ক.
কোনো সমাজের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনকে প্রগতি বলে।
খ.
সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ শিক্ষা মানুষের প্রকৃতি ও আচরণে পরিবর্তন আনে। শিক্ষা মানুষের মধ্যে সুন্দর গুণগুলোকে ফুটিয়ে তোলে। আর এ প্রক্রিয়া শিশুর জন্মের পর পরিবার থেকে শুরু হয় এবং একসময় স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের মানুষের মাঝে সামাজিক আদর্শ, ভাবধারা, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ শিক্ষা মানুষের চিন্তাচেতনার উন্মেষ ঘটায়। এতে ধ্যানধারণার শ্রীবৃদ্ধি হয়। মানুষ অন্ধ, কুসংস্কার ও যুক্তিহীন জীবনাবরণ থেকে বিরত থাকে। শিক্ষা মানুষকে আত্মসচেতন করে তোলে, মনে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়। অতএব বলা যায়, সামাজিক পরিবর্তনে শিক্ষার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
গ.
উদ্দীপকের 'A' সামাজিক পরিবর্তন নামক মৌল প্রত্যয়কে নির্দেশ করে।
সামাজিক পরিবর্তন হচ্ছে সমাজের রদবদল ঘটা বা সমাজের এক স্তর থেকে অন্য স্তরে রূপান্তরিত হওয়া। সাধারণ অর্থে সামাজিক পরিবর্তন বলতে সমাজকাঠামোর পরিবর্তনকে বোঝায়। এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাজের অন্তর্গত মানুষের জীবনপ্রণালিতে পরিবর্তন ঘটে। সামাজিক পরিবর্তন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ইচ্ছাধীন নয় এবং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন। সামাজিক পরিবর্তন অতীত সমাজকে বর্তমান সমাজের ভিত্তি দান করে। এছাড়া অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত সামাজিক পরিবর্তন ঘটে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকে। উদ্দীপকের ছক 'A'-এর বৈশিষ্ট্যে উল্লেখ রয়েছে, আদিম সমাজ থেকে বর্তমান সমাজ। অর্থাৎ ছক 'A'-এর বৈশিষ্ট্যটি উপরে আলোচিত সামাজিক পরিবর্তনের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'A' দ্বারা সামাজিক পরিবর্তনকে বোঝানো হয়েছে।
ঘ.
উদ্দীপকে 'B' বিবর্তন নামক মৌল প্রত্যয়কে নির্দেশ করে।
বিবর্তন বলতে কোনো সমাজ বা বস্তুর ক্রমান্বয়ে বিকাশের দিকে অগ্রসর হওয়াকে বোঝায়। বিবর্তন সম্পর্কে মরিস জিন্সবার্গ বলেন, বিবর্তন এমন একটি প্রক্রিয়া যা শেষ পর্যন্ত নতুন কিছু উৎপাদন করে, কিন্তু যার পরিবর্তনের মধ্যে একটা ধারাবাহিকতা আছে। উদ্দীপকের 'B' অংশ বলা হয়েছে, যাযাবর মানুষেরা স্থায়ী বসতি করে, পশুপালন করে এং শেষে কৃষিকাজ শুরু করে। অর্থাৎ এখানে সমাজটি ক্রমান্বয়ে বিকাশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা স্পষ্টত বিবর্তনকে নির্দেশ করে।
'A' অংশে নির্দেশিত সামাজিক পরিবর্তনের সাথে 'B' অংশের বিবর্তনের কতিপয় পার্থক্য রয়েছে। যেমন- সামাজিক পরিবর্তন বলতে সামাজিক পুনর্গঠন বা রূপান্তরকে বোঝায়। অর্থাৎ একটি বিশেষ রূপ থেকে অন্যরূপ ধারণ করাকেই সামাজিক পরিবর্তন বলে। অন্যদিকে, বিবর্তন হচ্ছে ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন সাধন। সামাজিক পরিবর্তন হলো সমাজকাঠামোর স্বাভাবিক রূপান্তর এবং এ রূপান্তর কখনো স্থায়ী আবার কখনো অস্থায়ী হয়ে থাকে। অন্যদিকে, বিবর্তন হলো বস্তু বা সমাজের জটিলতর স্তর এবং বিবর্তন যখন ঘটে তখন তা স্থায়িভাবেই ঘটে থাকে। আবার সামাজিক পরিবর্তন বস্তুগত ও অবস্তুগত উভয় ধরনের হতে পারে। অন্যদিকে, বিবর্তন শুধুমাত্র বস্তুগত হয়ে থাকে। এমনিভাবে সমাজের বিশেষ রূপ দেওয়াকে সামাজিক পরিবর্তন বলে। অন্যদিকে, একেবারে আমূল পরিবর্তন হলো বিবর্তন।
সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, সামাজিক পরিবর্তন ও বিবর্তনের মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।