ক.
বাংলাদেশের সংবিধানের অভিভাবক হলো- জাতীয় সংসদ।
খ.
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বলতে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সংবিধান কর্তৃক সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়।
প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র তার কাজের গতিশীলতার জন্য কতগুলো প্রতিষ্ঠান তৈরি করে। যার ক্ষমতা ও কার্যাবলি সংবিধান অনুযায়ী সুনিদিষ্ট ও সুনিয়ন্ত্রিত। এগুলোই হলো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাধীনভাবে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারে। বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন, নির্বাচন কমিশন, এটর্নি জেনারেল, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক ইত্যাদি।
গ.
মিঃ 'Y' এটর্নি জেনারেল নামক সাংবিধানিক পদটিতে অধিষ্ঠিত আছেন।
বাংলাদেশে সংবিধান অনুযায়ী একজন এটর্নি জেনারেল আছেন। তিনি সরকারের প্রধান আইন সংক্রান্ত উপদেষ্টা। তিনি পদাধিকার বলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের সকল বারের নেতা। মিঃ 'Y'-এর মধ্য দিয়ে মূলত এই পদটিকেই নির্দেশ করা হয়েছে।
মিঃ 'Y' একজন সিনিয়র আইনজীবী। তিনি যে কোনো আদালতে বক্তব্য পেশ করতে পারেন। সরকারের পক্ষে আইনের জটিল প্রশ্নে তিনিই মতামত প্রদান করেন। তার কর্মকাণ্ডের ওপর সরকারের ভাবমূর্তি নির্ভর করে। বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল পদটির ক্ষেত্রেও এ বিষয়গুলো দৃষ্টিগোচর হয়। কোনো ব্যক্তির এটর্নি জেনারেল হওয়ার জন্য কমপক্ষে ১০ বছর পর্যন্ত এডভোকেটরূপে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন।
এটর্নি জেনারেল দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তার বক্তব্য পেশ করতে পারেন। সরকার যেসব আইন সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ চাইবেন, তিনি সেসব বিষয়ে সরকারের পরামর্শক হিসেবে কাজ করবেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে সরকারের পক্ষে ওকালতি করবেন। যেসব মামলায় সরকার জড়িত সেগুলোতে
তিনি সরকারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করবেন। মামলা পরিচালনাকালে তিনি জনস্বার্থ এবং সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী যুক্তি উপস্থাপন করবেন। কারণ তার কথা ও কাজের ওপরই সরকারের ভাবমূর্তি নির্ভর করে। এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী আদেশ দেয়ার
প্রয়োজন দেখা দিলে হাইকোর্ট এটর্নি জেনারেলকে নোটিশ প্রদান করবেন। হাইকোর্ট তার মতামতের ওপর ভিত্তি করে আদেশ প্রদান করবেন।
ঘ.
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মি. 'Y' অর্থাৎ এটর্নি জেনারেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
আমরা জানি, এটর্নি জেনারেল বাংলাদেশের একটি সাংবিধানিক পদ। তিনি রাষ্ট্রের প্রধান সরকারি আইন কর্মকর্তা। বাংলাদেশের সকল আদালতে মামলা পরিচালনার ক্ষমতা তার রয়েছে। এ কারণে রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বস্তুত এটর্নি জেনারেলের পদের গুরুত্ব ও তাৎপর্য খুব বেশি। কেননা তিনি আদালতে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগে সরকারের পক্ষে ওকালতি করেন। তাছাড়া সরকারের আইন উপদেষ্টা হিসেবে দেশের সকল আদালতে তাকে মামলা পরিচালনা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সংবিধান অনুসারে এটর্নি জেনারেল সরকারের প্রধান আইন পরামর্শক। তিনি তার এ ক্ষমতা বলে বিচার কাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। তাছাড়া তিনি প্রজাতন্ত্রের পক্ষে জটিল আইন সম্পর্কে মতামত ব্যক্ত করতে পারেন। এক্ষেত্রে আইনের জটিলতাগুলো নিরপেক্ষ ও সঠিকভাবে ব্যাখ্যা প্রদান করে বিচার কাজে সহায়তা করতে পারেন। তিনি যে সকল মামলায় সরকার জড়িত সে সকল মামলায় সরকারের পক্ষে আদালতে মামলা পরিচালনা করেন। মামলা পরিচালনাকালে তিনি জনস্বার্থ এবং সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী যুক্তি উপস্থাপন করেন। এটর্নি জেনারেল তার এ সকল কর্মকাণ্ড সত্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে পরিচালনা করলে তা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তিনি দেশের সকল আদালতে আইনের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষমতা প্রাপ্ত। তিনি যদি তার এই ক্ষমতা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারেন তাহলে রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সহজতর হয়ে যায়।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এটর্নি জেনারেলের ভূমিকা অপরিসীম।