ক.
'Social Deviance' এর বাংলা প্রতিশব্দ 'সামাজিক বিচ্যুতি'।
খ.
জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচনের মাধ্যমে অপরাধ দমনে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অপরাধের কুফল ও শাস্তি সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করে। এটি অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করে। এছাড়া সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা ও নৈতিক মূল্যবোধ প্রচারের মাধ্যমে গণমাধ্যম সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূলে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে।
গ.
উদ্দীপকের $X$ এর চিকিৎসার ক্ষেত্রে সামাজিক পরিবর্তনের প্রযুক্তিগত কারণটির প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।
আধুনিক যান্ত্রিক ও প্রযুক্তিগত বিকাশ উন্নত জীবনযাপন প্রক্রিয়া, ঐতিহ্য, বিশ্বাস, চিন্তাধারা, মূল্যবোধ, পরিবার ও অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পরিবর্তনের সূচনা করে। আধুনিক সভ্য সমাজ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তির আহার বিহার, আমোদ-প্রমোদ, পোশাক-পরিচ্ছদ, শিক্ষা, চিকিৎসা প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযুক্তিবিদ্যার প্রভাব লক্ষ করা যায়। প্রযুক্তির কল্যাণে বর্তমানে চিকিৎসা ব্যবস্থা অনেক বেশি আধুনিক ও সহজতর হয়েছে। বিশেষ করে রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা পদ্ধতি, সার্জারি ইত্যাদি কাজে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, $X$ এর অপারেশন করার পূর্বে চিকিৎসক আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। এছাড়া সার্জারির সময় চিকিৎসক বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ব্যবহারের মাধ্যমে তার অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করেন, যা পাঠ্যবইয়ে উল্লেখিত সামাজিক পরিবর্তনের যান্ত্রিকীকরণের প্রভাবকে নির্দেশ করে। তাই বলা যায় যে, $X$ এর চিকিৎসায় সামাজিক পরিবর্তনের প্রযুক্তিগত কারণ পরিলক্ষিত হয়েছে।
ঘ.
উদ্দীপকে সামাজিক পরিবর্তনের যে ধারা লক্ষ করা যায়, তা চক্রাকার তত্ত্ব অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট পর্যায় অতিক্রম করে পুনরায় পূর্বের অবস্থায় বা নতুন চক্রে আবর্তিত হয়।
চক্রাকার তত্ত্বের মূল কথা হলো সমাজ পরিবর্তন একটি সরলরেখায় চলে না, বরং এটি ঘড়ির কাঁটার মতো বা ঋতু পরিবর্তনের মতো চক্রাকারে আবর্তিত হয়। ভিলফ্রেডো প্যারেটো, আর্নল্ড টয়েনবি এবং ওসওয়াল্ড স্পেংলার এই তত্ত্বের প্রধান প্রবক্তা। তারা মনে করেন, প্রতিটি সভ্যতা বা সমাজ উত্থান, বিকাশ, পতন এবং পুনরায় নতুনভাবে জন্ম নেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে যায়।
উদ্দীপকের মি. $X$-এর চিকিৎসায় প্রযুক্তির ব্যবহার মূলত আধুনিক সভ্যতার একটি পর্যায়কে নির্দেশ করে। চক্রাকার তত্ত্ব অনুযায়ী, কোনো সমাজ যখন উন্নতির শিখরে পৌঁছায়, তখন সেখানে প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতা দেখা দেয়। কিন্তু এই উন্নতির পর আবার পতনের সম্ভাবনা থাকে অথবা সমাজ কাঠামোতে নতুন কোনো পরিবর্তনের চক্র শুরু হয়। প্যারেটোর মতে, শাসক ও অশাসক এলিটদের পরিবর্তনের মাধ্যমেও এই চক্রাকার ধারা বজায় থাকে, যা পরোক্ষভাবে প্রযুক্তি ও উন্নয়নের গতিপথ নির্ধারণ করে।
ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, রোমান বা সিন্ধু সভ্যতার মতো প্রাচীন সভ্যতাগুলো একসময় প্রযুক্তিতে অনেক উন্নত ছিল, কিন্তু চক্রাকার নিয়মে তাদের পতন ঘটেছে। বর্তমান আধুনিক চিকিৎসা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নও একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিকশিত হবে এবং পরবর্তীতে হয়তো অন্য কোনো নতুন ধারার জন্ম দেবে। এই তত্ত্বটি প্রমাণ করে যে, সামাজিক পরিবর্তন কোনো স্থায়ী বা রৈখিক বিষয় নয়, বরং এটি নিরন্তর আবর্তিত হতে থাকে। সুতরাং, মি. $X$-এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত আধুনিক প্রযুক্তি বর্তমান সময়ের একটি উন্নত পর্যায় হলেও এটি সামাজিক পরিবর্তনের বৃহত্তর চক্রাকার প্রক্রিয়ারই একটি অংশ।