপকে ' ক ' দেশ ও তার মিত্রদের পরাজয় বলতে জার্মানি , জাপান ও ইতালির পরাজয়কে বোঝানো হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির পরাজয়ের ফলে ইতিহাস থেকে ঘৃণ্য নাৎসি দলের বিলুপ্তি ঘটে। অন্যদিকে ইতালিতেও মুসোলিনীর ফ্যাসিজমের সমাধি হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য দুটি অপ্রচলিত আদালত বসে। জার্মানির নুরেমবার্গে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়। নুরেমবার্গ আদালতে জার্মানির যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হয় এবং মোট ২১ জনের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। আটককৃত অবস্থায় ২ জন আত্মহত্যা করে এবং বাকি ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। একই সাথে নাৎসি সংগঠন ও রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ছিল অবর্ণনীয়। জার্মানি - ফ্রান্স , রাশিয়া ও ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহর ও শিল্পকারখানা ধ্বংস করেছিল। জাপান যুক্তরাষ্ট্রের নৌঘাঁটি পার্ল হারবার উড়িয়ে দিলে আমেরিকা এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকি শহরে আণবিক বোমা ফেলে ব্যাপক ধ্বংস ও হত্যাযজ্ঞ চালায়। এ ক্ষত জাপানের মানুষ এখনও বয়ে বেড়াচ্ছে। আলোচনা শেষে বলা যায় , দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা আজও পৃথিবীবাসীকে শিহরিত করে তোলে। হিটলারের নাৎসিবাদ ও মুসোলিনীর ফ্যাসিজমই এ যুদ্ধের জন্য দায়ী ছিল। ঘ. হ্যাঁ , উক্ত ফলাফল তথা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল ছিল গণতন্ত্রমুখী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পৃথিবীর প্রধান ঔপনিবেশিক দেশগুলো তথা যুক্তরাজ্য , জাপান , জার্মানি , ফ্রান্স ইত্যাদি অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে ভীষণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যুদ্ধে দেশগুলোর জনসংখ্যা , অর্থনৈতিক শক্তি , জাতীয় মেধার ব্যাপক ক্ষয় হয়। যুদ্ধের ফলে ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে এশিয়া আফ্রিকার অনেক পরাধীন দেশে স্বাধীনতা আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে। এর ফলে ইন্দোচীনসহ এশিয়া এবং আফ্রিকার অনেক উপনিবেশ ক্রমান্বয়ে স্বাধীন হয়ে যায়। একই সাথে বিশ্বজুড়ে শুরু হয় গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান। ভারত , কোরিয়া , ভিয়েতনাম , বার্মা , মালয় , সিরিয়া ও লেবাননের জাতিসমূহ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যেই তাদের মুক্তির পথ দেখতে পেয়েছিল। তাই তারা দখলদার শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে স্বাধীনতার সংগ্রাম জোরদার করে তোলে। কেবল যুদ্ধোত্তর ১৫ বছরের মধ্যে ২২টি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভ করে। তার পরের ১৫ বছরে অর্থাৎ ১৯৬০ - ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়ে গঠিত হয় ৬২টি স্বাধীন রাষ্ট্র। ১৯৭০ - এর দশকে ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যগুলো ইতিহাসের বস্তুতে পরিণত হয়। বিশ্বের নির্যাতিত জাতিগুলোর মুক্তির যুগের সূচনা ঘটে। বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অভিঘাতের ফলে সর্বত্র উপনিবেশবিরোধী গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান ঘটতে শুরু করে। তাই বলা যায় , দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল ছিল গণতন্ত্রমুখী ।

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

যুদ্ধের কারণে 'ক' দেশ ও তার মিত্রদের পরাজয় ঘটে। বিচার করা হয় বহু ব্যক্তির। বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক ও স্বাধীনতার চিন্তাধারা বিকশিত হয়।

ক.

'হয় সবটা চাই, নতুবা কিছুই চাই না'- উক্তিটি কার?

খ.

অক্ষশক্তি চুক্তি কী? ব্যাখ্যা কর ।

গ.

উদ্দীপকের সাথে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ফলাফলের সাদৃশ্যসমূহ ব্যাখ্যা কর।

ঘ.

উক্ত ফলাফল কি গণতন্ত্রমুখী ছিল? তোমার মতামত দাও ।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

Mein Kampf এর রচয়িতা কে?

Mein Kampf কোন ধরনের গ্রন্থ?

Mein-Kampf হলো- i. হিটলারের আত্মজীবনী ii. নাৎসিবাদের বাইবেলম্বরূপ iii. ফ্যাসিবাদের দলিল Q. নিচের কোনটি সঠিক?

'X' চরম স্বৈরাচারী শাসক হিসেবে কুখ্যাত ছিলেন। সামান্য সৈনিক হিসেবে জীবন শুরু করে একদা একটি রাষ্ট্রের সর্বেসর্বা হয়ে উঠেন...

X নামক এক ব্যক্তি সৈনিক থেকে ধীরে ধীরে একটি দেশের জনপ্রিয় নেতা হলে উঠেন এবং পাশাপাশি তার আদর্শ ছড়িয়ে দিতে থাকেন সম্মোহনী...

"X" নামক ব্যক্তি পৃথিবীর বিখ্যাত ব্যক্তিদের দেশে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষকতা পেশা নিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করলেও শিক্ষকতার ...

ক. হিটলার আত্মহত্যা করেন কবে? খ. উগ্র জাতীয়তাবাদ বলতে কী বুঝ? গ. উদ্দীপকের ছকে প্রশ্নবোধক (?) চিহ্নিত স্থানটি তোমার পাঠ্...

'Fascio' শব্দের অর্থ কী?

Mein Kampf এর রচয়িতা কে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র → ৬ আগস্ট ১৯৪৫ ⇒ ০৯ আগস্ট ১৯৪৫। ক. NATO এর পূর্ণরূপ কী ? খ. ফ্যাসিবাদ (Fascism) বলতে কী ব...

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।