Facebook Pixel

যুগোস্লাভিয়ার বসনিয়া বহুকাল থেকেই মুসলিম প্রধান অঞ্চল। কিন্তু একই অঞ্চলে খ্রিষ্টান আধিপত্যের কারণে মুসলমানরা খ্রিষ্টান প্রশাসন দ্বারা নির্যাতিত ও শোষিত হতে থাকে। ফলে মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা অর্জনে সচেষ্ট হয় । খ্রিষ্টানরা তাদের দমন করতে হঠাৎ এক রাতে তাদের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ করে ও বহু মানুষকে হত্যা করে। হানাদারদের হত্যাযজ্ঞের ফলে মুসলিমরা পাশের দেশে আশ্রয় ও সাহায্য নিয়ে নিজেরা আলাদা সরকার গঠন করে যুদ্ধ চালিয়ে যায় স্বাধীনতার লক্ষ্যে ক. মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের কয়টি সেক্টর ছিল ? খ. মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা কী ছিল ? ব্যাখ্যা করো । গ. উদ্দীপকে আক্রমণের ঘটনাটি তোমার পঠিত কোন রাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় ? ব্যাখ্যা করো। ঘ. উদ্দীপকের সরকারের সাথে মুজিবনগর সরকারের কার্যক্রমের সাদৃশ্য পর্যালোচনা করো।

বিষয়: ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র | অধ্যায়: অধ্যায়-০৬ঃ স্বাধীন ও সার্ভভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়

সঠিক উত্তর:

ব্যাখ্যা: ক. মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের এগারোটি সেক্টর ছিল। খ. মুক্তিযুদ্ধে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশকে সমর্থন করে। তৎকালীন সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান বাংলাদেশে পরিচালিত গণহত্যা , ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধের জন্য পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে আহ্বান জানান। পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার খবর প্রচার করে সোভিয়েত প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে সহায়তা করে। পাকিস্তানের পরাজয় আসন্ন দেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেটো দিয়ে এ প্রস্তাব বাতিল করে দেয় , যা আমাদের স্বাধীনতা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এছাড়া সোভিয়েত সরকার ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশি শরণার্থীদের ত্রাণ সহায়তা এবং মুক্তিবাহিনীকে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করে। গ. উদ্দীপকে আক্রমণের ঘটনাটি আমার পঠিত ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতের পাকবাহিনীর গণহত্যার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নিরস্ত্র বাঙালিদের নির্বিচারে গণহত্যা বিশ্বের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়ের সংযোজন করে। বিশ্বে স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষকে এরূপ হত্যার নজির খুব কমই দেখা যায়। পাক - হানাদার বাহিনী সুপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করে। উদ্দীপকেও এ ঘটনার প্রতিচিত্র ফুটে উঠেছে। উদ্দীপকে বর্ণিত যুগোস্লাভিয়ার বসনিয়া বহুকাল থেকেই মুসলিম প্রধান অঞ্চল। কিন্তু একই অঞ্চলে খ্রিস্টান আধিপত্যের কারণে মুসলমানরা খ্রিস্টান প্রশাসন দ্বারা নির্যাতিত ও শোষিত হতে থাকে। ফলে মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা আন্দোলনে সচেষ্ট হলে বিষ্টানরা তাদের দমন করতে হঠাৎ এক রাতে তাদের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ করে ও বহু মানুষকে হত্যা করে। একইভাবে ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিকামী বাঙালিদের ওপর নির্মম হত্যাকান্ড চালায়। এই রাতে প্রায় ৫০ হাজার বাঙালি নর - নারী ও শিশু গণহত্যার শিকার হয়। ছাত্র , শিক্ষক , রাজনৈতিক , পেশাজীবীসহ সব স্তরের মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। পাক - বাহিনীর এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড ইতিহাসে ' অপারেশন সার্চলাইট ' নামে পরিচিত। তাই বলা যায় , উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতের চিত্রই প্রতিফলিত হয়েছে। ঘ. উদ্দীপকের সরকারের কার্যক্রম ও মুজিবনগর সরকারের কার্যক্রমের প্রকৃতি একইরূপ ছিল। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি করে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। দেশের অভ্যন্তরে মুক্তিযুদ্ধকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সমর্থন আদায়ে এ সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদ্দীপকে বর্ণিত সরকার যেমন স্বাধীনতার লক্ষ্যে যুদ্ধ চালিয়ে যায় , ঠিক তেমনিভাবে মুজিবনগর সরকার সুসংগঠিতভাবে যুদ্ধ পরিচালনার মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ক্ষেত্রে মুজিবনগর সরকারের কার্যক্রম ছিল বেশ ফলপ্রসু। স্বাধীনতার লক্ষ্যে এই সরকার পরিকল্পিতভাবে সামরিক ও বেসামরিক জনগণকে নিয়ে মুক্তিবাহিনী গঠন করে। সমগ্র বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে। এছাড়া বেশ কিছু সাব সেক্টর এবং তিনটি ব্রিগেড গঠন করে মুজিবনগর সরকার বিচক্ষণতার পরিচয় দেয়। এসব সেক্টর ও ফোর্সে যুদ্ধ করার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদেরকে গেরিলা ট্রেনিং দেওয়া ছাড়াও প্রচণ্ড প্রতিকূলতার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদান , এক কোটিরও বেশি শরণার্থীর জন্য ত্রাণের ব্যবস্থা করা , স্বাধীন বাংলা বেতারের মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদন করে এ সরকার। স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনাকে অক্ষুণ্ণ রাখা ও সংগ্রামী মানুষের মনোবল ঠিক রাখার জন্য মুজিবনগর সরকার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের মাধ্যমে ও পত্র - পত্রিকার সাহায্যে যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল তা মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণার অন্যতম উৎস ছিল। এছাড়াও এ সরকার কলকাতা , দিল্লি , লন্ডন , ওয়াশিংটন , নিউইয়র্ক ও স্টকহোমসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধি নিয়োগ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে। ফলে মুক্তিযুদ্ধে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সমর্থন আদায় করা সম্ভব হয়েছিল , যা আমাদের স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে । উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় , উদ্দীপকে উল্লেখিত সরকারের কার্যক্রমের মতো মুজিবনগর সরকারের সফল কার্যক্রমের তৎপরতার ফলেই অল্প সময়ের মধ্যে আমরা পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে আনতে পেরেছিলাম

প্ল্যাটফর্ম: প্রশ্নাবলী (https://proshnaboli.com)

Written

যুগোস্লাভিয়ার বসনিয়া বহুকাল থেকেই মুসলিম প্রধান অঞ্চল। কিন্তু একই অঞ্চলে খ্রিষ্টান আধিপত্যের কারণে মুসলমানরা খ্রিষ্টান প্রশাসন দ্বারা নির্যাতিত ও শোষিত হতে থাকে। ফলে মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা অর্জনে সচেষ্ট হয় । খ্রিষ্টানরা তাদের দমন করতে হঠাৎ এক রাতে তাদের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ করে ও বহু মানুষকে হত্যা করে। হানাদারদের হত্যাযজ্ঞের ফলে মুসলিমরা পাশের দেশে আশ্রয় ও সাহায্য নিয়ে নিজেরা আলাদা সরকার গঠন করে যুদ্ধ চালিয়ে যায় স্বাধীনতার লক্ষ্যে

ক.

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের কয়টি সেক্টর ছিল? 

খ.

মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা কী ছিল? ব্যাখ্যা করো।

গ.

উদ্দীপকে আক্রমণের ঘটনাটি তোমার পঠিত কোন রাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো।

ঘ.

উদ্দীপকের সরকারের সাথে মুজিবনগর সরকারের কার্যক্রমের সাদৃশ্য পর্যালোচনা করো।

আনলিমিটেড প্র্যাকটিস করতে চান?

প্রশ্নাবলীতে আছে ২ লাখ+ প্রশ্ন। এইচএসসি এবং এডমিশন পরীক্ষার উত্তরসহ চ্যাপ্টারভিত্তিক প্রশ্ন ব্যাংক, অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক মক টেস্ট এবং লাইভ লিডারবোর্ড।

পরীক্ষা দিতে অ্যাকাউন্ট খুলুন

সম্পর্কিত প্রশ্নসমূহ

beginarray|l|c|c| hline textbfদলের নাম & textbfপূর্ব পাকিস্তানের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা & textbfপশ্চিম পাকিস্তানের প্রাপ্ত আ...

ক. বাংলাদেশকে সর্বপ্রথম কোন দেশ স্বীকৃতি দেয় ? খ. ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান কী ? ব্যাখ্যা করো। গ. উদ্দীপকের চিত্রটি কোন ঐ...

ক. মুক্তিযুদ্ধে কয়টি সেক্টর ছিল? খ. ৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। গ. প্রদত্ত ছকে উল্লেখিত '?' দ্বারা ঐতিহাসিক ক...

“ এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। ” ক. মহান মুক্তিযুদ্ধের সর...

‘ ক ’ অঞ্চলের জনগণ সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু করে স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে গেলেও প্রয়োজন ছিল যৌক্তিকভাবে যুদ্ধ পরিচাল...

১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের কতটি আসন লাভ করে?

অটোমান তুর্কী সুলতানদের সাম্রাজ্যবাদী মনোভাবের কারণে বুলগেরিয়ার জনগণ স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন শুরু করে। অটোমান সুলতান এ আ...

অটোমান শাসনাধীনে থাকা বুলগেরিয়ার মানুষ জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তুর্কি সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগে ...

অপারেশন জ্যাকপট পরিচালনা করা হয় ১৯৭১ সালের কত তারিখে?

অপারেশন সার্চলাইট কত তারিখে পরিচালিত হয়?

যেকোনো প্রকার ভুলভ্রান্তি বা রিপোর্ট করার জন্য অ্যাকাউন্ট খুলে প্রশ্নের রিপোর্ট বাটনে ক্লিক করুন। আমাদের এডিশনাল টিম তা দ্রুত সংশোধন করবে।