ক.
AIDS-এর পূর্ণরূপ হলো 'Acquired Immune Deficiency Syndrome'।
খ.
বর্তমান সময়ে ‘বিশেষ চাহিদার জনগোষ্ঠী' বলতে সকল প্রকার প্রতিবন্ধী মানুষদের বোঝায়।
সাধারণভাবে বলা হয়, যার মাঝে প্রতিবন্ধকতা বিরাজমান তিনিই প্রতিবন্ধী; সে প্রতিবন্ধকতা যত সামান্যই হোক না কেন। প্রকৃতপক্ষে অসুখে, দুর্ঘটনায়, চিকিৎসা ত্রুটি বা জন্মগতভাবে যদি কোনো ব্যক্তির শারীরিক বা মানসিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মাধ্যমে কর্মক্ষমতা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে লোপ পায় অথবা তুলনামূলকভাবে কম হয় তাহলে সেই ব্যক্তিকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বলা হয়।
গ.
উদ্দীপকে উল্লেখিত মি. গালিবের কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের অন্যতম নাগরিক সমস্যা খাদ্যে ভেজালকে নির্দেশ করে।
সাধারণভাবে খাদ্যে ভেজাল বলতে খাঁটি বা আসল পণ্যের সাথে নিম্নমানের পণ্য বা রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণ ঘটিয়ে বিক্রি করাকে বোঝায়। এতে দ্রব্যের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিশুদ্ধতাও হারায়। বর্তমানে খাদ্যে ভেজাল একটি মারাত্মক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সমস্যা হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। খাদ্যে ভেজালের অন্যতম প্রধান কারণ হলো অধিকতর মুনাফা অর্জন করা। খাদ্যদ্রব্যের সাথে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জনসাধারণের সাথে প্রতারণা করে। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের শহরাঞ্চলের নাগরিকরা খাদ্যে ভেজাল নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন। কারণ, তারাই খাদ্যে ভেজালের মুখোমুখি হয় বেশি।
ব্যবসায়ী মি. গালিব প্রতিদিন তার পণ্যে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করেন। অতি মুনাফার লোভে তিনি জেনেশুনে এ নাগরিক সমস্যাটি সৃষ্টি করেছেন। এখানে খাদ্যে ভেজালের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন অসাধু উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীরা স্বল্প সময়ে ও কম খরচে বেশি লাভের আশায় ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের সাহায্যে অপরিপক্ক দ্রব্যকে পাকিয়ে বা রং পরিবর্তন করে বিক্রি করছে, যা খাদ্যে ভেজালের অন্তর্গত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে নাগরিক সমস্যা খাদ্যে ভেজালকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
ঘ.
উদ্দীপকে উল্লেখিত নাগরিক সমস্যা তথা খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে আমার সুপারিশসমূহ-
খাদ্যের মধ্যে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান মেশানোকে খাদ্যে ভেজাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। খাদ্যদ্রব্যের সাথে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী জনসাধারণের সাথে প্রতারণা করে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যায় অপরিপক্ব ফল পাকানো এবং এর রং আকর্ষণীয় করার ক্ষেত্রে বা মাছ, মাংস, সবজি, সতেজ রাখতে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, কামাল বাজার থেকে একটি ইলিশ মাছ কিনে নিয়ে আসে। মাছটি রান্না করে খাওয়ার পরে তার পরিবারের সকল সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়ে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরে ডাক্তার তাদের জানায় রাতের খাবারে অতিরিক্ত রাসায়নিক পদার্থ ছিল। এখানে খাদ্যে ভেজাল বিষয়টির প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।
খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে আমরা নানারকম পদক্ষেপ নিতে পারি। খাদ্যদ্রব্য ঠিক আছে বা ভেজালমুক্ত কি না সে ব্যাপারে সরকারি ও বেসরকারিভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা অধিক জরুরি। খাদ্যে ভেজাল প্রমাণিত হলে উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান বাংলাদেশ সরকার খাদ্যে ভেজাল রোধে “নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩' প্রণয়ন করেছে। এ আইনে অপরাধভেদে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করলে খাদ্যে ভেজাল অনেকাংশে কমে আসবে। এর পাশাপাশি নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে। ভেজাল খাদ্য কীভাবে সমাজের ক্ষতি করছে এবং এর মারাত্মক পরিণতি বিষয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে খাদ্যে ভেজালের কুফল সম্পর্কে প্রচারণা চালিয়ে একটি প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ভেজালের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়সহ সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
উপরে উল্লিখিত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ এবং যথাযথভাবে কার্যকর করা হলে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ করা যাবে বলে আমি মনে করি।